শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

হাকালুকি হাওরে লালচে কয়লার সন্ধান পেয়েছে শাবি গবেষক দল

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-05-02 13:51:05

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের হাকালুকি হাওরে সন্ধান পাওয়া গেছে লালচে (লিগনাইট) কয়লা। প্রাথমিক গবেষণায় এমন তথ্য পেয়েছে গবেষক দল।

পেট্রোলিয়াম ও খনি কৌশল (পিএমই) বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. মো শফিকুল ইসলাম ও তার তত্ত্বাবধানে গবেষণাকার্যে নিয়োজিত আনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র নওরোজ কোরায়েশী দীপ্ত এমন তথ্য জানিয়েছেন। তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু হল ‘জিওকেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোফিজিক্যাল অ্যানালাইসিস অব কোল ফ্রম হাকালুকি হাওর’।

গবেষণায় সহযোগিতা করছেন, ওই বিভিাগের ছাত্র এস এম মোহাম্মদ উল্লাহ, আতিকুর রহমান, নাজিবুল আশফাক, ত্রিশাণ দেব অভি ও আব্দুল্লাহ আল ফাত্তাহ।

গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক গবেষণায় হাকালুকি হাওরে পাওয়া ওই কয়লায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদন সালফারের পরিমাণ এক শতাংশ ও কয়লার দাহ্য উপাদান কার্বনের পরিমাণ পঁয়ত্রিশ। তারা জানান, এ অঞ্চল থেকে কয়লা উত্তোলন করতে পারলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে।

ড. মো শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউলা উপজেলা অংশের চাতলা বিলে মাটির ০.৫ থেকে ৭ মিটার নিচে পাওয়া কয়লাটির নমুনার মৌলিক উপাদানগত ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের কাজ করছেন তারা।

বিশ্লেষণের মধ্যে রয়েছে আর্দ্রতা (ময়েশ্চার কন্টেন্ট) নির্ণয়, ছাইয়ের পরিমাণ নির্ণয়, শক্তির উৎপাদন ক্ষমতা নির্ণয়, তাপের মান বা জ্বলার ক্ষমতা নির্ণয়, ও উপাদান বিশ্লেষণ।

প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীরতা কম হওয়ায় কয়লা উত্তোলনের পর জমিগুলো পুণরায় ব্যবহার করা যাবে। এ কয়লা গৃহস্থালি কাজ ও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার উপযোগী কালো কয়লার (পিট) তুলনায় অধিক গুণগত মানের কয়লা, যা নমুনা ভেদে প্রতি কেজিতে সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোক্যালরি পর্যন্ত শক্তি পাওয়া গিয়েছে।

গবেষক দীপ্ত বলেন, পিট কয়লাতে সাধারণত প্রতি কেজিতে দুই হাজার আটশ থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার পর্যন্ত কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।

গবেষকদের দাবি, ওই অঞ্চল থেকে লালচে বা লিগনাইটে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা (বিসিএসআরআই কর্তৃক পরীক্ষিত) করে শতকরা ১ ভাগেরও নিচে সালফার (সালফার যত কম হবে পরিবেশের ক্ষতি কম) ও ৩৫ ভাগ পর্যন্ত কার্বন পাওয়া গেছে (কাবর্ন বেশি হলে কয়লা জ্বলে বেশি)।

গবেষকরা মনে করেন, শুধুমাত্র একটি অঞ্চল নয় পুরো হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা দরকার। যা অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বড় আকারের অর্থ বরাদ্দ দিলে গবেষণা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন গবেষকরা।

এদিকে হাকালুকি হাওরে পাওয়া কয়লায় দেশের খনিজ সম্পদ আরও সমৃদ্ধ হতে পারে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টতা। এজন্য শাবির গবেষকদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের দাবি উঠেছে।

 

 

ঢাকা/ এইচ আর