শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ

খন্দকার পলাশ | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-03-30 23:49:53

২ এপ্রিল থেকে তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পরিবেশটা স্বাভাবিক করে নাও। এর আগে তোমরা পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছো। আসলে এটিও আগেরগুলোর মতই সাধারণ একটি পরীক্ষা। যদিও এর গুরুত্বটা একটু বেশি। তোমাদের প্রতিটি পরীক্ষার মাঝখানে তোমরা কিছু সময় পাবে, এ সময়টুকু খুব ভালো করে কাজে লাগাতে হবে। ভালো ফল করার জন্য বন্ধের এ সময়টুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ...

আশা করি তোমরা সবাই খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছো। সব পরীক্ষা অবশ্যই ভালো হতে হবে। কারণ প্রতিটি পরীক্ষা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা যাতে ভালো হয়, তোমরা যাতে ভালো রেজাল্ট করে উচ্চশিক্ষার পথকে শানিত করতে পার তার জন্য কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। আশা করি তোমরা উপকৃত হবে।

সাজেশন করে বারবার অনুশীলন কর
যতই অনুশীলন ততই আত্মবিশ্বাস অনুশীলন মানুষকে যোগ্য ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলে। এ সত্য কথাটি আরো বাস্তবে দেখতে পারবে যখন তোমরা অনুশীলন করে নিজেদের যোগ্য করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে। এ পরীক্ষার সাফল্যের জন্য যথাযথভাবে অনুশীলন করতে হবে। পরীক্ষার মাঝের সময়গুলোয় অহেতুক বিষয়গুলো না পড়ে প্রয়োজনীয় ও অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। পরীক্ষার দিন সকাল পর্যন্ত ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে তোমাদের মনোবল বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো স্ট্যাডি করে যেসব প্রশ্ন বার বার এসেছে, সেগুলোর প্রতি জোর দিতে হবে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয় সেসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর জেনে নিতে হবে। এভাবে পরীক্ষার সম্মুখীন হলে তোমাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো বারবার লিখ
পরীক্ষার সময় একটি বিষয় পরীক্ষার্থীরা খুব বেশি অনুভব করে যে, তার কিছুই মনে থাকছে না। এজন্য অনেকেই হতাশও হয় মাঝেমধ্যে। অবশ্যই এটি সত্য যে, পরীক্ষা চলাকালে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে একটি বিষয়ের সব অধ্যায় পড়তে হয় বলে অনেক কিছু মনে রাখা কষ্টকর ব্যাপার। যদি একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে পড়ার ব্যাপারটাকে গুছিয়ে আনা যায় তাহলে তোমাদের মনে রাখাটা অনেকটাই সহজ হবে। এজন্য প্রশ্নের উত্তর মনে রাখার জন্য বিভিন্ন কৌশল সৃষ্টি করতে হবে নিজেকেই। নিজেকে একটু যাচাই কর পরীক্ষা-পূর্ববর্তী সময়ে নিজেকে যাচাই করার উপযুক্ত উপায় হলো অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেখে লেখা। এতে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের সৃষ্টি হয়, কোনো ভুল থাকলে ধরা পড়ে ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রশ্নগুলোর মান ও পরীক্ষা হলের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় এতে।

আত্মবিশ্বাস ভালো না থাকলে ভালো রেজাল্ট করা যায় না। বিশ্বাস রাখতে হবে তুমি অবশ্যই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। আর তোমরা যারা এসএসসিতে আশানুরূপ রেজাল্ট করতে পারনি তারা এ পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করবে না। এসএসসির রেজাল্টের চেয়ে এ পরীক্ষার ফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ পরীক্ষা ভালো হলে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা অনেকটা নিশ্চিত।

