রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

মাইলসের অনুষ্ঠান বাতিল নিয়ে ফেসবুকে বিতর্ক

Published: 2016-08-05 00:00:00

ডেস্ক রিপোর্টঃ কলকাতায় মাইলসের অনুষ্ঠান বাতিলের জের ধরে এখন ফেসবুকে বিতর্ক চলছে।

ওই ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন মাইলসের সদস্য শাফিন আহমেদ এবং ফসিলসের রূপম ইসলাম। পাশাপাশি ফেসবুক জুড়ে এই ঘটনায় নানা ধরণের মন্তব্য করা হচ্ছে।

বুধবার মাইলস তাদের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও মন্তব্যে বলেন, তারাই ওই কনসার্টে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ''ফেসবুকের প্রোফাইল একান্ত আমার। বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে দেশের ক্ষতি হয়, এমন বিষয়ে নজরে এলে সেটা নিয়ে কথা বলার, লেখার অধিকার আমার আছে। ক্রিকেট ম্যাচ হলে আমি বাংলাদেশকে সমর্থন করে দুটো কথা আমি লিখতেই পারি। এটা ভারত বিদ্বেষ নয়, এটা দেশপ্রেম। কিন্তু মাইলস গান গাইতে যাবে, সেখানে এ বিষয়গুলোর প্রতিফলন হবে কেন?''

'বর্ডারে যদি প্রতিনিয়ত দেশের মানুষকে মারা হয়, অথবা জলবন্টন যদি ঠিকমতো না করা হয় আর তার ফলে যদি দেশের কোনও অংশ যদি মরুভূমির মতো হয়ে যায়, সেটা নিয়ে কথা বলার অধিকার তার রয়েছে বলে মন্তব্য মি. আহমেদের।

তিনি আরও বলেন, ''পাশের দেশ থেকে এত শিল্পী এখানে এসে অনুষ্ঠান করে যান, আমরা তো তাদের সাদর অভ্যর্থনাই করি। সে তুলনায় এতদিন পরে মাইলসের একটা অনুষ্ঠান করার সুযোগ এলো কলকাতায়, সেটাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা একটা হীন মানসিকতার পরিচয়।''

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফসিলসের তরফে রূপম ইসলাম একটি পাল্টা লম্বা ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলছেন, “মাইলস তাদের আগের করা মন্তব্যগুলোকে যে দেশপ্রেম বলতে চাইছে, তা কোনওমতেই দেশপ্রেম হতে পারে না। ওই কথা গুলোতে কোথাও তাঁদের নিজেদের দেশের জন্য ভালবাসা বেরিয়ে আসে না। আপনার দেশের ওপরে অন্য দেশের অনাচার বা অত্যাচারের জন্য যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন তুললে তা নিশ্চয়ই স্বাগত। কিন্তু ওই বক্তব্যগুলো তো তা নয়।“

রূপম আরও বলেছেন, “সব দেশেরই ভাল খারাপ থাকে। বেছে বেছে একটি দেশের খারাপ দিকগুলো ক্রমাগত যদি তুলে ধরা হতে থাকে, সেটাকে কী আপনারা দেশপ্রেম বলবেন?”

তবে এ ঘটনার পর ফেসবুকেও চলছে বিতর্ক। বাংলাদেশ ও ভারতের ফেসবুক ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা মাইলস এবং ফসিলসের পক্ষে বিপক্ষে নানা মন্তব্য করছেন।

রাকিবুল হাসান লিখেছেন, ''ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক আর কোলকাতার সাথে আত্মিক। ব্যান্ড, ক্রিকেট ইত্যাদি বিনোদন জগতের দোহাই দিয়ে উগ্র স্বাদেশিকতা অথবা কোন দেশ বিরোধিতা দুই দেশের জন্যই সমান বিপজ্জনক।''

শঙ্কর বিশ্বাস লিখেছেন, “মাইলস শৈল্পিক চেতনার যে অবনমন ঘটিয়েছে, তার যথার্থ সমালোচনা এবং সংশোধন নিজেরাই করুক। ভারতের ভাল মন্দ দেখাশোনা করার দায়িত্ব যোগ্য হাতেই আছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তাই শিল্পের মধ্যে হঠাৎ অযথা দেশপ্রেমের মতো ভারী প্রসঙ্গ না তোলাই ভাল।“

রেদওয়ান হাসান লিখেছেন, ''একটা কনসার্ট না করলে আমাদের দেশের রকস্টারদের কিছু যায় আসে না। আমরা তো আজকাল কলকাতার গানই শুনি না, বয়কট করা শুরু করেছি।''

অর্ঘ্যস্বরূপ বিষয়ী: “প্রচণ্ড একটা টান আছে ওই দেশটার ওপর – শুধুমাত্র বাংলা ভাষার জন্য। আর ওখানকার মানুষরাই সেই টান নষ্ট করে দিচ্ছে! এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।“

রাজিবুল হক খান লিখেছেন, ''এখন থেকে রূপমের উপর থেকে শ্রদ্ধা এবং ভক্তি, দুটোই তুলে নিলাম। মাইলস নয়, সে পরোক্ষভাবে আমার দেশকে অপমান করেছে।''

প্রশান্ত কুমার সূর লিখেছেন: “ মাইলস ভক্তরা কৌশলে ব্যাপারটাকে বাংলাদেশ বনাম ভারত করতে চাইছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের সমস্ত ব্যান্ডকে সাদর আমন্ত্রন জানাই শুধু যারা ভারত-বিদ্বেষী – তাদের ছাড়া। আমরা বাংলাদেশ বা সেখানকার ব্যান্ডগুলোর বিরোধী নই। আমরা মাইলস বিরোধী।“

তবে কামরুজ্জামান তুষার লিখেছেন, ''এটা সত্যিকারের দেশপ্রেম, মাইলস ব্যান্ডকে স্যালুট।''

সূর্যেন্দু সুন্দর বলছেন, “ একদম ঠিক কাজ করেছে ফসিলস। আগে দেশ! নিজের দেশের অপমান আমাদের প্রত্যেকের অপমান।“

মানাসভি প্রসাদ চাকমা লিখেছেন, ''বড় মানুষরা মনের দিক থেকেও বড় হয় এইটা জানতাম। রুপম ইসলামের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারলাম না। মাইলসের সদস্যরা অন্যায় কিছু করেনি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে মাত্র। যাহোক, একারণে সেদেশে কনসার্ট করতে না দিয়ে অত্যন্ত হীন মন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে তারা।''

সাইফুল এ পলাশ লিখেছেন, ''তার মানে তারা যাই করুক, তা নিয়ে সুস্থ সমালোচনাও করা যাবে না? এটা ঠিক হয় কি করে?''

সূত্রঃ বিবিসি।

 

 

 

ঢাকা, ০৫ আগস্ট/ আমার ক্যাম্পাস/ এ এম