বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

শরণার্থী শিশুদের ভয়াবহ বন্দিদশার গল্প

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-06-08 12:45:39

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে শরণার্থী শিশুরা খুব ভায়াবহ ও পীড়নকর বন্দিদশার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। দুটি দাতব্যপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকার জায়গা এত ছোট যে, শিশুদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। হাজারো শিশুর জন্য সেখানে যথেষ্ট স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়,  বৃহস্পতিবার (৮ জুন)  সেভ দ্য চিলড্রেন ও এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি রাইটস নেটওয়ার্কের এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় গত বছরের শেষের দিক পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০-এর অধিক শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী শিশু আটক অবস্থায় আছে। মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হাজারো মানুষ শরণার্থী হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ জন্য তারা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার প্রধান পথ হিসেবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ব্যবহার করে। চরম দারিদ্র্য ও নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হয়ে এসব মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে এখন অভিবাসনপ্রত্যাশী। প্রায়ই তারা মাঝপথে আটকে নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গ্রেপ্তার করে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের এশিয়া অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালক মাইক নভেল বলেন, ‘ওই শিশুদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিবেশ শিশুদের ওপর খুব বাজে প্রভাব রাখে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের সহিংসতা ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’

অভিবাসন নীতি ও কিছু আটক শিশুর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ ধরনের শিশুদের বেশির ভাগ সময় সম্পর্কহীন বয়স্ক মানুষের সঙ্গে আটক করে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের থেকে তাদের আলাদা রাখা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের শিশুদের খুবই ছোট্ট ও নোংরা পরিবেশে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়। তাদের বিছানার কোনো ব্যবস্থা নেই। সরাসরি মেঝেতে বা কার্ডবোর্ডের ওপর তাদের ঘুমাতে হয়। কখনো কখনো শিশুদের ছোট্ট সেলে রাখা হয়। সেখানে শান্তিমতো নিশ্বাস নেওয়া কষ্টকর। আর সেখানে এত গাদাগাদি করে থাকতে হয়, অনেকেই পা পুরো লম্বা করে ছড়িয়ে ঘুমাতে পারে না। এ ছাড়া তাদের যে খাবার খেতে দেওয়া হয়, তা খুবই বিস্বাদ হয়।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আটক ওই কিশোরীকে সেলের মধ্যে রাখা হয়েছে। সেখানে আরও ১৫০ জনের সঙ্গে তাকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়।

ওই কিশোরী জানিয়েছে, ‘সেখানকার পরিবেশ অনেক নোংরা ও জীবাণুতে ভরা। ভেতরে অনেক গরম আবহাওয়া। এ কারণে নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়।’

সেভ দ্য চিলড্রেন ও এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি রাইটস নেটওয়ার্ক বলছে, প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২০১৪ সালের চেয়ে ২০১৬ সালের শেষের দিকে এ ধরনের শিশু আটকের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে শিশুদের আটক করাও দেশগুলোর বন্ধ করা উচিত।

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর