শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

বিআইবিএমের সেমিনার

ইসলামি ব্যাংকিং শুধু নামে

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2016-12-02 23:13:52

বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায় ইসলামি ব্যাংকিং হচ্ছে, তার সঙ্গে সাধারণ ব্যাংকিংয়ের বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। সাধারণ ব্যাংকে যেভাবে এবং যে শর্তে গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নেওয়া হয়, ঋণ দেওয়া হয়; প্রায় একই রকম শর্তে ইসলামি ব্যাংকগুলো কাজ করে। পার্থক্য হয় শুধু নামে। এমনকি ইসলামি ব্যাংকগুলো নিজেদের তুলনাও করে সাধারণ ব্যাংকের সঙ্গে।

রাজধানীতে ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন গত বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিতইসলামি ব্যাংকগুলোতে করপোরেট সুশাসনশীর্ষক ওই সেমিনারে এসব কথা বলা হয় রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় সংস্থাটির মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন

সেমিনারে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে করপোরেট সুশাসনের অবস্থা নিয়ে একটি গবেষণাপত্র তুলে ধরা হয় এর ওপর আলোচনায় বক্তারা প্রকৃত ইসলামি ব্যাংকিং নিশ্চিত করতে পরিচালকদের সদিচ্ছা, ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে আলাদা আইন, মান নির্ধারণকারী সংস্থা বা রেটিং এজেন্সি গড়ে তোলা এবং ইসলামি ব্যাংকিংয়েরপ্রকৃতধারা মাক্বাসিদ শরিয়া অনুসরণের তাগিদ দেন

গবেষণাপত্রটি তুলে ধরেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. আলমগীর তিনি বলেন, ১৭ শতাংশ ইসলামি ব্যাংক শরিয়া মান খুব ভালোভাবে (বেস্ট প্র্যাকটিস) অনুসরণ করে ভালোভাবে (গুড প্র্যাকটিস) অনুসরণ করে ৫০ শতাংশ ব্যাংক মোটামুটি (ইমপ্রুভড প্র্যাকটিস) অনুসরণ করছে বাকি ৩৩ শতাংশ ব্যাংক মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য উপসাগরীয় দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো

দেশে ইসলামি ব্যাংকিং করছে এমন ২৩টি ব্যাংকের ওপর একটি জরিপ করে গবেষণাটি করা হয়েছে জরিপের জন্য একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয় তাদের দেওয়া উত্তরের ওপর ভিত্তি করে জরিপের ফলাফল তৈরি হয় তবে অনুষ্ঠানেই গবেষণাটি প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং বক্তারা দেশে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন বিচ্যুতি তুলে ধরেন
জরিপের প্রশ্নপত্রে দেওয়া উত্তরে অনেক সময় বাস্তবতার মিল থাকে না উল্লেখ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে ইসলামি ব্যাংকিং হচ্ছে, তাতে ইসলাম ধর্মের নিয়মকানুন বা শরিয়া পালিত হচ্ছে না শরিয়াভিত্তিক অর্থায়নের ৫২টি মান আছে বাংলাদেশে মাত্র দু-একটি পালন করা হয়
ইসলামি ব্যাংকগুলোর খুচরা ব্যাংকিং সম্পর্কে ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো গ্রাহককে নগদ টাকার বদলে পণ্য কিনে দেয় নিয়ম হলো, আগে ব্যাংক পণ্য কিনবে, নিজের দখলে নেবে, তারপর দাম নির্ধারণ করে গ্রাহককে দেবে এখন তারা ক্রেতা প্রতিনিধিকে (বায়িং এজেন্ট) টাকা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে এর কি কোনো মানে আছে?

ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যাংকার বলেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহককে দিয়ে মুদারাবা হিসাব খোলায় কিন্তু গ্রাহককে বলে না যে লোকসান হলে ভাগ নিতে হবে সময় সেমিনারে উপস্থিত ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি কখনো গ্রাহককে বলেন যে ব্যাংকের লোকসানের ভাগ নিতে হবে? বলেন না ব্যাংকের মুনাফা ভাগাভাগির নীতিমালাও গোপন থাকে
বিআইবিএমের কে গঙ্গোপাধ্যায় চেয়ার অধ্যাপক এস চৌধুরী বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং অর্থায়নের একটি বিকল্প ধরন এটি কখনো ধর্মভিত্তিক ছিল না, ধর্মভিত্তিক হয়নি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো যে আমানত ফরম দেয়, তা মূলত সাধারণ ব্যাংকের ফরমের কপি শুধু নাম আলাদা তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকে গ্রাহকের আমানত মূলধন নয়, দায় হিসেবে দেখানো হয় মুদারাবা আমানত শুধু নামে, কারণ এতে গ্রাহককে লোকসানের ভাগ দেওয়া যায় না
মুজাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো এখন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে কার্ড শরিয়া অনুমোদন করে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে ইসলামি ব্যাংকগুলো শুধু ক্রেডিট কার্ড চালুই করেনি, তারা সুদভিত্তিক ব্যাংকের চেয়ে বেশি ফি নেয় অর্থ স্থানান্তরেও ইসলামি ব্যাংকগুলোতে বেশি ফি দিতে হয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন আলী বলেন, ‘আমি পুরোপুরি একটি ইসলামি ব্যাংককে কলমানি মার্কেট (আন্তব্যাংক ঋণ) থেকে ঋণ নিতে দেখেছি এটা কি ইসলামসম্মত?’

 

 

ঢাকা/ এইচ আর