শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

পরশু না, কাল না, আজই শুরু করুন

Published: 2016-08-21 00:00:00

ইজাজ মাহমুদ ফুয়াদ

ইউনিভার্সিটি জীবনে যারা ভালো কিছু করতে চায় তাদের শুরুতেই মাথায় একটি চিন্তা কাজ করে। এবং এই চিন্তা দুটি সমস্যার জন্ম দেয়।

১। আমার আশে পাশে তো কিছুই করার নেই! কি করতে পারি?

২। আমি যে এই কাজটি শুরু করবো আমার তো এতো সামর্থ্য নেই! টাকা নেই, বন্ধু নেই, ভালো ইংরেজী ভাষার দক্ষতা নেই!

এখন কি হবে? আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না! শুরুতে একটা ঘটনা বলি। আজ থেকে ২ বছর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বালক-বালিকা মিলে শিল্পকলা একাডেমিতে চা খাওয়ার ছলে একটা সংগঠনের জন্ম দেয়। চবির রাজনৈতিক সমস্যা, শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকা, প্রাসাশনিক জটিলতা ইত্যাদি ইত্যাদি মাথায় নিয়ে তারা ভাবতেও পারেনি ২ বছরের মধ্যে তারা ২টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করে ফেলবে, তাও চবির ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের আয়োজিত সবচেয়ে বড় মাত্রার সম্মেলন। শুধু দেশ থেকে না বরং দেশের বাইরে থেকে আগত শিক্ষার্থীও এখানে অংশ নেয়।

এই সংগঠনের কারনে যেই ছেলেটা দুই বছর আগে নিজের ইমেইল এড্রেসটা পর্যন্ত ভুলে যেত সে কিনা বিদেশের বুকে বাংলাদেশ এবং চবির পতাকা উড়িয়ে এসেছে! যখন দেশে আয়োজিত অন্যান্য সম্মেলনের আসরে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানুষের সামনে এওয়ার্ড গ্রহনের সময় সবাই চিৎকার করে চবির নাম উচ্চারন করতে থাকে তখন তাদের চোখগুলো টলটল করে ওঠে! এসবের কিছুই আসলে সম্ভব হতোনা যদিনা কয়েকজন ছেলেমেয়ে মিলে সেই সন্ধ্যায় শিল্পকলায় চায়ের আড্ডা না বসাতো! উপরের কথাগুলো কোন খবরের কাগজের কলাম নয়, কোন বড় ভাইয়ের স্ট্যাটাস নয়।

এটা আমার জীবনের গল্প, আমাদের জীবনের গল্প। আমি এই গল্পের সাক্ষী। আমি জানিনা কতটুকু বড় আমাদের কাজ, তবে নিঃসন্দেহে ভালো কিছু। আপনি যখন ভাবছেন কিছু একটা করবেন তখন প্রথমেই আপনাকে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে সেটা হলো, আপনি বড় কিছু করবেন না, বরং ভালো কিছু করবেন। যদি ভালো কিছু শুরু করতে পারেন তবে তা নিজে নিজেই বড় কিছুতে পরিনত হবে। আপনি মুভি ফ্রিক? তাহলে কয়েকজন বন্ধু মিলে মুভি দেখতে দেখতে একটা মুভি ক্লাব খুলে ফেলুন! সপ্তাহে একটা করে ইংলিশ কিন্তু সহযবোধ্য মুভি দেখবেন। এরপর তা নিয়ে বৈঠক করবেন। সাথে এলাকার ইংরেজীভিরু কিছু মানুষকে যোগ করুন। লাভ কি? সেটা নাহয় ২ মাস পরেই দেখুন।

