শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

খেলাপি ঋণ বাড়ল ৪০০০ কোটি টাকা

Published: 2016-08-24 00:00:00

ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজনৈতিক সুবিধায় ঋণ পুনর্গঠন ও বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃ তফসিলের পরও খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। প্রতি মাসেই বাড়ছে খেলাপি ঋণ।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। এ সময় পর্যন্ত ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৬ লাখ ৩০ হাজার ১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দেশে খেলাপি ঋণের হার ১০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে জুন সময়েই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। সরকারি, বিদেশি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়লেও কমেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে। অবলোপনকৃত ৪১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকার ঋণকে হিসাবে নিলে জুন শেষে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। দেশের ৫৬টি ব্যাংকে জুনভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।

মন্দ, মানে শ্রেণীকৃত পুরোনো খেলাপি ঋণ ব্যাংকের স্থিতিপত্র (ব্যালান্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ‘ঋণ অবলোপন’ বলা হয়। আর ঋণ দেওয়ার পর আদায় না হলে ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য অদক্ষতা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ। তিনি বলেন, এই সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো ছিল, ব্যবসাও ভালো হয়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ নেই। তবে গত কয়েক বছরে ব্যাংকাররা দুর্নীতির মাধ্যমে মাঝারি ও বড় ঋণ বিতরণ করেছেন। আবার কিছু ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্প প্রস্তাব নিয়মমাফিক পরীক্ষা করা হয়নি। অদক্ষতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেওয়া এসব ঋণই এখন খেলাপি হয়ে পড়ছে। ব্যাংকগুলো পুনঃ তফসিল করে ঋণ নিয়মিত রাখার চেষ্টা করেও পারছে না। বলা যায়, দেশের ব্যাংক-ব্যবস্থা খুব খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে।

ইব্রাহীম খালেদ আরও বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেশি। এর জন্য দায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা বেছে বেছে দুর্নীতিপরায়ণ এমডি-চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছিল। অগ্রণী ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এতেই প্রমাণিত হয় যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কেউ সুবিধাভোগী আছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, ‘এ সময়ে ঋণ বেড়েছে, আবার খেলাপির পরিমাণও বেড়েছে। নীতিমালা করা আছে, ব্যাংকগুলো তা মেনে চলবে এটা আমরা আশা করি। খেলাপি ঋণ বাড়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত দায়ী নয়, ব্যাংকগুলো নিজেরাই দায়ী।’

জানা গেছে, সরকারি খাতের সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ২৭ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েও সরকারি ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষকেরাও যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছেন না। ফলে সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেশি বাড়ছে।

এরই মধ্যে আবার সরকারি ব্যাংকগুলোকে বাজেট বরাদ্দ থেকে মূলধন দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো একদিকে আমানতকারীদের অর্থ নষ্ট করেছে, অন্যদিকে সেই জনগণের করের টাকাই আবার দেওয়া হচ্ছে মূলধন হিসেবে। তারপরও ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে না।

জানা গেছে, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৮২২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। একই সময়ে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, গত ডিসেম্বরের আগে যেসব ঋণ বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়মিত করা হয়েছিল, এসব ঋণই আবার খেলাপি হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার আলোকেই ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করার সুযোগ পেয়েছে। নীতিমালার আওতায় পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে থাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রেখে এবং মামলা দায়ের করে তা অবলোপন করতে হয়। অবলোপনের পর ঋণ আদায়ে জোরদার ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঋণ আদায়ে তৎপরতা দেখা যায় না। এ ছাড়া অনিয়মের ঋণগুলো অবলোপন করে দোষী ব্যক্তিদের আড়ালও করা হয়।

 

 

 

ঢাকা / আমার ক্যাম্পাস / এ এম