বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৫ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

আইন, আইনজীবী ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

আনিচুল ইসলাম মঞ্জু | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-05-12 23:30:04

সাম্প্রতিক আইন শিক্ষার্থীদের নিয়েই যে বিষয় টা খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার,সেটা হলো আইন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। প্রতি বছর যে বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী আইনের পডাশোনা শেষ করে আইন পেশায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন,বা হতে ইচ্ছুক, সেটা কোন ভাবেই দমিয়ে রাখা যাবেনা।

আইন পেশায় সনদ দেওয়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল,যতই শর্তারোপ করোক না কেন,সব কিছু মেনেই আইনশিক্ষার্থীরা এই পেশায় আসবেই।
. প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ২বছরের পাশ কোর্স
. কিছু কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন না দেওয়া,
. প্রতিবছর পরীক্ষা না নিয়ে ২+ বছরে পরীক্ষা নেওয়া কিংবা
. সামান্য কোন কারনে পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া যদিও বা আইনশিক্ষার্থীদের কাছে কারন শো করছে।

কিন্তু বার কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ বা মূল বক্তব্যটাই হলো....
এত্তগুলো আইনজীবীরা কোথায় যাবে? কি করবে?পেশার কি অবস্থা হবে?ঢাকা বারে গত বারে সর্বোচ্ছ সংখ্যাক আইনজীবী অন্তর্ভূত হইছিলো,যার সংখ্যা ছিলো প্রায় ৪হাজার মাত্র।যা সব মিলিয়ে বর্তমান ঢাকা বারের সদস্যা ২৪ হাজারের মতো।আর এই ২৪ হাজার আইনজীবী হইছেন সেই ১৮৮৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত।
কিন্তু বর্তমানে ২০১৭ সালে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্যে পরীক্ষা দিবেন ৬০ হাজারের ও বেশি আইন শিক্ষার্থী।
এই ৬০ হাজার থেকে যদি ৫০% কেও পাশ করাতে হয়,তাইলে ৩০ হাজার আইনজীবী হবে, যা ঢাকা বারের মতো এশিয়ার বৃহত্তর বারের সুদীর্ঘ ১২৫ বছরে আইনজীবী হিসেবে সদস্য অন্তর্ভুক্তির চেয়েও বেশি।যেটা স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ভাবিয়ে তুলবে,কারণ একমাত্র বাংলাদেশে আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করে এই বার কাউন্সিল।

সেই কারনে আইনে এন্ট্রি লেভেলেই আইন শিক্ষার্থী কমিয়ে আনার জন্যে আইন পডাশোনার জন্যে নূন্যতম কোয়ালিফিকেশ ডাবল A+ সহ, সারাদেশে মেডিকেলের মতো একসাথে আইনশিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্যে (অকার্যকর) রোলিং দেওয়া হইছিলো।
আমরা নিজেদের স্বার্থ না দেখে দেশের কিংবা দেশের হয়ে যারা কাউন্সিলে কর্মরত আছেন,উনাদের সাইড থেকে যদি বিষয় গুলো নিয়ে চিন্তা করি, তাইলে নিজেদের প্রশ্নের অনেক গুলো জবাব পাওয়ার মাধ্যমে সন্তুষ্ট থাকবো।কিচ্ছুই করার নেই বার কাউন্সিলের।

বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী আইন শিক্ষা করাটা পজিটিভলিই নিতে পারবেন সম্মানিত রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা।

প্রতি বছর এই বিশাল শিক্ষার্থী আইনে স্নাতক /ডিগ্রী নেওয়ার মাধ্যমে আমাদের দেশের জন্যে বিশাল একটি সাইড সমৃদ্ধ করছেন আইন শিক্ষার্থীরা।
.একটি সমাজ উন্নতির ৫০% ই নির্ভর করে সমাজ/রাষ্ট্রের শৃংখলার উপর।আর শৃংখলা বলতেই বুঝি আইন মেনে চলা।আর আইন মেনে চলার জন্যেই প্রয়োজন
-আইন জানা,
-আইন অধ্যয়ন, &
-আইন গবেষণা।

দেশ উন্নয়নের ৫০% এর জন্যে প্রস্তুত বিশাল সংখ্যক আইন শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনায় কাজ করলে উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। আমাদের পার্শের একটি রাষ্ট্র আছে,যার লোক সংখ্যা কম,সম্পদ তেমন বেশি কিছু নেই।কিন্তু যা আছে তা নিয়েই সুন্দরভাবে, সুশৃঙ্খল ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম হয়েছেন একমাত্র আইন জানার মাধ্যমে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারনে।

আইন শিক্ষার্থীরা কেন শুধু আইনপেশার উপর নির্ভর করবে?রাষ্ট্রে আইন শিক্ষার্থীদের কাজ করার ক্ষেত্র অনেক ব্যাপক। আর আমাদের রাষ্ট্রের সম্মানিত নীতি নির্ধারকদেরই সেই ক্ষেত্রগুলো পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিতে হবে।

এই ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল সেক্টরে আরো বেশি জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের চিন্তাটা রাষ্ট্রের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের অন্যতম একটি প্রয়াস।

আশা করছি আমাদের সম্মানিত রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকগণ
-আরো বেশি চিন্তা করছেন,
-প্রতিটি সেক্টরে আইনকে শক্তিশালী করার জন্যে ভাবছেন।&
-যুগোপযোগী নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আইনশিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার উজ্জ্বল করার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা করছেন।

 

সর্বোপরি, আইনশিক্ষার্থীদের প্রতি...
আমি আইনে পডাশোনা করেছি,ভাল,ঠিক আছে। কিন্তু আমি কেনই শুধু আইনজীবী হওয়াটাকে চরম ও পরম লক্ষ্য উদ্দেশ্য হিসেবে ধরে নিই?

আইনে স্নাতক/ডিগ্রী করার পর -
-আইনজীবী হতে আরো ২-৩ বছর,সাথে এডভোকেট হওয়ার পরেও ৪/৫ বছরে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার বিষয়টা কেন শিক্ষার্থীদের ভাবিয়ে তুলে না? যেখানে অন্য ডিসিপ্লিনে পডা একজন EEE,BBA বা অন্য কোন বিষয়ে পডা শিক্ষার্থীর স্নাতক পাশ করার সাথে সাথেই কোন না কোন জবে জয়েন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে। বা BCS পরীক্ষায় ভাল করে ২/৩ বছরে নিজের ক্যারিয়ারের মোড ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।আর সেখানে আইন শিক্ষার্থীর ৬/৭ টি বছর যাবে প্রতিষ্ঠিত হতে।

আইন শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্রের সম্মানিত নীতিনির্ধারক উভয়ের স্বযত্ন সচেতনতাই পারে এই সমস্যাকে সম্ভাবনাময়ী করতে।

 


লেখক: আনিচুল ইসলাম মঞ্জু
শিক্ষার্থী,
মাস্টার্স
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।