শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

কলেজে অনুপস্থিত থেকেও বেতন!

Published: 2016-07-30 00:00:00

ডেস্ক রিপোর্টঃ সাতক্ষীরার আশাশুনি প্রতাপনগরে ‘সাঈদী মুক্তি মঞ্চ’ এর অন্যতম উদ্যোক্তা আশাশুনি এপিএস মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির ক্যাডার মুজিবর রহমান কলেজে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তোলার ভাতা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দীর্ঘদিন কলেজে অনুপস্থিত থেকে বেতন তোলার কাজে সহযোগীতা করছেন কলেজের সভাপতি মহিলা সংসদ সদস্য রিফাত আমিন।

সরেজমিনে আশাশুনির প্রতাপনগরের এপিএস কলেজে গিয়ে জানা যায়, আশাশুনির প্রতাপনগরে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০১৩ সালের ৭ মার্চ থেকে আশাশুনির প্রতাপনগর তালতলা এলাকায় সাঈদীর মুক্তির দাবিতে মঞ্চ তৈরি করে।

সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় উস্কানীমূলক বক্তব্য ও সরকার বিরোধী প্রচারণা চালানোর অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করা, হরতালে নাশকতা, গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর, ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরসহ বেশ কিছু অভিযোগে ২০১৩ সালের ২৭ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সংলগ্ন তৌফিক ছাত্রাবাসে আত্বগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ২০১৩ সালের ৩০মে তাকে বহিস্কার করা হয়।

পরবর্তিতে কলেজের তৎকালিন সভাপতি তার আদেশ বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করেন।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগসহ আশাশুনি থানায় ০১(০৩)১৩, ০২(০৩)১৩ ও ৫ নভেম্বর আশাশুনি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ০৩(১১)১৩ নং মামলাসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে।

এসব মামলা নিয়ে ও তিনি সুকৌশলে পলাতক থেকে কলেজের বেতন ভাতা উত্তলণ করছেন। তিনি তারিখ ছাড়া ছুটির আবেদন করে কলেজের সভাপতির নিকট থেকে স্বাক্ষর নিয়ে দিনের পর দিন অনুপস্থি থেকে কলেজের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে কলেজের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, প্রিন্সিপাল মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সাঈদীর মুক্তির দাবিতে মঞ্চ তৈরি করে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় উস্কানীমূলক বক্তব্য ও সরকার বিরোধী প্রচারণা চালানোর অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করা, হরতালে নাশকতা, গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর, ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরসহ বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে কলেজের সভাপতি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং তার নিকট থেকে টাকা নিয়ে তাকে সুবিধা নিয়ে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, যদি কোন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে আশাশুনির বিভিন্ন এলাকা আবারো অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। যেকোনো সময় বড় ধরনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এ কলেজের কম্পিউটার শিক্ষক শাহাজান হোসেন এবং পরিদর্শক আল আমিন নাশকতা মামলায় বহিস্কার হয়ে দির্ঘদিন পলাতক আছেন। নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ কলেজে কমিটি তাদের ২০১৬ সালের ১৪মেতে বহিস্কার করে।

কলেজের অ্যাকটিং প্রিন্সিপাল পরিমল কুমার দাশ জানান, তিনি কলেজে ২০১৬ সালের ৭ মে দায়িত্ব গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহণ করা থেকে এ পর্যন্ত কলেজ প্রিন্সিপাল মুজিবর রহমান কলেজে অনুপস্থিত রয়েছে। এসময়ে অ্যাকটিং প্রিন্সিপালের স্বাক্ষরে দুটি বেতন উত্তোলন করেছে শিক্ষকরা। কিন্তু সর্বশেষ কলেজ প্রিন্সিপালের দায়িত্ব গ্রহণ করা করে মুজিবর রহমান বেতন ও ডিটে স্বাক্ষর করেছেন।

তিনি আরো জানান, আমাকে দায়িত্ব দিয়ে দায়িত্ব ফিরিয়ে না নিয়ে, কলেজে না এসে প্রিন্সিপাল মুজিবর রহমান কাগজপত্র কলেজের বাইরে নিয়ে সম্পর্ণ অবৈধভাবে বেতন ও ডিটে স্বাক্ষর করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে কলেজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে।

এসব বিষয়ে আশাশুনি এপিএস মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল মুজিবর রহমান বলেন, আমি অসুস্থতার কারণে বর্তমানে ১৫ দিনের ছুটিতে আছি। বাকী দিনগুলো কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কলেজে অনুপস্থিত থাকাকালীন সাতক্ষীরা এবং ঢাকায় প্রশিক্ষণে ছিলাম।

তবে তার বিরুদ্ধে কতটি কি মামলা আছে জানতে চাইলে এসব বিষয়ে পরে আলাপ করবো বলে জানান তিনি।

 

 

 

ঢাকা, ৩০ জুলাই/ আমার ক্যাম্পাস/ এ এম