শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

টাইগারদের ‘লংকাজয়’

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-03-19 17:23:59

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলো কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়াম। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান এই তিন দেশ কেবল জয়ের মুখ দেখেছে শততম টেস্টে। চতুর্থ দেশ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লেখালো বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে সিরিজ ভাগাভাগি করে নিল টাইগার বাহিনী।

জয়ের সুবাতাস লেগেছিল গত শনিবারই। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের লিড তাড়া করতে গিয়ে ১৩৯ রানের লিড নিয়েই ৮ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে শেষবেলা আশা বাঁধেন পেরেরা ও লাকমাল। আজ রবিবার সকালে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর স্বপ্নটাকে ক্রমেই ফিকে করছিলেন এই দুই লংকান। শেষ পর্যন্ত নবম উইকেটে গড়েন ৮০ রানের জুটি। পেরেরা তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশত।

তাদের জুটি ভাঙে রান আউটে। মিরাজের বলে শুভাশীষের মিসফিল্ডিংয়ে দ্রুত রান নিতে গিয়ে আউট হয়ে ৫০ রানে সাজঘরে ফেরেন পেরেরা। আর পরের ওভারে সাকিবের বলে ছয় মারতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন লাকমল। তার আগে ইনিংসে যোগ করেন ৪২ রান। আর সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৯১ রানের।

১৯১ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে দ্রুতই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী রঙ্গনা হেরাথকে মনে হয় একটু সমীহ করাই উচিত ছিল। দিনের অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে এগিয়ে এসে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা খেলেন সৌম্য সরকার। ঠিকভাবে ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে না পারায় শূন্যে উঠে যায় বল। লং অফে ক্যাচ লুফে নেন উপল থারাঙ্গা।

এরপরের বলেই মুমিনুলের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া ইমরুল কায়েস একরকম উইকেট বিলিয়েই দিয়ে এলেন। শিকারী ফের ওই হেরাথ। বাইরের একটি বল খোঁচা মারতে গিয়ে গুনারত্নের হাতে ধরা পড়েন ইমরুল।

নিজের স্কোরটাকে টেনে তুলছিলেন তামিম ইকবাল। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমেও ছড়িয়ে পড়ছিল আনন্দের আভা। তবে পথের দূরত্ব তখনো অনেকটা। এরই মধ্যে ৩৭তম ওভারের পঞ্চম বলে ব্যক্তিগত ৮২ এবং দলীয় ১৩১ রানে আউট হন বাঁহাতি ওপেনার। জয়ের বন্দরে পৌঁছুতে তখনো ৬০ রান দূরে বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত আউট হন সাব্বির রহমানও। স্কোরবোর্ডে ১২ রান যোগ করে বিদায় নেন সাব্বির। ৪১ রান করে পেরেরার বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন রাজশাহীর ক্রিকেট প্রতিভা।

এরপর সাকিবের বিদায়টা ছিল হতাশার। ৪৩ বলে ১৫ রানে পেরেরার বলে বোল্ড হন তিনি। যদিও স্ট্যাম্পের বেল পড়েছে অনেকক্ষণ পর। এই জুটি ভাঙার পর বাংলাদেশ শিবিরে শঙ্কা ছড়ায়।

তবে ষষ্ঠ উইকেটে জুটিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে যান অধিনায়ক মুশফিক ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। উল্লাসে মেতে উঠতে দরকার যখন দুই রান। তখন বিদায় নেন সৈকত। ২৮ বলে দুই চারে ১৩ রানে হেরাথের বলে ডিকভেলার হাতে ক্যাচ দেন।

তবে এরপর আর কোনো সুযোগ পায়নি শ্রীলংকা। মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে উল্লাসে মাতেন মুশফিক। জয়সূচক দুই রান আসে মিরাজের ব্যাট থেকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা
প্রথম ইনিংস- ৩৩৮ (চান্দিমাল ১৩৮, মিরাজ ৩/৯০),
দ্বিতীয় ইনিংস- ৩১৯ (করুনারত্মে ১২৬, পেরেরা ৫০, সাকিব ৪/৭৪)

বাংলাদেশ
প্রথম ইনিংস- ৪৬৭ (সাকিব ১১৬, মোসাদ্দেক ৭৫, সৌম্য ৬১, মুশফিক ৫২, হেরাথ ৪/৮২)
দ্বিতীয় ইনিংস- ১৯১ (তামিম ৮২, সাব্বির ৪১, হেরাথ ২/৫০)

ফলাফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: সাকিব আল হাসান
হিরো অব দ্য ম্যাচ : তামিম ইকবাল

ম্যান অব দ্য সিরিজ : সাকিব আল হাসান

 

 

ঢাকা/ এইচ আর