রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

রাজপুত্র থেকে যুবরাজ হয়ে উঠলেন নেইমার

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-03-09 13:47:23

মহাকাব্যই যখন, তার নায়ক তো মহা নায়কই হবে! কাল বার্সেলোনার অবিশ্বাস্য মহাকাব্যিক রূপকথার মহানায়ক, না লিওনেল মেসি নয়; নেইমার!

মেসির উত্তরসূরি হয়ে বার্সায় এসেছেন ঢের আগেই। তবে কাল যেন প্রতিভাবান কিন্তু খেয়ালি রাজপুত্র থেকে যুবরাজ হয়ে উঠলেন নেইমার। ক্রাউন প্রিন্স! যেন আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেকের মানপত্র লেখার তাগিদ দিয়ে রাখলেন এই অনুচ্চারিত ঘোষণায়,আমি প্রস্তুত বার্সেলোনার রাজ্যভার সামলাতে!

নিজে জোড়া গোল করেছেন, একটি পেনাল্টি আদায় করে দিয়েছেন, বার্সার জয়সূচক গোলও তাঁর নিখুঁত ফ্রি কিকের সৌজন্যে। কোথায় নেই নেইমার! কিন্তু এতেও যেন বোঝা যাচ্ছে না পুরো ম্যাচে তাঁর অবদান! যে পরিমাণ ক্ষুধা নিয়ে বার্সা শুরু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এবং খুব নিখুঁতভাবে না হলেও একেবারে ঠিক ঠিক সময়ে প্রয়োজনমতো গোলও পেয়ে যাচ্ছিল; একটা মুহূর্ত প্রবল স্রোতকে যেন থমকে দিল। এডিনসন কাভানির একটা গোল সব হিসাব বদলে দিল এক নিমেষে।
৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা বার্সা তখন আর তো মাত্র একটা গোলের নেশায় উন্মত্ত; ঠিক তখনই কাভানির গোলটা শুরুর এই উত্তেজনা আর জীবন দিয়ে লড়ে যাওয়ার সব ক্লান্তি বার্সার পায়ে এনে দিল। তখন যে করতে হয় আরও তিন গোল! বার্সারই কতজন বিশ্বাস করেছে পিএসজির জালে শেষ আধঘণ্টায় আরও ৩ গোল দেবে দল? এক ম্যাচে ৬ গোল, সেটিও চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে, হয় নাকি!
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজিও তখন নিজেদের আরও গুছিয়ে নিল। প্রথম লেগের সেই ছাপটা ফিরে আসতে শুরু করল। সত্যি বলতে কি, এর মধ্যে টের স্টেগেন অমন পা বাড়িয়ে কাভানিকে গোল বঞ্চিত না করলে খেলা ওখানেই শেষ। কিন্তু না, নায়ক স্টেগেন নয়; বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে দারুণ ফ্লিকে গোল করা সার্জি রবার্তোও নয়; নায়ক নেইমার। নাকি মহানায়ক!
বার্সার একজন যদি তখনো বিশ্বাস করে থাকেন, এখান থেকেও ম্যাচে ফেরা সম্ভব; তা নেইমার। ৮৮ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে সরাসরি গোল করলেন। ৪-১। আরও দুই গোল চাই, সময় নেই। সময় নেই! বল কুড়িয়ে নিজে সেন্টারে বসালেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পেনাল্টি আবার গোল করলেন। ৫-১। আরও এক গোল চাই, সময় নেই। সময় নেই! এবার ৯৫ মিনিটে নেইমারের দুর্দান্ত ফ্রি কিক। তাতে এক শট দিয়েই বার্সার ইতিহাসে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলা সার্জি রবার্তো সেই মুহূর্ত! ৬-১, মিলে গেল সমীকরণ! ৮৮ থেকে ৯৫ মিনিট পর্যন্ত যা হলো, তা কেবল ইচ্ছাপূরণ দেবীর বর পাওয়া কারও পক্ষেই করা সম্ভব!
আগের রাতে নেইমার টুইট করে বলেছিলেন, ভয় কি, আমি নিজে দই গোল করে দেব। কী আশ্চর্য করলেনও। টুইট করেছিলেন, ‌'আমাদের জেতার যদি ১ শতাংশ সম্ভাবনাও থাকে, আমার বিশ্বাস থাকবে ৯৯ শতাংশ।' নেইমার সত্যি বিশ্বাস করেছেন, অলৌকিক কিছু ঘটানো খুবই সম্ভব!
এইখানেই নেইমার যেন বাকিদের ছাপিয়ে যান সব সময়। মেসি-রোনালদোকেও। চাপের মুখেও টলে না যাওয়া। চাপের মুখে বরং নিজের আরও সেরাটা বের করে নিয়ে আসার উজ্জীবনী মন্ত্র পাওয়া। এ কারণেই হয়তো জাতীয় দলের হয়ে তিনি আরও বেশি উজ্জ্বল। দল একা তাঁর ওপর নির্ভর করে, এটা তিনি উপভোগ করেন। চান আরও বেশি চাপ নিতে। ২৫ বছর বয়সীর স্নায়ুটা যেন চাপের মুখে হয়ে যায় ৪৫-এর পোড় খাওয়া অভিজ্ঞ কারও!
৮৮ মিনিটের সেই ফ্রি কিকের কথা ভাবুন। মেসির বদলে তিনি নিজে নিয়েছেন। ওই চাপে নিজের স্নায়ুকে কতটা বশে রাখতে পারলে এমন নিখুঁত ফ্রি কিক নেওয়া যায়!
৯১ মিনিটের সেই পেনাল্টি। তা সুয়ারেজ আদায় করে নিয়েছেন কি না এই বিতর্ক তখনো চলছে, কিন্তু আসল কাজটা তো তখনো বাকি। একজনকেই করতে হবে। তিনি করলেনও! সব ছাপিয়ে গেল ৯৫ মিনিটের সেই ফ্রি কিক। নেইমার জানতেন, এটাই শেষ। হয় বার্সেলোনা এখান থেকে ইতিহাস গড়বে; নয়তো এই ম্যাচটার কথা দুদিন আলোচনা করে ভুলে যাবে সবাই। এটাই সেই মুহূর্ত! সেই চাপ সামলে কী অবিশ্বাস্য ডেলিভারি! অফ সাইডের ফাঁদ ভেঙে বেরিয়ে আসা রবার্তোর শটটার কৃতিত্ব কোনোভাবেই খাটো করার সুযোগ নেই। কিন্তু আসল কারিগর নেইমার। প্রায় একাই যিনি কাল জন্ম দিয়েছেন মহাকাব্যিক সেই রূপকথার!

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর