শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

টেক ফেস্ট সেরা

Published: 2016-11-23 00:00:00

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজনের দল ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘টেক ফেস্ট ২০১৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাঁরা রোবট বানান। লিখেছেন আবদুল্লাহ আল মনসুর। ছবি তুলেছেন ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ

রোবটের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার শুরু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর। আড্ডায়, ক্লাসরুমে গল্প শুনতেন, সিনিয়র ভাইয়ারা ড্রোন, ইভিএম, সাবমেরিন, মানুষের মতো দেখতে রোবট বানিয়েছেন। এসব গল্প শুনে শুনে চারজনেরই রোবটের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলো। তবে দল গড়ে তোলার ভাবনাটি প্রথমে এসেছিল অনিক আহমেদের মাথায়।

তিনি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরো পাঁচ সহপাঠীকে নিয়ে একটি রোবটিকস দল গড়ে তুললেন। দলের নাম দিলেন ‘সাস্ট তাউরা সাফা’। সেই দলে ছিলেন মুনতাসীর মাহদী, মেহেদী হাসান, শেখ সাকিব, মারুফ হোসেন ও আসমা খাতুন। পরে যোগ দিলেন নওশাদ হোসেন।

শুরুতে তাঁরা রোবটচালিত একটি কোয়াড কপ্টার তৈরির প্রকল্প হাতে নেন। প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার টাকা বাজেট করেন তাঁরা। তবে এত টাকা জোগাড় করা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছয় ছাত্রের জন্য বেশ কষ্টেরই ছিল। তার পরও তাঁরা টাকা জোগাড় করেন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে দুই দিনের মাথায় সেটি তৈরি করে ফেলেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে প্রথম আকাশে ওড়ে স্বপ্নের কোয়াড কপ্টার। তবে সেদিনই সেটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভূপাতিত হয় এবং অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেমটি ভেঙে যায়। আবার সেটিকে ঠিকঠাক করতে নেমে পড়েন তাঁরা।

এ কাজের ফাঁকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রুয়েট) কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিকস প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ‘সাস্ট তাউরা সাফা’। তবে নতুন দলটি অনভিজ্ঞতা ও খুব বেশি উদ্ভাবন না থাকায় শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে পেরে ওঠেনি। তার পরও তাঁরা হাল ছাড়েননি।

এ বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে এমআইএসটিতে (মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) রোবল্যুশন প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। সেখানে তাঁদের দল তৃতীয় হয়। এই সাফল্য তাঁদের আরো উদ্দীপ্ত করে। ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষার ফাঁকেই তাঁরা কোয়াড কপ্টার আরো উন্নত করতে থাকেন। এরপর তাঁরা অংশ নিলেন ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘প্রজেক্ট বি’-তে। প্রতিযোগিতাটির নাম ছিল ‘টেক ফেস্ট ২০১৬’। সেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শাহজালালের এই দল। দলে ছিলেন—অনিক হোসেন, মুনতাসীর মাহদী, মেহেদী হাসান ও নওশাদ হোসেন। তাঁরা সবাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র।

প্রতিযোগিতাটি নিয়ে দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য নওশাদ বললেন, ‘এটি ছিল রোবটের লড়াই। এই প্রতিযোগিতায় রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে একটি দলের রোবট অন্য দলের রোবটকে নির্দিষ্ট গতিপথ থেকে বের করে দিয়েছে। ফলে আমাদের মধ্যে খুব উত্তেজনা ছড়িয়ে গিয়েছিল।’

আরেক সদস্য মেহেদী বললেন, “আমাদের রোবটটি সিলেট লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অম্লান’ দলের রোবটের চেয়ে আকারে অনেক ছোট থাকলেও এটি যে ভালো করবে এ ব্যাপারে খুব আত্মবিশ্বাস ছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।”

তবে চ্যম্পিয়ন এই দলের আছে নানা সমস্যা। সেগুলো নিয়ে বললেন তাঁদের একজন মুনতাসীর, ‘নানা সমস্যা পেরিয়ে আমরা কাজ করি। ছাত্র বলে টাকা জোগাড় করতেও সমস্যা হয়। ফলে অনেক যন্ত্রপাতিই কিনতে পারি না। তবে সিনিয়র ভাইয়েরা আমাদের খুব উৎসাহ দেন। ফলে ভালো করার সাহস পাই।’

‘টেক ফেস্ট ২০১৬’-তে চ্যাম্পিয়ন এই দলকে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও সাড়ে সাত হাজার টাকার প্রাইজমানি পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এতে উৎসাহিত হয়ে তাঁরা আরো নানা ধরনের রোবট বানিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য আনতে চান বললেন দলনেতা অনিক হোসেন।

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর