শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

বেসরকারি খাত বিকাশে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2016-12-21 21:31:40

বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই খাতের উন্নয়ন এবং বিকাশে তাঁর সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘নিউ ইকোনমিক থিংকিং : বাংলাদেশ ২০৩০ এন্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা বেসরকারি খাতের উন্নয়নে আর্থিক, নীতিনির্ধারণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গঠনে আমাদের সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে আইটি সেক্টরে দশ লাখ লোকের কর্মসংস্থান এবং এ সেক্টর থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানী করার টার্গেট নিয়ে কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির ওপর পিপিপি’র ভিত্তিতে হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহ ২০৩০ সালের মধ্যেই অর্জন করে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী এসডিজি বাস্তবায়নেও রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হবে।’

‘আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৭০তম জয়ন্তী উদযাপন করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে এবং জন প্রতি মাথাপিছু আয় প্রায় ১২,৬০০ ডলারে উন্নীত হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালে আমাদের অর্থনীতি এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। স্থানীয় সাপ্লাই চেইন এবং গ্লোবাল ভ্যালু চেইন আঞ্চলিক, উপ আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সংযোগ সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার সর্ম্পক উন্নয়ন জরুরি। এছাড়া, বিসিআইএম, বিবিআইএন, সার্ক, আসিয়ান, বিএমসটেক, সাসেক এবং পূর্ব ইউরোপ পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার দ্রুত ও উন্নত আঞ্চলিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজতর ও গতিশীল করবে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরই আমরা রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের কাজে হাত দেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গৃহীত কর্মসূচির ফলে গত কয়েক বছর বাংলাদেশ নিরবচ্ছিন্নভাবে ৬ শতাংশ’র বেশী জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও সাম্প্রতিক সময়ে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।

তিনি বলেন, কুঁড়েঘর বাংলাদেশে থাকবেনা এই ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখন আর কুঁড়ে ঘর দেখা যায় না। সারাদেশের ২ লাখ ৮০ হাজার গৃহহীনকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় বিনা পয়সায় ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার প্রকল্প সরকারের বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রাসহ জাতিসংঘ গৃহীত এসডিজি ২০৩০ এর লক্ষ্যসমূহ জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার ব্যাপক কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের সময়ে দেশের আর্থ সমাইজক উন্নয়নে গৃহীত কিছু পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যসীমা ২০০৫ সালে থাকা ৪০% থেকে কমিয়ে ২০১৫ সালে ২২ দশমিক ৪%এ নামিয়ে আনা হয়েছে। মাথাপিছু আয় বর্তমানে ১৪শ’৬৬ মার্কিন ডলার হয়েছে। ২০০৫-০৬ সালে যেখানে রপ্তানী আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে বর্তমান অর্থবছরে তা ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁেছছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০% নিজস্ব অর্থায়নেই বাস্তবায়ন করছি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও বেগবান করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭ বছরে দেশে ৮০টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমান ১৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। দেশে অফগ্রীড এলাকার ৪৫ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। গ্যাসের গড় উৎপাদন দৈনিক ১,৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট হতে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দৈনিক ২,৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে জাতির পিতার দেয়া ভাষণের একটি উদ্বৃতি তুলে ধরেন -বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ঊনিশ’শ একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রামের সমাপ্তি এবং অর্থনৈতিক মুক্তিযুদ্ধের শুরু। এই যুদ্ধে এক মরণপন সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি। এই সংগ্রাম অনেক বেশী সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। তবে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রম করি এবং সৎপথে থাকি তবে, ইনশাল্লাহ জয় আমাদের অনিবার্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,এ দেশ আমাদের সকলের। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তি এবং গোষ্ঠি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে। আসুন আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বক্তৃতা করেন।
ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি হোসেইন খালেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী প্লানারি সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিঙ্গাপুর ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট লিম জিয়ন গুয়ান।
ডিসিসিআই এর সিনিয়র সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে ’দি ইলাস্ট্রিয়াস সান অব ঢাকা’ পুরস্কারে ভুষিত করা হয়। সূত্র: বাসস।

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর