শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

চালের দাম বস্তায় বেড়েছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত

Published: 2016-08-25 00:00:00

ডেস্ক রিপোর্টঃ মিল পর্যায়ে দাম বাড়ায় পাইকারী বিক্রেতারা প্রতিটি ৫০ কেজির বস্তায় চালের দাম বাড়িয়েছে ১শ থেকে সর্বোচ্চ ৪শ টাকা পর্যন্ত। যার প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে। খুচরায় কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত।

গত এক মাসের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বস্তায় বেড়েছে প্রায় ৩শ থেকে ৪শ টাকা। সরু চাল প্রতি বস্তায় বেড়েছে ১শ থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত। সরু চালের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পরিবহন খরচ বেড়েছে। মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি ক্রয় পদ্ধতি ও অতিরিক্ত পরিবহন খরচই দাম বাড়ার প্রধান কারণ। মোটা চালের বাজার অসি’র। তবে সরু চালের দাম বাড়েনি বলছেন মিল মালিকরা। কিন’ বাজারে সরু চালও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অক্টোবরের দিকে চালের দাম কমে যাবে বলেও জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রয়েছে পরিবহন খরচেও। তারা বলছেন কোরবানির গরু সরবরাহে পরিবহণ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পরিবহন মালিকরা ইচ্ছে করে খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। যা চালের দামে প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া কারসাজি করে মিল মালিকরা দাম বেশি নিচ্ছেন। মোটা চালের সাথে তারা সরু চালের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ‘সরকার আগে সরসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করত না। এবার ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেছে। পাশাপাশি আতপ এবং সিদ্ধ চাল ক্রয় করার জন্য দেশের বিভিন্ন মিল মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। সরকার প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৩২ টাকা এবং আতপ ৩১ টাকায় ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধান কিনেছে ২২ টাকা কেজি। যে সকল মিল মালিকরা সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের চাল বুঝিয়ে দিতে হবে। ফলে চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকরা সরকারি গুদামে চাল উঠাতে একযোগে মাঠে নেমেছেন। এতেই মোটা চালের দাম বেড়ে গেছে।

আবার মিল মালিকদের অনেকে বলছেন ‘মৌসুমের শেষ দিকে এসে ধান সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের কারণে মোটা চালের দাম বেড়েছে। চলতি মৌসুমে ধান সংগ্রহ অভিযান শেষ হওয়ার পর গত ২৫ জুলাই সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।’
জানা গেছে, দুই থেকে তিন মাস আগে মোটা আতপ ও সিদ্ধ চালের দাম ছিল মানভেদে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০ টাকা। চলতি মাসের শুরুতে দাম বেড়ে দাড়ায় ১ হাজার সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকায়। বর্তমান মূল্য প্রতিবস্তা ১ হাজার সাড়ে ৪শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত।

অন্য চালগুলোর মধ্যে বাসমতি জিরা সিদ্ধ চাল প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০ টাকা দরে। আগে ছিল ১ হাজার ৮শ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। মিনিকেট প্রতিবস্তা ১ হাজার ৭৪০ থেকে ১ হাজার ৮২০ টাকা দরে। আগে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৭শ টাকা। নাজিরশাইল ২ হাজার ২শ থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা। আগে ছিল ২ হাজার থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত।

দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রাম খাতুনগঞঞ্জের চাক্তাই দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সের্মাস বদিউর রহমান অ্যন্ড সন্স এর বিক্রেতা এম সরোয়ার চৌধুরী বলেন, ‘চালের দাম বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হল সরকারের ক্রয় পদ্ধতি। সরকার বেশি দামে চাল কিনছে। যে সকল মিল মালিকরা সরকারের গুদামে চাল দিচ্ছেন, তারা বাজার থেকে চাল কিনছেন। ফলে বাজারে মোটা চালের দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে সরু চালের উপর।’
রাইচ মিল মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম এর সভাপতি শান’দাশ গুপ্ত বলেন, ‘শুধুমাত্র মোটা চালের বাজার অসি’র। কয়েক মাসের ব্যবধানে এ চালের বস্তায় বেড়েছে ৩শ থেকে ৪শ টাকা। তবে সরু চালের দাম বাড়েনি।’

মোটা চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকরা সরকারি চাল সংগ্রহে একযোগে মাঠে নামা। ফলে মোটা চালের চাহিদা দ্বিগুন থেকে দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকরা এই চাল সংগ্রহ করবেন। এছাড়া অক্টোবরের দিকে সরকার ৫০ লাখ মানুষের মঝে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করবেন। তখন চালের দাম এমনিতেই কমে যাবে।’
সুরু চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে সুরু চালের দাম বাড়ার কথা নয়।’

অন্যদিকে সরু চালের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাক্তাই বাজারে একাধিক পাইকারী ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মের্সাস মনসা স্টোর এর বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘কোরবানির আগে প্রত্যেক বছর চালের পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির গরু সরবরাহের জন্য পরিবহন চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে পরিবহন মালিকরা পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।’

 

 

 

ঢাকা/আমার ক্যাম্পাস/ এ এম