অভিভাবকদের করণীয়
কিছু অভিভাবক আছেন যারা তাদের ছেলেমেয়েদের পরীক্ষাকে অন্য রকম কিছু মনে করেন। তাদের মনে রাখতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বটে কিন্তু কঠিন বা ভয়ানক কিছু নয়। তাই পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে অভিভাবকদের একটু সতর্ক থাকা উচিত। তাদের ওপর পড়ালেখার অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। তাদের স্বাস্থ্য ও শরীরের প্রতি যত্ন নিতে হবে। তাদের সুস্থ ও মানসিকভাবে ভালো রাখার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করতে হবে। তারা যেন আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষার আগের রাত ও পরিক্ষার দিনে করণীয়
পরীক্ষার দিনের আগের রাতে পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে। পরীক্ষার দিন সময়মতো হলে আসতে হবে। খুব আগে বা পরে আসা উচিত নয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত ২০-২৫ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে আসা উচিত। এর ফলে পরীক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে তাড়া থাকে না। ঢাকাসহ যেসব শহরে যানজটের আশঙ্কা আছে সেসব শহরে পরীক্ষার হলে যাওয়ার জন্য একটু আগেই পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হতে হবে। যে বিষয়ের পরীক্ষা দিতে যাবে সে বিষয়ের নোট-খাতা অথবা কোনো বই নিয়ে বের হওয়া ভালো । এতে পরীক্ষার হলে ঢোকার আগ পর্যন্ত পড়া যায়। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ও বইপত্র কোনো কিছুই নেয়া যাবে না।

খাতা পাওয়ার পর
প্রথমে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় মনোবল নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষার হলে খাতা পাওয়ার পর সময় থাকলে প্রতি পৃষ্ঠার বাম পাশে ও ওপরে এক ইঞ্চি এবং নিচে হাফ ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা রেখে পেনসিল বা কলম দিয়ে মার্জিন টেনে নেয়া ভালো। আর যদি সময় না পাওয়া যায়, তাহলে লেখার সময় অনুরূপ জায়গা ফাঁকা রেখে লিখতে হবে অবশ্যই। নতুবা উত্তরপত্র তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলবে। আর ভালো নাম্বার পাওয়ার জন্য এটিও অনেক জরুরি। তবে এ কাজগুলো করতে গিয়ে পরীক্ষার মূল সময় নষ্ট করা যাবে না। প্রতি পৃষ্ঠার ওপরে বা নিচে ক্রমিক নাম্বারও বসানো প্রয়োজন। এতে করে পরীক্ষক সন্তুষ্ট হন। খেয়াল রাখা উচিত যাতে খাতাটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে।

প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর
পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর খুব সতর্কতার সঙ্গে পড়তে হবে। পরীক্ষার হলে অনেক পরীক্ষার্থী তাড়াতাড়ি প্রশ্ন পড়তে গিয়ে প্রশ্নের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দিয়ে যায়। তাই তাদের এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে। এ ছাড়া পরীক্ষার কোন অংশে কত সময় ব্যয় করতে হবে তা আগেই নির্ধারণ করে রাখতে হবে। প্রশ্ন-উত্তর দেয়ার সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। কারণ এতে অনেক উত্তর ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সন্দিহান থাক তাহলে ওই প্রশ্নের উত্তর না দেয়াই ভালো। সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়া শেষ হয়ে গেলে বের না হয়ে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে উত্তরগুলো বার বার দেখ। তাতে কোনো ভুল থাকলে তা বের হয়ে আসবে।

লিখতে হবে যেভাবে
সুন্দর ও স্পষ্ট অক্ষরে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত। কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং যথাসম্ভব করবে না। পরীক্ষার পুরো উত্তরপত্র যেন পরিষ্কার থাকে। কোনোরকম ঘষামাজা না থাকাই ভালো। একটি প্রশ্নের উত্তর লিখে একটু জায়গা রেখেই আরেকটি শুরু করবে। আবার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় প্যারা করে লিখলে একটু ভালো দেখা যায় এবং বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হয়।

 

  লেখক: খন্দকার পলাশ
  এলএলবি, এলএলএম
  এমএসএস (ভিআরজে), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
  এমএসসি (ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,
  এবং সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।