শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

সখের নাম ডিএসএলআর

Published: 2016-07-27 00:00:00

কেএন সানজিদাঃ বন্ধুদের সাথে সিলেটের জাফলং এ বেড়াতে যাবেন নিশীতা। পাহাড়, হ্রদ ঘুরে বেড়াবেন কিন’ তার স্মৃতি বন্দি করবেন না তা কি করে হয়! বন্ধু হৃদিতাকে বারবার মনে করিয়ে দিলেন তার ডিএসএলআর ক্যামেরাটা যাতে নিতে ভুলে না যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে এভাবেই এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিএসএলআর বা ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা। এখন প্রায়ই তরুণদের হাতে হাতে ছবি তোলার জন্য এই সৌখিন বস’র দেখা মিলে।

ছবি তোলার জন্য কোনো বিষয়বস’ ঠিক করলে তার আশেপাশের সবকিছুতেই ফোকাস হয়ে যায়। অনেক প্রস’তি নিয়ে ছবি তোলার পর যখন ছবিতে নিজের মধ্যে কোনো বিশেষত্বই দেখা না যায় তখন মনে হয় পুরো ছবিটাই বৃথা গেলো। এই মন খারাপ ভাবটা অনেকটাই দূর হয় পয়েন্ট শ্যূট এর বড় ভাই ডিএসএলআর দিয়ে ছবি তুললে। যেখানে ছবির মাঝে নিজের বা পছন্দের বিষয়বস’কে দেখা যায় স্পষ্ট ও ভালোভাবে।
একটা সময় ছিলো বাংলাদেশে কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফার ডেকে আনা হতো। একটু সৌখিনভাবে ছবি তোলার ইচ্ছে হলে যেতে হত স্টুডিওতে। সেখানে পাহাড়, সমুদ্র, হ্রদ আঁকা পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা যেত। কোনো কোনো দৃশ্যে তো বিদেশের কোনো বিখ্যাত স্থানই আঁকা থাকতো।
ক্যামেরার দাম ছিলো তখন আকাশছোঁয়া। কালেভদ্রে কেউ কেউ ক্যামেরা কিনতেন। কেউ সৌখিনতার বশে, আর কেউ কাজের প্রয়োজনে। পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফি নেয়া মানুষের সংখ্যা ছিলো তখন খুবই কম। তবে এখন ক্যামেরার দাম হাতের নাগালে আসায় অনেকের কাছেই এটি সখে পরিণত হয়েছে। ভালো ও সুন্দর জায়গার ছবি তোলা হয়েছে, কিন’ তার ফোকাস সুন্দরভাবে না আসলে কেমন হয়?
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মোশাররাত ফারহানা প্রায়ই তার সৌখিন ডিএসএলআর’টি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। অমনি বন্ধুদের মাঝে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ওতে ছবি তুলতে। ফারহানা বলেন, খুব ভালো ছবি আসে ডিএসএলআরে। বন্ধুরা তো ডিএসএলআর বলতেই পাগল। ছবি পেলেই তা ফেসবুকে আপলোড! তারপর কমেন্টের বন্যা। সাথে ফটোক্রেডিট ফারহানা। আমারও ভালোই লাগে।
‘অনেকেই পেশাদারি কাজে ডিএসএলআর ব্যবহার করেন। তবে কাজের ধরনের ওপর ল্যান্সের ব্যবহার। তবে পেশাদারি কাজের পাশাপাশি অনেকেই এন্ট্রি লেভেলের (অপেশাদারি কাজে তবে ভালো মানের) ডিএসএলআর ক্যামেরা ব্যবহার করছে। আর তা উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরাই। যাদের কাছে এখন ছবি মানেই ডিএসএলআর।’ বলছিলেন দেশব্যাপী নিকন ক্যামেরার একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর ফ্লোরা লিমিটেডের সেলস এক্সিকিউটিভ নাসরিন আকতার চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এখন যারা ক্যামেরা কিনতে আসছেন তাদের বেশিরভাগই টিনএজ ছেলেমেয়ে। তারা সখের বশে ছবি তোলার জন্য ডিএসএলআর কিনছে। শুধু বিনোদনের জন্যই।’ তবে অনেকে সৌখিনতার পর পেশাদারি কাজে ডিএসএলআর ব্যবহার করছে বলে মনে করেন তিনি। ‘আবার কিছুদিন সখের বশে ব্যবহার করলেও ফটোগ্রাফি শিখে কমার্শিয়াল কাজ করছে। কারণ একটা সখের মাঝেই যদি কোনো পেশাদারি কাজ জড়িত থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সৌখিন মানুষেরা সেই পেশার দিকে যেতে পারে।’ গত তিন বছরে আগের তুলনায় ডিএসএলআর ক্যামেরার বিক্রি অনেক বেড়েছে বলেও জানালেন তিনি।
এন্ট্রি লেভেলের ক্যামেরার মধ্যে ক্যাননের বিক্রেতাদের দোকানগুলোতে ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিটলেন্সসহ পাওয়া যায় এসব ক্যামেরা। এর মাধ্যে ডি৩১০০ মডেলের ১৮-৫৫ মি.মি. লেন্সের ক্যানন ক্যামেরা ৪৬ হাজার টাকায়, ডি৩২০০ মডেলের ১৮-৫৫ মি.মি. পাওয়া যায় ৫৭ হাজার টাকায়, ডি৫১০০ মডেলের ১৮-৫৫ মি.মি. পাওয়া যায় ৫৬ হাজার টাকায়, ডি৯০০০ মডেলের ১৮-১০৫ মি.মি. পাওয়া যায় ৮৮ হাজার টাকায়। দাম হাতের নাগালে হওয়ায় এখন পেশাদারিত্বের পাশাপাশি শুধু সৌখিনতার বশেই ছেলেমেয়েরা ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ডিএসএলআর এখন সবার কাছে সখের আরেক নাম। সূত্র: সুপভাত বাংলাদেশ

 

 

 

 

ঢাকা, ২৭ জুলাই/ আমার ক্যাম্পাস/ এ এম