বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৫ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

অচল শাকসু, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরীতে প্রতিবন্ধকতা

জুনেদ আহমদ | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-04-22 11:29:06

উত্তাল তরঙ্গে নাবিকই যাত্রীদের একমাত্র ভরসার পাত্র। নাবিকের সুনিপুণ দক্ষতায় তীর যেমন খুঁজে পায় তরী, তেমনি নাবিকের গাফেলতির কারণে অনেকের অকাল প্রয়াণ ঘটে। একটি জাতিকে যদি যাত্রী কল্পনা করা হয় নাবিকের নাম অবশ্যই হবে সেদেশের ছাত্র সমাজ ।

আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব  দিবে । তাদের সুদক্ষ নেতৃত্বে অভাব গোছবে সোনার বাংলাদেশের  স্বাধীনতার সপ্ন হবে স্বার্থক এমন স্বপ্নে বিভোর জাতি । কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি-দাওয়া আদায়ের একমাত্র স্থান হচ্ছে ছাত্রসংসদ। কিন্তু বিগত  দুই দশক যাবত অচল অবস্থায় রয়েছে এসব ছাত্রসংসদ। ফলশ্রুতিতে ছাত্র সংগঠন গুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে দলীয়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষ।

অন্যদিকে ছাত্রসংসদ কার্যক্রর না থাকায় শিক্ষার্থীদরে মধ্যে নেতৃত্ব শূণ্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের অগণিত ভবিষতে জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার মত নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। জাতির স্বপ্ন থেকে যাচ্ছে অধরা ।

দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর দুই বছর পর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) গঠিত হয়।

শাকসু প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনবার। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালের ২৫ আগস্ট। এতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পূর্ন প্যানেলে জয়ী হয়। ভিপি পদে কামরুল হাসান কাবেরী ও জিএস পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালের পর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ১৯ বছর যাবত অচল হয়ে আছে শাকসু। যা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরীর পথে এক বিরাট প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সচেতন শিক্ষার্থীদের মনে দানা বাঁধছে চরম ক্ষোভের।

শাকসু ভবন নামে যে একটি ভবন আছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছেই তা অজানা। অনেক শিক্ষার্থীই জানেন না কোথায় উপস্থিত এই শাকসু ভবন! শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার জায়গাটি বর্তমানে ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মতামতের বাহনটি যেখান থেকে প্রতিবাদের উৎস বের হতো তা বর্তমানে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

শাকসু নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। কারণ প্রতি বছর সেশন ফি’র সাথে শাকসু বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়। কিন্তু শাকসু কার্যক্রর না থাকলেও তা কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন তাদের মনে। এদিকে সচেতন শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শাকসু কার্যক্রর না থাকায় ছাত্র সংগঠন গুলোর মধ্যে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে গেছে। ফলে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত গ্রুপিং ও দলীয় কোন্দল দেখা দিয়েছে। তাই অচিরেই  ছাত্রসংসদ নির্বাচন দিয়ে শাকসুকে কার্যক্রর করা দরকার।

শাবি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,ছাত্রসংসদের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া গুলো উত্থাপন করতে পারে এবং প্রশাসনের সকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা সবসময় সোচ্চার থাকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন চাই।

জুনেদ আহমদ

 

 

 

 

 

 

 

লেখক: শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।