শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

৩৫তম বিসিএসঃ অকৃতকার্যদের জন্য

Published: 2016-08-18 00:00:00

মাহবুবুল হক সাকিলঃ ৩৫ তম বিসিএসে যারা সুযোগ পেয়েছো তাদের অভিনন্দন। আশা রাখি, প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসাবে "সিভিল সার্ভেন্ট" শব্দটির আক্ষরিক অর্থ মনে রেখে তারা কাজ করবে সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে।

যারা সুযোগ পাওনি তাদের জন্যই মূলত আমার এই লেখা।

তামাদি হয়ে গেছো অকৃতকার্য হয়ে? বাবা-মা, পরিবারের সবার কাছে নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে? বড়োই অপাংক্তেয় লাগছে বন্ধুদের আড্ডায়? প্রাণের চেয়ে প্রিয় সেই মেয়েটি ফোন ধরেনি?

না। তুমি শেষ হয়ে যাওনি। এখনো ফুরিয়ে যাওনি। তোমার চোখে আছে স্বপ্ন, রক্তে নাচে আকাঙ্খা। শেষ হয়োনা। এখনতো কেবলি শুরু।

আমার নিজের গল্পই বলি বরং। অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত বলা চলে, ক্লাশের প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বালক ছিলাম আমি। প্রথম হলে ভয় লাগতো। কে জানে, কখন দ্বিতীয় আমার সিংহাসন নিয়ে যায়। দ্বিতীয় হলে ভীষণ রকমের জেদ কাজ করতো ছোট্ট মনে। এবার হতেই হবে প্রথম। তৃতীয় হলে বেশ আরাম। ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস ফেলার কেউ নেই।

তারপর হাতেখড়ি রাজনীতিতে। মাষ্টার্স পাশ করার পর বন্ধুদের চাপে বিসিএসের ফরম ফিলাপ করলাম। কিন্তু কোন পড়াশোনা নেই। প্রিলিমিনারীর আগের রাতে বন্ধু আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন(বর্তমানে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য) আমার হাতে প্রবেশপত্র ধরিয়ে দিয়ে বললো, 'কাল তোর পরীক্ষা। সেন্টার পড়েছে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে। অবশ্যই পরীক্ষা দিবি'। আমি রাজী হলাম।

সকালে মন গায় গান ভিন্নসুরে। আমি আর পরীক্ষার হলে গেলাম না। চলে এলাম মধুর কেন্টিনে। স্বপনের সে কি রাগ আমার ওপর!

আমার বন্ধু স্বপন এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমাদের আরেক অগ্রজ বন্ধু ইকবালুর রহিম জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ, আমাদেরই অনুজ জুনায়েদ আহমেদ পলক বা শাহরিয়ার আলম এখন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। বাবার মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ছাত্র নসরুল হামিদ বিপুকে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরতে হয়েছিল। এখন তিনি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। তারা কেউ বিসিএস দিয়েছে বলে আমি অন্তত জানিনা।

আমাদের অনেক বন্ধুরা যারা ক্লাশের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন তারা এখন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের জোগানদার, সফল শিল্পপতি।

আমার সাথের বন্ধুরা যারা বিসিএস দিয়েছিলেন তারা এখন সরকারের উচ্চপদে, যাদের নিয়ে সত্যিই গর্ব করি। আমি এখনো পা বাড়াই অনিশ্চয়তার পথে, জীবন সাজাই ইচ্ছের খাতায়।

নির্মলেন্দু গুণ কি বিসিএস দিয়েছিলেন? অথবা রসায়নের মেধাবী ছাত্র হুমায়ূন আহমেদ?

একবার আয়নায় দেখো তোমার সাহসী মুখচ্ছবি। পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দিতে পারে শুধু অকৃতকার্যরাই।

আমিওতো লাষ্টবেঞ্চ, তোমাদেরি দলে।

লেখকঃ প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
(ফেসবুক থেকে সংগ্রহ)

 

 

 

 

ঢাকা, ১৮ আগস্ট/ আমার ক্যাম্পাস/ এ এম