মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

লেখাপড়া তো অনেক করলি, আর কত বসে বসে খাবি?

শামসুজ্জোহা বিপ্লব | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2016-12-22 19:30:59

মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলেটা সাধারণত পরিবারের বড় সন্তান হয়। বাবা মা অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে লেখাপড়া করায়। বাবা মা'র স্বপ্ন থাকে ছেলেটা একদিন ভাল চাকরি করবে, সংসারের হাল ধরবে।

কিন্তু লেখাপড়া শেষ করে যখন বেকার হয়ে বসে থাকে। তখন ছেলেটা আর মুখ দেখাতে পারে না। নিজে নিজে দুমড়ে মুচড়ে যায়। বেকার ছেলেটার হাতে টাকা থাকে না। বন্ধুবান্ধবের কাছে তাদের ধারের পরিমান দিনদিন বাড়তে থাকে। তাদের পৃথিবীটা দিনদিন ছোট হয়ে যায়। ধীরেধীরে রুদ্ধ হতে থাকে সব কয়টা দুয়ার। বেকারদের তেমন বন্ধু থাকে না। হাতেগোনা কয়েকজন। যাদের সাথে শুধু মনের অব্যক্ত কথাগুলো খুলে বলা যায়।

বাবা বলে অনেক তো পড়ালেখা করলে। আর কতদিন বসে বসে খাবে। নিজে কিছু একটা করার চেষ্টা করো। তোমার সরকারী চাকরি করা লাগবে না। নিজে ভালভাবে বাঁচার চেষ্টা করো। বাবা অনেক টাকা দিয়েছে ছেলের পড়ালেখার জন্য আর কত? ছেলেটা মাথা নীচু করে থাকে। বলার মত কোন ভাষা খুঁজে পায় না। মা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে। আর কত বসে থাকবি? এবার একটা কিছু একটা কর। সংসারের হালটা যে তোকেই ধরতে হবে। তোর বাবা তোর জন্যই সব জমিজমা বিক্রি করে দিয়েছে।

বেকার ছেলেটা কিছু বলতে পারে না। বুক ফেঁটে বোবা কান্না আসে। ছোট বোন মলিন মুখে কাছে এসে বলে ভাইয়া তুই কবে চাকরি করবি? তোর চাকরি হলে কিন্তু আমরা অনেক মিষ্টি খাবো। বেকার ছেলেটা মুখে শুকনো হাসি দিয়ে বলে। এইতো চাকরি হয়ে যাবে। চিন্তা করিস না। বেকার ছেলেটার জন্য বোনের বিয়েটাও আটকে থাকে। ভালো জায়গা থাকে বিয়ে আসে না। প্রেমিকা মন খারাপ করে কাছে এসে বলে। বাড়ি থেকে বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতেছে। কিছু একটা অন্তত করো। না হলে আমি চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাবো। তখন মাথা ঠুকে মরবে। বেকার ছেলেটা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। চোখের কোন বেঁয়ে অশ্রু ঝরে প্রেমিকা বুঝতে পারে না। ছোট ভাই হাসিহাসি মুখ নিয়ে বলে ভাইয়া বিয়া করবা না। তোমার বয়স তো অনেক হয়ে গেলো। বাড়িটা খালি খালি লাগে। একটা ভাবী দরকার। তোমার বিয়েতে আমরা অনেক মজা করবো। ভাইয়া যে কোন একটা চাকরিতে ঢুকে পড়ো।

বেকার ছেলেটা এক টুকরা হাসি দিয়ে বলে। চেষ্টা তো করছি। আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর। সবই হবে। বেকার ছেলেগুলোকে কেউ বুঝতে চায় না। না প্রেমিকা না পরিবার। ছেলেটা রাতের আঁধারে চোখের অশ্রু ঝরায়। কেউ দেখতে পায় না, বুঝতে পারে না কেউ। চেষ্টার তো কোন ত্রুটি নেই। তবুও কেন চাকরি হয় না। চাকরির বাজার খুব কঠিন। মামা খালু নেই। তাই চাকরি নেই। ভালো একটা চাকরির আশায় ছেলেটা প্রহর গুনতে থাকে। ভাবে অবশ্যই একদিন ভালো চাকরি হবে। এত দুঃখ, কষ্ট, পরিশ্রম বৃথা যাবে না। অন্ধকারের নীচেই তো আলো থাকে। মেঘের পরেই তো সূর্য্য হাসে।

 

 

শামসুজ্জোহা বিপ্লব
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়