মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

নিষিদ্ধ প্রেম, অভিশপ্ত প্রেম...

মোহাম্মদ মোহসিন | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-03-29 19:51:27

তাদের প্রথম পরিচয় ২০০৭ সালে। মেয়েটি তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তাকে প্রাইভেট পড়াত ছেলেটি। পড়ার ফাঁকেই গড়ে উঠে প্রেম। যে প্রেম গড়ায় বিছানা পর্যন্ত, ফ্রেমবন্দী হয় মোবাইলে। গড়াগড়ির এই প্রেম চলছিল তিন বছর।

এরই মধ্যে ২০১০ এ বিয়ে ঠিক হয় মেয়েটির। স্বামী চৌধুরীহাটের জনৈক ওমর সাদেক। স্বামী যেমন মেয়েটির গড়াগড়ি প্রেমের কথা জানত না। তেমনি ছেলেটিও জানত না মেয়েটির বিয়ের কথা। তবে এমন লুকোচুরি চলে মাত্র কয়েকদিন। প্রথমে ধরা পড়ে যায় ছেলেটির হাতে। ছেলেটি প্রথমে প্রস্তাব দেয় পালিয়ে এসে নতুন সংসার পাতার। তাতে সায় দেয় না মেয়েটি। পরে হুমকি দেয় ফ্রেমবন্দী সেই প্রেম ফাঁস করে দেওয়ার। এবার কাজ হয়। মন পাল্টাই ছেলেটিও। সংসার নয় ; আবারও সেই বিছানায়। আবারও শুরু হয় সেই গড়াগড়ি প্রেম, ফ্রেমবন্দী হয় এই মুহুর্তগুলো। কিছুদিন চলতে থাকার পর এবার ধরা পড়ে যায় স্বামীর কাছে। ফলাফল??? ডিভোর্স। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই।  
ডিভোর্সের পরই মুষড়ে পড়ে মেয়েটি। সে পালাতে চায় ছেলেটির খপ্পর থেকে। মুক্তি চায় অভিশপ্ত সেই প্রেম থেকে। আবারও সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চায় সে। তাই বিয়ের পিড়িতে বসে আবারও। এবার স্বামী ইকবাল। নতুন জীবন, নতুন সংসার ভালই চলছিল তার। কিন্তু দৃশ্যপটে আবারও সেই ছেলেটি। আবারও হুমকি , আবারও ফ্রেমবন্দী প্রেম। এভাবে চলতে চলতে এক পর্যায়ে নজরে আসে স্বামীর। কিন্তু সবকিছুই অস্বীকার করে মেয়েটি। এরই মধ্যে স্বামী চলে যায় ওমান। এসময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। অসুস্থ হয়ে হঠাৎ স্বামী ফিরে এলে মেয়েটি সংযত হয়। এড়িয়ে চলতে থাকে ছেলেটিকে। কিন্তু ছেলেটি কোন ধরনের বাঁধাই মানে না। ছেলেটির অব্যাহত হুমকি সাথে স্বামীর সন্দেহাতুর চোখের পীড়াপীড়িতে এক পর্যায়ে স্বামী ইকবালকে সব খুলে বলে মেয়েটি। স্বামী ইকবাল ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয় নিষিদ্ধ ও অভিশপ্ত এই প্রেমের গল্প শেষ করার।  
২২ মার্চ, ২০১৭। মেয়েটি ফোন করে ছেলেটিকে। আসতে বলে সৈয়দ পাড়াস্থ শহীদনগর চারতলা মোড়ে। প্রেমের টানে চলে আসে ছেলেটি। মেয়টিকে সাথে নিয়ে দরজা খুলতেই দেখে মেয়েটির স্বামী ইকবাল। সাথে ছিল তার (ইকবাল) ভাই তৈয়ব, মাসুদ ও হেলাল। ছেলেটিকে স্বামীর হাতে সপে বাড়ি চলে যায় মেয়েটি। মেয়েটি যাওয়ার পরপরই ছেলেটির হাত পা বেধে ফেলে তারা। গলায় নাইলন পেঁচিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে সেই ছেলেটিকে।  
এভাবেই শেষ হয় নিষিদ্ধ সেই প্রেম, অভিশপ্ত সেই প্রেম।  
ফুটনোট : 
একাগ্র আন্তরিকতা, কর্মনিষ্ঠ প্রচেষ্টা আর নাছোড়বান্দা মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস ‘আলাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে টিম বায়েজিদ। হত্যাকারী সেই স্বামী, সেই মেয়েটি, মেয়ের দুই দেবর এখন পুলিশ হেফাজতে। উদ্ধার করা হয়েছে সেই মোবাইলও। অসাধারণ এমন একটি টিমের অগ্রভাগে থেকে আমি গর্বিত এবং উচ্ছসিত। ধন্যবাদ ডিসি,এডিসি,এসি স্যার সহ এস আই শামীম শেখ,আইয়ুব উদ্দীন,সঞ্জয় পাল,এ এস আই সাহেদ,নাছের আহম্মদের। 
মোরাল অব দ্য স্টোরি :  
ভুল ভুলই। এটা যত তাড়াতাড়ি শুধরে নেওয়া যায় ততই মঙ্গল। অপরাধ দিয়ে কখনো ভুল ঢাকা যায় না। অপরাধ সামনে চলে আসলে ভুলটি চোখ এড়িয়ে যায় সবারই। আপনার পরিবার, সন্তান, ভাই- বোনের প্রতি খেয়াল রাখুন। তাদের সময় দিন। তাদের জানতে চেষ্টা করুন। তাদের ভালবাসুন। (লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ)

 

  লেখক: মোহাম্মদ মোহসিন

  অফিসার ইনচার্জ, বায়েজিদ থানা
  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন।