শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

পর্যাপ্ত ফলন, তবুও সবজির দাম বেশি

চট্টগ্রাম ব্যুারো | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2016-10-28 00:00:00

লাগামহীন হয়ে পড়েছে সবজির বাজার। সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ৫০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই, আর কেজিতে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে সবজির ফলন বেশ ভালো। গত বছরের চেয়ে এবার আরও ১০ শতাংশ ফলন বেশি আশা করছেন তারা। বাজারে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম বেশি নিচ্ছে বিক্রেতারা। বাজার মনিটরিং এর অভাবেই এমনটি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

চট্টগ্রাম নগরীর কাঁচা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের প্রকার সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা পর্যন্ত। বাজার ভেদে আবার ১৫০ টাকাও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বেগুন, টমেটো, করলা, কাঁকরোল, বরবটি এবং বাঁধাকপি। ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি, কাঁচা মরিচ, এবং শিম। এই সবজিগুলো আবার নগরীর অভিজাত এলাকা কাজির দেউড়ি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। ৪৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, পটল, শশা, মূলা, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া এবং ঢেঁড়স।

দুই নম্বর গেইট ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে এক ক্রেতা মো. সাইফুল জানান, ‘বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবারহ লক্ষ করা যাচ্ছে। তার পরেও দাম লাগামহীন। বাজার মনিটরিং এর অভাবেই এমনটা হচ্ছে। গত রমজানে নিয়োমিত বাজার মনিটরিং এর ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে ছিল।’

একই বাজারের সবজি বিক্রেতা রাশেদ বলেন, ‘সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে খুচরা বিক্রেতাদের কোন হাত নেই। এটা পাইকারী ব্যবসায়ীরাই ভালো বলতে পারবে। পাইকারী বাজার থেকে বেশি দামে কিনে আমাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়।’

রেয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম সাইফুদ্দিন বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর মাসের অতিবৃষ্টির প্রভাব এখনো বাজারে বিরাজ করছে। ঐ বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শীতকালীন আগাম মৌসুমের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে নগরবাসীর সবজির চাহিদা মেটাতে দেশের উত্তারাঞ্চল মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী এবং বগুড়া থেকে সবজি আনা হচ্ছে। তাই দাম কিছুটা বেশি। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের মৌসুমী সবজি তখন বাজারে আসবে।’

অন্যদিকে ভিন্ন কথা শুনালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলে সবজির ফলন পর্যাপ্ত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর সবজির উৎপাদন হয়েছে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত। এবারও পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, রাউজান, পটিয়া এবং হাটহাজারী এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সবজির ফলন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে গত বছরের চেয়ে সবজির ফলন এবার আরো ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’

ক্রেতাদের বাজার মনিটরিং নিয়ে অভিযোগের কথা জানালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফোরকান এলাহী অনুপম বলেন, ‘বাজার মনিটরিং নিয়োমিত চলছে। প্রতিদিনই দুই থেকে তিনটি টিম বাজার মনিটরিং করছে। আমরা এবার ভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছি। অল্পদিনের মধ্যেই তার সুফল পাওয়া যাবে। ক্রেতাদের বড় ধরণের শাস্তির পরিবর্তে তাদের সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রমজানের মত সারা বছরই বাজারে মূল্য তালিকা টানানো নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কিছু কিছু মার্কেটে এটি চালুও হয়েছে। আস্তে আস্তে আবার সকল মার্কেটে বিক্রেতাদের মূল্য তালিকা টানানোতে বাধ্য করা হবে। যারা অবাধ্য হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবজির দাম নিয়েও আমরা পাইকারী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলবো কিভাবে অল্প দিনের মধ্যেই সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সবজির দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

 

 

ঢাকা/ চট্টগ্রাম ব্যুারো/ এম এ