সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৬ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের টিউশনি কথন, তাজ্জব বনে গেলাম!

Published: 2016-11-12 00:00:00

স্টুডেন্টের বাবা পান চাবাইতে চাবাইতে সোফায় আসিয়া বসিলেন... একটু পর পর পানের পিক ফেলে আর চশমার ফাঁক দিয়া আমার আমার পানে চায়... অতঃপর কহিলেন,

- তোমাকে ২ টা সাবজেক্ট পড়াতে হবে, একাউন্টিং আর ফিন্যান্স...
.
: জ্বি...
.
- তবে মাঝে মাঝে ইংরেজিটা একটু দেখায় দিবা, আর গণিত স্কুলে যেগুলা করায় দেয় ঐ গুলা তুমি একবার করায় দিবা...
.
আমি তাজ্জব বনে গিয়া উনার কথা শুনিতেছি...
.
অতঃপর উনি আবারো পানের পিক ফেলিয়া শুরু করিলেন,
- তোমার পড়াতে হবে ২ টা সাবজেক্টই, একাউন্টিং আর ফিন্যান্স...আর প্রতিদিন বিজ্ঞান ও বাংলা পড়া দিয়ে দিবা আর এর পরের দিন পড়া ধরবা...
.
আমি ধৈর্য্যের সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়া উনার কথা দাঁতে দাঁত চাপিয়া শুনিতেছিলাম...
.
এই বার উনি আমায় জিগ্যেস করলেন,
তো পড়াবা কয়দিন???
আমি বললাম, জ্বি ২ দিন...
বাকি কথা শেষ করিবার পূর্বেই উনি কহিলেন,
যাও তোমার কথায় মেনে নিলাম সপ্তাহে ২ দিন বাদে বাকি ৫ দিন পড়াবা...
.
আমি মাননীয় স্পীকার হইয়া ওনার পানে চাহিয়া রহিলাম...
.
অতঃপর উনি আরেকটা পান মুখে দিয়া কহিলেন,
- তো টাকা কত নিবা???
.
আমি অনেকটা কৌতূহল নিয়া কহিলাম,
আপনিই বলেন...
উনি কহিলেন,
আগের যে টিচার ছিল সে সপ্তাহে ৭ দিনই পড়াত আর সব সাবজেক্টই পড়াতে দেড় হাজার টাকায়...
.
আমি শায়েস্তা খানের আমলে ফিরিয়া গিয়া উনার দিকে হা করিয়া চাহিয়া ছিলাম...
.
উনি তারপর কহিলেন,
কিন্তু তুমিতো ৫ দিন পড়াব তার উপর মাত্র ২ টা সাবজেক্ট...
আমার হা এর দৈর্ঘ্য বাড়িয়া গেল ওনার কথা শুনিয়া...
.
আর চুপ থাকিতে পারিলাম না...
অনেকটা মেজাজ গরম করিয়া
কহিলাম, তাহলে আমাকে ৫০০ দিয়েন...
উনি আমাকে আরো শক দিয়া কহিলেন, আরে আমিওতো তাই ভাবছিলাম...
.
তারপর কহিলাম,
আমি তাহলে যাই...
উনি কহিলেন,
তো কবে থেকে পড়াতে আসবা...
.
একগালে হাসিয়া কহিলাম,
যেইদিন শায়েস্তা খান আবার দেশ শাসন করবে সেই দিন...
.
অতঃপর আমি চলিয়া আসিলাম আর উনি হা করিয়া আমার পানে চাহিয়া রইলো ...


(কালেক্টেড)