শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

শিক্ষার্থী ৩০০, শিক্ষক দুজন

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-02-09 11:48:02

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সোহরাব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩০০ জন। এর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র দুজন। তাঁদের মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ কারণে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহওনেয়াজ পারভীন বলেন, বিদ্যালয়বিহীন বিভিন্ন গ্রামে ১৫০০ বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ওই বিদ্যালয়টি চালু করা হয়। এগুলোতে এখনো পদ সৃষ্টি হয়নি। অন্য স্কুলের শিক্ষক প্রেষণে এনে পাঠদান করা হচ্ছে। শিক্ষকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, চরাঞ্চলের গাবসারা ইউনিয়নের চর রেহাই গ্রামে ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয়। সে সময় অন্য বিদ্যালয় থেকে এখানে প্রেষণে দুজন শিক্ষক আনা হয়। তাঁরা চলে গেলে বিদ্যালয়টি শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ে। পরে আবার দুজন শিক্ষককে প্রেষণে এনে পাঠদান করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে এ দুজনের একজন দেড় বছরের জন্য প্রশিক্ষণে চলে গেছেন। ফলে একজন শিক্ষক দিয়ে চলে কার্যক্রম। ১ ফেব্রুয়ারি আবার একজন শিক্ষক প্রেষণে আনার পর এখন বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক হয়েছেন দুজন। তাঁদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান করেন। ফলে দুজন শিক্ষকের ছয়টি ক্লাস নিতে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। পাঠদান ব্যাহত হওয়ার কারণে বিদ্যালয়টি থেকে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সোহেল মিয়া বলে, শিক্ষক ক্লাসে পড়া দিয়ে পাশের ক্লাসে গেলে শিক্ষার্থীরা হইচই শুরু করে দেয়।

এলাকার কয়েকজন বলেন, শিক্ষকস্বল্পতার কারণে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের অভাবে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসছে না। ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঝরেও গেছে। আশপাশে অন্য কোনো স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই ছেলেমেয়েকে পড়াতে হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার কর্মকার বলেন, তাঁকে একসঙ্গে তিনটি শ্রেণিতে পাঠদান করাতে হয়। ১ ফেব্রুয়ারি ভদ্রশিমুল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শামছুন্নাহার নামের একজনকে প্রেষণে আনা হয়েছে। এখন দুজনকে পাঁচজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। (প্রথম আলো)

 

 

ঢাকা/ এইচ আর