রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-05-07 13:21:50

হ্যাকিং সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে প্রথম দফার শীর্ষস্থান পাওয়া দুই প্রার্থী মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রোন এবং ডানপন্থী লে পেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থীই হবেন পরবর্তী ফরাসি প্রেসিডেন্ট। জরিপগুলো সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ইমানুয়েল ম্যাক্রনকেই এগিয়ে রেখেছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে লে পেনের চেয়ে ২৩-২৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ‌আছেন তিনি। এর আগে গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনেও জরিপের আভাস সত্য হয়েছিল। নির্বাচনি জরিপ, বিশ্লেষক মন্তব্য আর সংবাদমাধ্যমের আভাস অনুযায়ী, কর্মসংস্থান-নিরাপত্তা আর ফ্রেক্সিট ইস্যু প্রাধান্য পাবে এবারের নির্বাচনি ফলাফলে।
ফ্রান্সের নির্বাচনি ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে যদি কোনও প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে অংশ নেন শীর্ষ দুই প্রার্থী। ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের নির্বাচনে ম্যাক্রন পেয়েছেন ২৩.৭৫ শতাংশ ভোট। লা পেন পেয়েছেন ২১.৫৩ শতাংশ। তারাই দ্বিতীয় ধাপে লড়াইয়ের জন্য মনোনীত হয়ে আজকের দ্বিতীয় দফায় অংশ নিচ্ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবর অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রবিবার (৭ মে) সকাল আটটা থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকার কেন্দ্রগুলোতে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। বিদেশে ফ্রান্সের মালিকানাধীন এলাকায় থাকা ফরাসি নাগরিকসহ প্রবাসীরা আগাম ভোট দিতে শুরু করেছেন। ফ্রান্সের কয়েকটি বড় বড় শহরে রাত আটটা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে। রাত ৮টার পর থেকেই বুথফেরত ভোটারদের ওপর জরিপ চালিয়ে নির্বাচনের গতি নির্ধারণের চেষ্টা চালাবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো। এরপর প্রকাশিত হবে বেসরকারি ফলাফল। তবে সরকারিভাবে ফল ঘোষণা হবে ১০ মে। ফরাসি গণপরিষদের প্রেসিডেন্ট লরাঁ ফ্যাবিয়াস সেদিন ফল ঘোষণা করবেন।
আগামী ১১ ও ১৮ জুন দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী জরিপগুলোতে এগিয়ে আছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজনীতিক এমানুয়েল ম্যাক্রন। ২৩ থেকে ২৬ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন তিনি। ম্যাক্রনের বয়স মাত্র ৩৯ বছর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু গত বছর পদত্যাগ করে নির্বাচনি প্রচারে নেমে পড়েন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লি পেনও তেমন অভিজ্ঞ রাজনীতিক নন। ৪৬ বছর বয়সি এই নারী ১৯৮২ সালে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত রক্ষণশীল ও কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এফএন) ব্যানারে নির্বাচনে নামেন। কিন্তু এই দলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি লালনের অভিযোগ থাকায় প্রথম দফার ভোটের পর দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লি পেন। উদারপন্থি ও স্বতন্ত্র ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের দেড় দিন বাকি থাকতে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী ম্যাক্রোনের প্রচারণা দলের ই-মেইল ফাঁস হয়েছে। তাদের দাবি, ‘গণতান্ত্রিক অস্থিশীলতা’ সৃষ্টির জন্য এ কাজ করা হয়েছে। হ্যাকিং নিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন সম্ভাব্য বিজয়ী ইমানুয়েল ম্যাক্রন যে বড় ধরণের হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে সেটার জবাব দেয়া হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের রাতে তিনি বলেন, ‘সবাই জানতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা ঝুঁকির মধ্যে পরতে পারে।’ রাশিয়ার মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করার কথিত প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করেন। উইকিলিকস দাবি করছে, ফাঁসের এই ঘটনা সত্য। 

বেকারত্ব আর জঙ্গি হামলার কবলে থাকা ফ্রান্সের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা আর ফ্রেক্সিট ইস্যু। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী মূলধারার কোনও দলের নন। প্রধান ধারার ডানপন্থি ও বামপন্থিদের বাইরে তারা নতুন ধারার রাজনীতির ডাক দিয়েছেন। সেই অর্থে এই নির্বাচন ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমী। এদিকে নির্বাচনি প্রচারণার শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী ম্যাক্রন হ্যাকিংয়ের শিকার হন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

গত কয়েক বছরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে একের পর এক জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার ইস্যুটিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, রবিবার ৬৭ হাজার কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ৫০ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা এদিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন। ফ্রান্সে চলমান কর্মসংস্থানজনিত সংকটকে নির্বাচনি প্রচারণাতেও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে সেই বেকারত্ব ইস্যুও প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফ্রান্স। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে, ফ্রান্স ইইউ-তে থাকবে কি থাকবে না। ম্যাক্রন ইইউ-এর সমর্থক, কিন্তু লি পেন তার ঘোরতর বিরোধী। ইইউ-এর বিরুদে সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তার নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে, জয়ী হলে ব্রেক্সিটের মতো ফ্রেক্সিট বিষয়ে গণভোট দেবেন।

ব্রিটেনের ইস্ট অ্যাঙলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষক পিয়েরে বককিউলোন। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে ডানপন্থি দি রিপাবলিকানস পার্টি এবং মধ্য বামপন্থি সোশ্যালিস্ট পার্টি মোট গৃহীত ভোটের মাত্র ২৬ শতাংশ পেয়েছে। ফিফথ রিপাবলিকের ইতিহাসে এই দুই দলের সর্বনিম্ন ভোট পাওয়ার ঘটনা এটি।’ তিনি মনে করছেন, মূলধারার ওই রাজনীতিকরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। ক্ষমতায় গিয়ে একই ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারের চেয়েও বড় কথা হলো এটি সোশ্যালিস্ট পার্টি ও রিপাবলিকান ঐতিহ্যের পরাজয়।

 

 

ঢাকা/ এইচ আর