শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

বিসিএস ক্যাডার শামীমের মায়ের আনন্দ আজ অশ্রু হয়ে ঝরে

Published: 2016-08-26 00:00:00

ডেস্ক রিপোর্টঃ দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। লেখাপড়ার খরচ নিয়ে হরহামেশাই টেনশন তার। এরই মাঝে মা প্রতিমাসে যে টাকা পাঠাতেন তা দিয়ে মাসিক খরচ চলতো না।

তাই সকাল আর দুপুরের খাবার এসঙ্গেই খেতে হত তার। এর মাধ্যমে বেঁচে যেত দুপুরের খাবারের টাকা। এভাবে একবেলা খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। অভুক্ত সেই ছেলেটিই এখন বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন।

বলছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের মেধাবী ছাত্র কাজী শামীমের কথা। ৩৫তম বিসিএসে ক্যাডার হয়েছেন তিনি। ঘুরে গেছে তার জীবন। এখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই তার।

 

মা শাহজাহান বেগম জানান, কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলিতে তারা বসবাস করেন। স্বামী মোহাম্মদ বাবুল শাহজাহান আলী কাজ করতেন সাগরে মাছধরা নৌকার শ্রমিক হিসেবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের একটি বেকারিতে কর্মরত তিনি। এক কন্যা ও দুই সন্তানের সংসার তাদের। এর মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

এক হাজার ২০০ টাকা বেতনে আয়ার চাকরি নিয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন তিনি। অদম্য সাহস ছিল তার। চাকরি করেই সন্তানদের লেখাপড়া শেখাবেন। প্রতিদিনের চেষ্টা ছিল যেকোনো উপায়ে বেতনের টাকা সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের জন্য রেখে দেয়া ।

এমনকি হাসপাতালের রোগীদের দেয়া ভাত খেয়েও দিন কাটিয়েছেন তিনি। খেয়ে-না খেয়ে শুধু সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় মানুষ করার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি।

তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে ছেলে কাজী শামীম বলেন, ‘মাগো, আমি বিসিএস পাস করেছি।’ তার দুই চোখ তখন ছলছল করে ওঠে। তবে এ কান্না আনন্দ অশ্রু হয়ে ঝরেছে। এ যেন পরম সুখের ঠিকানা পেয়েছেন তিনি। এভাবেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা। জানালেন তার আরেক ছেলে শাহ আলমগীর কক্সবাজার সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

শাহজাহান বেগম বলেন, ‘আমার কুঁড়েঘরে বিদ্যুতের আলো ছিল না। কুপি বাতির আলোতে পড়তে হয়েছে তাদের।

সন্তানকে আমি বাসি ভাত-তরকারি খাইয়ে লালন পালন করেছি। দিতে পারিনি তার চাহিদার কাপড়চোপড়ও। আমার সেই সন্তানই আজ বিসিএস পাস করেছে।

কাজী শামীম জানলেন, তার জন্ম ১৯৯১ সালের ৭ ডিসেম্বর। তিনি কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাস করেছেন।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ পাস করেন। এরপর ৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ৮২তম স্থান অধিকার করেছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমার সফলতার পেছনে কাজ করেছে নিয়মিত অধ্যবসায় ও একনিষ্ঠ পরিশ্রম। স্বপ্নকে সামনে রেখে আমি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করেছি।

 

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস / এ এম