শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

সাত শতাব্দীর সাক্ষী শঙ্করপাশা মসজিদ

Published: 2016-07-19 00:00:00

ডেস্ক রিপোর্ট: কাদামাখা কাঁচা রাস্তা ধরে আধা কিলোমিটার মতো এগুতেই বিস্ময়ে বিমূঢ় হওয়ার দশা। এমন সুন্দর মসজিদ বাংলাদেশে কমই আছে। অথচ ধানক্ষেতে ঘেরা সবুজ গ্রামটিতে যে এমন ঐতিহাসিক একটা স্থাপনা আদি কাঠামো নিয়ে দিব্যি টিকে আছে, বাইরে থেকে তা কিছুতেই বুঝে ওঠা সম্ভব নয়।

এ গ্রামেরই গৃহস্থ বজলুর রহমান পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন মসজিদটির কাছে। মসজিদটির দক্ষিণ দিকে শাহ মসলিস আমিনের মাজার। মসজিদ চত্বরের চারিপাশে অবারিত সবুজ। নানা প্রজাতির পাতা বাহারসহ হরেক ফুলের মেলা।

পোড়ামাটির চিত্রফলকে ফুল-পাতার নকশা। এমন আনিন্দ সুন্দর ও ব্যাপকভাবে নকশা কাটা মসজিদ এ দেশে বিরলই বটে। নির্মাণ শৈলি দেখে ধারণা করা যায়, হোসেন শাহ এর রাজত্বকালে এ মসজিদ নির্মিত হয়েছিলো। পূর্ব দিকের মূল প্রবেশ পথের উপরে কালো পাথরের একটি শিলালিপিও আছে। তবে এখনো এর পাঠ উদ্ধার হয়নি।

দিনাজপুরের সুরা মসজিদ, পটুয়াখালীর মসজিদবাড়ি মসজিদ, গৌড়ের খনিয়া দিঘীর মসজিদ ও নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ মসজিদের সঙ্গে এ মসজিদের খানিকটা মিলও রয়েছে।    

বৃহত্তর সিলেটে এখনো টিকে থাকা সুলতানী আমলের একমাত্র মসজিদ এটি। হযরত শাহজালালের হাত ধরে ১৩০৩ সালে মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ এলাকায় মসজিদ নির্মাণের যে প্রবণতা শুরু হয় এই মসজিদ তারই অনন্য নজির।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আলীপুর বাজার থেকে পশ্চিম দিকে রাস্তা ধরে কয়েক কিলোমিটার এগুলে উচাইল গ্রামে এই মসজিদের অবস্থান। সদর উপজেলার রাজুরা ইউনিয়নের এই মসজিদটিতে যাওয়া যায় হবিগঞ্জ বাইপাস থেকেও।

আয়তাকার এ মসজিদের বাইরের দিকে দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১৩ মিটার, দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৯ মিটার। মসজিদের চার কোণায় ৪টি ও বারান্দার ২ কোণায় ২টি অষ্টভূজ আকৃতির মিনার আছে। বর্তমান কাঠামোর মূল প্রার্থনা কক্ষের উপরে ছাদজোড়া গম্বুজ। পূর্ব দিকে আছে আয়ত কক্ষের বারান্দা।

বারান্দাসহ মসজিদটি আয়তাকার হলেও মূল প্রার্থনা কক্ষ বর্গাকার। প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৬ মিটার। তবে বারান্দার দৈর্ঘ্য প্রার্থনা কক্ষের বাহুর সমান হলেও প্রস্থ মাত্র দেড় মিটারের কিছু বেশি।

মূল কক্ষের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে আছে ৩টি করে দরোজা। মাঝের দরোজাগুলো তুলনামূলক বড়। এছাড়া বারান্দার দু’পাশে দু’টি করে দরোজা আছে। ভেতরে পশ্চিম দেওয়ালে আছে ৩টি করে মিহরাব। পত্রাকারে নির্মিত মিহরাবগুরোর উপরিভাগে খাঁজ কাটা।

প্রায় বর্গাকার খিলান আকারে নির্মিত দরোজাগুলোর উপরিভাগে খাঁজ কাটা। মসজিদটিতে দফায় দফায় সংস্কারের ছাপ পড়ায় আদি আকৃতি অনেকটাই বিলুপ্ত।  [সূত্র: বাংলা নিউজ]

 

 

 

ঢাকা, ১৯ জুলাই/ আমার ক্যাম্পাস/ এম এ