সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৬ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

স্বপ্নডানায় একটি বছর

Published: 2016-07-26 00:00:00

এস এম জাকির হোসাইন: ২৮ বছরের এক স্বপ্নবাজ দেশপ্রেমিক যুবকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি সংগঠন। মানুষটি কিশোর বয়স থেকেই স্বল্পদৃষ্টির দরুণ মোটা কাঁচের চশমা পরতেন ঠিকই, কিন্তু চিন্তায় ছিলেন অভাবনীয় দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। যে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় এক সময় তিনি আন্দোলন করেছেন, সেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অল্পদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলেন বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই জুটবেনা দেশবাসীর ভাগ্যে। তাই কালবিলম্ব না করে শুরু হলো তাঁর নতুন পথের যাত্রা। সে যাত্রা স্বাধীনতার যাত্রা। সে যাত্রা সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা। আমার-আপনার অসাম্প্রদায়িক একখন্ড ভূ-খন্ডের জন্য আত্মত্যাগের মহান যাত্রা।

স্বাধীনতা অর্জনে কেবল এই সংগঠনেরই ১৭ হাজার নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদেরই  রক্তের বিনিময়ে আজ আমাদের লাল সবুজের পতাকা। আজ যখন মুক্ত বাতাসে সেই পতাকা উড়তে দেখি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় হৃদয়পূর্ণ হয়ে আসে। তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস থেকেই মাথা উঁচু করে বলতে সাহস পাই, আমি সেই বীর বাঙালির উত্তরসূরি। আমরা দেশের প্রয়োজনে অকাতরে জীবন দিতে পারি। হয়তো এ জন্যই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস”। পৃথিবীর আর কোন ছাত্র সংগঠনের এমন সৌভাগ্যের তকমা নেই। এটি ছাত্রলীগের অহংকার ।

কবি বলেছেন ‘কেউ কথা রাখেনি’, কিন্তু আমরা বলতে চাই, আমরা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কথা রেখেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা যে ব্রত নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেই ব্রত নিয়ে আজও পথ চলছি দুনির্বার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শুধুমাত্র ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগঠন নয়। ছাত্রলীগ এদেশের সকল মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম। এটা প্রমাণিত। আজকে এখানে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৩ লক্ষ সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে, জাতীয় চার নেতা এবং ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে নিহত শহীদদের। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জন্ম থেকে অদ্যাবধি সম্পৃক্ত ও ত্যাগী সকল অগ্রজ ও অনুজদেরকে। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মাহুতি দেয়া সকল বীরদের প্রতি  শ্রদ্ধা জানাই।
৩.
এরই মধ্যে দেখতে দেখতে কেটে গেছে দায়িত্ব পাওয়ার একটি বছর। ৬৮ বছরে পদার্পণকারী ছাত্রলীগের কাছে একটি বছর খুব বেশি সময় নয়। তারপরও বিগত একটি বছর থেকে শিক্ষা নিয়েছি অনেক। চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে, সবার ঐকান্তিক সহযোগিতায়সামনের দিকে এগিয়ে ব্রত নিয়ে পথ চলেছি। সারাদেশ ব্যাপী ছাত্র রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে। এসব কাজে কতটুকু সফল হয়েছি, সেটি বিবেচনার দায়িত্ব সচেতন  পাঠক ও ছাত্র সমাজের ।

দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই বাঙালির জাতীয় জীবনের কালো অধ্যায় শোকের মাস আগস্টের মধ্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয় নতুন উদ্যমে। মাসব্যাপী শোক দিবসের আলোচনা সভা ও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে নানা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় শোকাবহ আগস্ট। এছাড়াও ২১শে আগস্ট গ্রেনেট হামলা দিবস, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিন উদ্যাপন, জেলহত্যা দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, জাতীয় শহীদ দিবস, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস, ২৫শে মার্চের কালোরাত, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ উদযাপন, দেশররত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, বঙ্গবন্ধু কন্যার কারামুক্তি দিবসসহ অন্যান্য কর্মসূচীপালন করি। অন্যদিকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী, সেচ্ছ্বায় রক্তদান কর্মসূচী, খেলাধুলার মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচীও পালিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিতরণ এবং ছিন্নমূল শিশুশিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ শিক্ষার্থে আগত নবী ছাত্র-ছাত্রী বন্ধুদেরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাগত জানায়।

এদিকে সাম্প্রতি সময়ে গুলশান ও শোলাকিয়া ঈদগা ময়দানে জঙ্গী হামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নতুন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি উন্মুক্ত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। এটা সহজে অনুমেয় যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক ও জীবনঘনিষ্ঠ রাজনীতির চালু না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভুল পথে পা দিচ্ছেন। তাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক রাজনীতি সেখানে পৌঁছাতে ইতোমধ্যে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।  কাজ করে যাবে প্রত্যোকটি জেলা ইউনিটসহ উপজেলা ইউনিট এমন কি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করতে।

৪.

আজ যখন দেখি ছাত্রলীগের কর্মীরা নিজেরা রান্না করে বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ কিংবা জনদুর্ভোগ কমাতে কোমড়ে গামছা বেঁধে কোদাল হাতে মাটি কাটায় নেমেছে সত্যই গর্ব হয়। যখন দেখি অসহায় পথশিশুদের পাশে একবেলার আনন্দ হয়েও দাঁড়িয়েছে কিংবা গরীব দুঃখীদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে, সত্যিই তখন নিজেদের ধন্য মনে হয়। এইতো বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার ছেলেরা। এই তো বাংলাদেশ গড়ার কারিগড়েরা। এসব মুজিব সেনারা যদি জেগে থাকে কোন অপশক্তিই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করতে পারবে না।

গত একটি বছর ধরে নতুন করে আমাদের পথ চলা শুরু হয়েছে। এই চলার পথে পেয়েছি অনেক মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, যার মূল্য দেওয়ার সামর্থ্য সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেননি। এসব ভালোবাসাই আমাদের চলার পথের পাথেয়। নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন আমাদের শক্তি।

দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষুধা, দারিদ্র্য মুক্ত, জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে যাত্রা শুরু করেছেন সামনের দিনগুলোতে সেই যাত্রার সারথি হয়ে হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ রেখে সামনে এগিয়ে যাবো। জয় আমাদের সুনিশ্চিত।

পরিশেষে বলতে চাই, বাঙালির রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি গর্বিত। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হতে পেরে আমি ইতিহাসের কাছে চিরঋণী। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করায় মানচিত্রের কাছে আমার মায়ের নাড়িছেঁড়া রক্তের ঋণ। আর বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশে কাজ করতে পারায় আমি সময়ের কাছে কৃতজ্ঞ।   

 

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

 

 

 

 

 

ঢাকা, ২৬ জুলাই/ আমার ক্যাম্পাস/ এ এম