আপনি এলাকার মানুষের সেবা করতে চান? ২০ জন বন্ধু মিলে মাস্ক পড়ে ঝাড়ু আর বেলচা হাতে রাস্তায় নেমে যান! সাফ করে ফেলুন আপনার এলাকা। সাড়া কেমন পাবেন দেখুন। শুধু একটু সাহসের প্রয়োজন! আপনি ইমেইল ব্যবহার করতে জানেন? ফেসবুক চালাতে জানেন? তাহলে যেই বন্ধুরা অজপাড়া গাঁ থেকে এসেছে তাদেরকে একদিন সময় নিয়ে বসে এসব শেখান। হয়তো সে ইমেইলের মাধ্যমে একদিন বাইরের বড় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পলারশিপের খবরো পেয়ে যেতে পারে যেই সফলতার পেছনের আপনার হাত থাকবে! ইউ নেভার নো দ্যা ফিউচার, অল ইউ হ্যাভ টু ডু ইজ ক্লিকিং দ্যা বাটন! অনেকেই আমাকে বলেন যে সে ইংরেজীতে কথা বলতে পারেন না, মানুষের সাথে সহজে মিশতে পারেন না, ভালো রেজাল্ট নেই, ক্রিয়েটিভিটি কম ইত্যাদি ইত্যাদি! এ ক্ষেত্রে সবার একটা কথা মাথায় রাখা উচিৎ সেটা হলো প্রথমেই ‘মেনে নেয়া’।

আপনাকে আপনার সীমাবদ্ধতাগুলো মেনে নিতে হবে। আপনি হয়তো কোন মফস্যলের স্কুল কলেজে পড়ালেখা করে এসেছেন যেখানে ইংরেজী শিক্ষকের দক্ষতা গ্রামারের রুলসগুলো মুখস্ত বলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আপনি আপনার ইউনিভার্সিটির যেই ক্লাসমেটটি ‘এ লেভেলস’ শেষ করে এসেছে তার সাথে নিজের ইংরেজীর দক্ষতা মিলিয়ে পারবেন না! এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। তাই বলে তাকে যখন রাস্তায় বড় স্মার্ট ভল্যুন্টিয়ার অর্গানাইজেশনের জার্সি পড়া দেখবেন তখন পরাজয় মেনে নিবেন? অবশ্যই না! আপনাকে একটা কাজই করতে হবে। সেটা হলো ‘শুরু’। আজকেই শুরু করুন! তার জায়গায় নিজেকে ভেবে নয় বরং নিজের জায়গা থেকে শুরু করুন।

একদিন দেখবেন আপনি এবং সে সমান্তরালে! সবাই সব কিছু পারে না। এয়ার কন্ডিশনারের বাতাসে যে বড় হয়েছে সে কখনো কুঁড়ের কষ্ট বুঝবে না, সেটা সমাধান কিভাবে করবে? সে জাদু কিন্তু যে কুঁড়েতে জন্মেছে সেই চাঁদকপালওয়ালার হাতে আছে! শুধু একটা কাজই করতে হবে, সেটা হলো ‘শুরু’! আমি ঢাকায় কিছু ছেলেমেয়ের কথা জানি। ছেলেমেয়েগুলো স্কুল-কলেজে পড়ুয়া। কেও এইটে, কেও সিক্সে আবার লিডার গোছের যারা তারা ইন্টার ফার্স্ট বা সেকেন্ড ইয়ারে।

এক রোজায় তারা তাদের বাবা-মা এবং অন্য এলাকাবাসী থেকে অল্প অল্প করে কিছু জাকাতের অংশ তুলে এক গরীব লোককে একটা রিক্সা কিনে দিয়েছে! তাদের কোন সংগঠন নেই। কিন্তু শিশু কিশোরদের একটা ফ্রেন্ড সার্কেল মিলে এমন একটি কাজ সম্ভব করে ফেলেছে যা অনেক এনজি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বাজেট নিজেদের ভোগ বিলাশে মেইন্টেইন করেতে গিয়ে পারেনি! এখন নিজেই ভেবে দেখুন আপনাকে দিয়ে কিছু হবে কি হবে না? ভালো কিছু করার জন্য উন্মাদনা প্রয়োজন, প্রয়োজন ইচ্ছার। যদি আপনি কিছু করার আগেই হেরে যান তাহলে বুঝতে হবে আপনার কোন ইচ্ছাই ছিলো না। আর যদি সত্যিই কিছু করতে চান তবে আজই একটা কাজ করতে হবে। পরশু না, কালও না। আজই! এবং সেটা হলো ‘শুরু’!

 

লেখক: ইজাজ মাহমুদ ফুয়াদ
শিক্ষার্থীঃ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়