বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

ডলারের দাম বৃদ্ধি : প্রভাব পড়তে পারে ভোগ্যপণ্যের বাজারে

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-04-26 13:28:11

ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে ভোগ্যপণ্যের বাজারে- এমন ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে ডলালের দাম বেড়ে গেছে ৩ টাকা। প্রতি ডলারের বর্তমান মূল্য ৮৩ দশমিক ৮০ টাকা। আগে ছিল ৮০ দশমিক ২৫ টাকা। তবে এখনো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোগ্যপণ্য। সাধারণত রমজানকে কেন্দ্র করে ডাল, চিনি ও তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। চাহিদা ও সরবরাহ সি’র থাকলে দামও অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নিয়মিত বাজার তদারকি করলে ভোগ্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে বলে মত প্রকাশ করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির (ক্যাব) নেতারা ভোক্তারা যাতে রমজানে এক মাসের বাজার একসাথে না করে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন তারা

দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, বেচা-কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা বিশেষ করে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ছোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে বেশি চলতি মাসের শুরুতে ছোলার দাম প্রতিমণে ২০০ টাকা বাড়লেও তা আবার আগের দামে ফিরেছে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় সিতিশীল রয়েছে পণ্যটির বাজার ভালো মানের অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ (৩৭ দশমিক ৩২০ কেজি) হাজার ৭৫০, গত সপ্তাহে ছিল হাজার ৮৮০ থেকে হাজার ৯০০ টাকা অন্যদিকে মিল মালিকরা বেশি দাম নেওয়ায় দাম বেড়েছে চিনির চিনি প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে হাজার ৯০০ থেকে হাজার ৯১০, আগে ছিল হাজার ৮৮৫ থেকে হাজার ৮৯০ টাকা

হক ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আজিজুল হক  বলেন, ‘পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে রমজানে ডাল জাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম তবে সম্প্রতি ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এর প্রভাব ভোগ্যপণ্যের উপর পড়তে পারে
তিনি বলেন, ‘মুগডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ছোটদানা ১১৫, মাঝারি ১০৮ মোট দানা ১০৫, খেসারী প্রতিকেজি ৬২ থেকে ৬৩, মটর ডাল ৩২ থেকে ৩৩, মসুর দেশি ১০২ থেকে ১১২, আমদানিকৃত মসুর অস্ট্রেলিয়ান ৬০ থেকে ৬৫, কানাডিয়ান (মোটা) ৫৮ টাকা

চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সনজয় দেব খোকন  বলেন, ‘রমজানে ছোলার দাম স্বাভাবিকই থাকবে তবে এবার বার্মা থেকে আর ছোলা আসবে না অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই

তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মজুদ করার অভিযোগ দেয়া হয় আসলে এটা ভুল ধারণা আমদানিকৃত পণ্য ব্যবসায়ীরা কোথায় রাখবে? এগুলোতো আর খোলা মাঠে রাখা যাবে না তাছাড়া সম্প্রতি ডলারের দাম আবার বেড়ে গেছে আগামী রমজানে ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ভোগ্যপণ্যের বাজারে পড়তে পারে

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে চিনির দাম কমলেও আবার বেড়ে গেছে পণ্যটির দাম গতকাল পাইকারি বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৮ দশমিক ২৫ টাকায় আগে ছিল ৫৭ দশমিক ৭৫ টাকা খুচরা বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকায় আলতাব অ্যান্ড ব্রাদার্স থেকে জানানো হয়, মিল মালিকরা চিনির দাম বৃদ্ধি করেছে

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি (ক্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি যেমন দায়ী, ভোক্তারাও কম দায়ী নয় কারণ দেখা যায় রমজানের শুরুতে সবাই একসাথে এক মাসের বাজার করে ফলে চাপ পড়ে যায়, দামও বৃদ্ধি পায় ভোক্তারা একসাথে এক মাসের বাজার না করলেই দাম স্বাভাবিক থাকবে

তিনি আরো বলেন, ‘রমজানের আগে থেকেই প্রশাসনের নজরদারি থাকা দরকার নিয়মিত বাজার তদারকিও জরুরি এছাড়া টিসিবি এর মত বিকল্প বাজার তৈরি করা যেতে পারে

 

 

ঢাকা/ এইচ আর