মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

হেলথ বুলেটিন তথ্য ২০১৬

সরকারি হাসপাতালে দিনে গড়ে মৃত্যু ২৭০

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-01-02 12:49:20

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দৈনিক গড়ে ১৫ হাজার ৬৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়। ভর্তি রোগীদের মধ্যে দৈনিক ২৭০ জন মারা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘হেলথ বুলেটিন ২০১৬’-এর মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন বলছে, ভর্তি হওয়া রোগীর এক দশমিক ৮৫ শতাংশ মারা যায়।

প্রতিবেদনটি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে এতে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেশি মাতৃমৃত্যু হচ্ছে প্রলম্বিত প্রসবজনিত জটিলতায় আর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ অপরিণত জন্মের জটিলতা

হেলথ বুলেটিনে ২০১৫ সালে প্রাথমিক, মধ্যম তৃতীয় স্তরের ৫৬৭টি সরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে হাসপাতালে এই সময়ে ৫৭ লাখ ১১ হাজার ৬৪১ জন রোগী ভর্তি হয় তাদের মধ্যে মারা যায় লাখ হাজার ৮৫৬ জন মৃত ব্যক্তিদের ৫৮ শতাংশ পুরুষ ৪২ শতাংশ নারী অন্যদিকে, হাসপাতালে মৃত ব্যক্তিদের ২৪ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম
তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, যক্ষ্মা হাসপাতাল মানসিক হাসপাতাল) মৃত্যু সবচেয়ে বেশি, ৬৯ শতাংশ এরপর বেশি মৃত্যু হয় মধ্যম স্তরের হাসপাতালে (জেলা জেনারেল হাসপাতাল), ২৪ শতাংশ প্রাথমিক স্তরের হাসপাতালে (১০ থেকে ২০ শয্যার হাসপাতাল, ট্রমা সেন্টার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) মারা যায় শতাংশ রোগী
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক রশীদ--মাহবুব বলেন, তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে সবচেয়ে জটিল খারাপ রোগী আসে তাই এখানে মৃত্যুর হারও বেশি তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে ডেথ অডিট বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান হয় না সব মৃত্যুর ক্ষেত্রে তা করা সম্ভব হলে মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হতো এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা যেত

মাতৃ শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ
তিন ধরনের সরকারি হাসপাতালে এক বছরে হাজার ৪৮টি মাতৃমৃত্যু হয় বেশি মৃত্যু হয় প্রলম্বিত প্রসবজনিত (প্রলংড লেবার) জটিলতায়, ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ
ব্যাপারে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের প্রসূতি রোগ বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক রওশন আরা বেগম বলেন, প্রসবপ্রক্রিয়া ১২ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয় প্রসবপ্রক্রিয়া ১৮ ঘণ্টা বা তার বেশি হলে তা প্রলংড লেবার মায়ের শরীরের তুলনায় গর্ভস্থ শিশুর আকার বড় হলে, গর্ভস্থ শিশুর অবস্থান ঠিক না থাকলে প্রসবে জটিলতা দেখা দেয়, প্রসব প্রলম্বিত হয়, মায়ের মৃত্যু ঘটে

মাতৃমৃত্যুর অন্য প্রধান কারণ গর্ভপাতজনিত মাতৃমৃত্যুর ২০ দশমিক ১৩ শতাংশ ঘটে গর্ভপাতজনিত কারণে খিঁচুনিতে প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণে মৃত্যু হচ্ছে যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৯১ ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ মায়ের আর জরায়ু স্থানচ্যুত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মারা যায় দশমিক ৩৪ শতাংশ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট, কম ওজন নিয়ে জন্ম অপরিণত জন্ম, নবজাতকের পচনশীল ক্ষত, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং আঘাত উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে বেশি মৃত্যু হচ্ছে নিউমোনিয়ায় জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে শিশুমৃত্যু বেশি হচ্ছে কম জন্ম ওজন অপরিণত জন্ম-জটিলতায়

৩০-৭০ বছর বয়সীদের মৃত্যু
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সী রোগীরা বেশি মারা যায় আঘাত, বিষপান, ফাঁস দেওয়াসহ অন্য কিছু কারণে উপজেলা হাসপাতালেই এই ধরনের মৃত্যু বেশি জেলা পর্যায়ে এই বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদ্রোগ আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালে এই বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ স্নায়ুতন্ত্রের রোগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে এতে এক বছরের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত নতুন তথ্য দেওয়া হয় প্রতিবেদনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য দলিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনে রোগের ধরন, মৃত্যুর কারণ বলা হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বোঝার জন্য প্রতিবেদনটি চিকিৎসক, সাংবাদিক, গবেষক, নীতিনির্ধারকেরা ব্যবহার করছেন সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকেরা পরিকল্পনা তৈরিতে এর তথ্য ব্যবহার করেনসূত্র: প্রথম আলো।

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর