বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

এফবিআই–প্রধান কোমিকে সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-05-11 17:18:36

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে আরেক নাটক। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) প্রধান জেমস কোমিকে পদচ্যুত করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন নেতৃত্বে ব্যর্থতার কথা।

কোমিকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, এর আগে তিন-তিনবার কোমি আশ্বাস দিয়েছেন, এফবিআই গত বছরের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে যে তদন্ত করছে, তার লক্ষ্য তিনি (ট্রাম্প) নন। তা সত্ত্বেও কোমি এই বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম নন বিচার বিভাগের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত। ‘আপনাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো’, লিখেছেন ট্রাম্প।

কোমির এই পদচ্যুতি ওয়াশিংটনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলেছেন, এ ঘটনা প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে ১৯৭৩ সালে নিরপেক্ষ তদন্তকারী আর্চিবাল্ড কক্সকে যেভাবে পদচ্যুত করেছিলেন, তার সঙ্গে তুলনীয়।

রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের কথিত গোপন আঁতাত নিয়ে তদন্ত ভিন্ন খাতে চালাতে, অথবা তা পুরোপুরি বাদ দিতেই এ সিদ্ধান্ত এই যুক্তিতে সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার একজন নিরপেক্ষ তদন্তকারীর নিয়োগ দাবি করেছেন। এমনকি রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির রিপাবলিকান প্রধান সিনেটর রিচার্ড বার বলেছেন, যেভাবে এবং যে সময়ে কোমিকে পদচ্যুত করা হলো, তা উদ্বেগের।

বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল সার্ভার নিয়ে তদন্ত আবার শুরু করার ব্যাপারে কোমি প্রকাশ্যে যে তথ্য প্রকাশ করেন, তাতে সব প্রচলিত নীতির লঙ্ঘন ঘটেছে। সে কারণেই তাঁর পদচ্যুতির সুপারিশ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা বহুদিন থেকেই কোমির ব্যাপারে এই অভিযোগ করে আসছেন। হিলারি ক্লিনটন নিজেও নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেছেন ই-মেইল তদন্ত নিয়ে কোমির তৎপরতাকে।

কিন্তু নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে হিলারির ই-মেইল নিয়ে তদন্ত নতুন করে শুরু করার যে ঘোষণা কোমি দেন, তা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করে, কার্যত সে কথায় একমত পোষণ করে শপথ নেওয়ার দুই দিন পরেই ট্রাম্প এফবিআই-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে কোমিকে আমন্ত্রণ জানান।

গত সপ্তাহে সিনেটের গোয়েন্দা–বিষয়ক কমিটির সামনে কোমি যে সাক্ষ্য দেন, তাতে ভুল তথ্য দেওয়া ছিল কোমির পতনের আশু কারণ। সে সময় এফবিআই-প্রধান বলেছিলেন, হিলারির ব্যক্তিগত সহকারী হুমা আবেদিন তাঁর তৎকালীন স্বামী এন্থনি উইনারের ল্যাপটপে ‘হাজার হাজার’ ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন।

পরে জানা যায়, খুব স্বল্পসংখ্যক নতুন ই-মেইলই উইনারকে পাঠিয়েছিলেন আবেদিন। কোমির পদচ্যুতি অনুমোদন করে এক চিঠিতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোজেনস্টাইন বলেন, এই মিথ্যাচারের ফলে এফবিআইয়ের মর্যাদার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি কোমির পদচ্যুতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে হিলারির ই-মেইল তদন্ত আবার শুরু করার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে এই ব্যাখ্যায় সহমত প্রকাশ করে একজন নতুন এফবিআই-প্রধান নিয়োগের সুপারিশ করেছেন।

প্রকাশিত একাধিক সূত্র অনুসারে, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত আঁতাত নিয়ে এফবিআইয়ের অব্যাহত তদন্তে ট্রাম্প অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর মতে, হোয়াইট হাউসের তথ্য যেভাবে ফাঁস হয়েছে, তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তথ্য ফাঁসের ঘটনা আরও জোরেশোরে তদন্তের জন্য হোয়াইট হাউস কোমির ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল।

একাধিক ভাষ্যকার বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘আঁতাত’ নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই কোমিকে চাকরি খোয়াতে হলো। সিএনএনের আইন বিশেষজ্ঞ জেফরি টুবিন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কদর্যভাবে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর