শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

ইবির ডায়েরি প্রত্যাখ্যান করে জিয়া পরিষদের ৪দফা দাবী

ইবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-06-12 23:04:56

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক পকেট ডায়েরি প্রত্যাখ্যান করে ৪দফা দাবী পেশ করেছে ইবির বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’। সোমবার বেলা ১২টায় অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ দাবি জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তারা জানান, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ডায়েরির শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘শহীদ জিয়াউর রহমানে’র নাম ব্যবহার করে ডায়েরি প্রকাশ করা হয়ে আসছিল। কিন্তু ইসলামী ভাবধারা ও জিয়াউর রহমানের নামটি মুছে ফেলার লক্ষে বর্তমান ডায়েরি থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘জিয়া’র নাম বাদ দিয়েই তা প্রকাশ করেছে বর্তমান প্রশাসন।

এরূপ কর্মকান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের শামিল উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘৃণাভরে ডায়েরি প্রত্যাখ্যান করেন ‘জিয়া পরিষদ’। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অতিরাজনীতির ফল আখ্যা দিয়ে তারা বলেন, দীর্ঘ নয় বছর পর তারা ক্যাম্পস ছুটির মধ্যে চুপিসারে ডায়েরি প্রকাশ করেছে।

ডায়েরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ইতিহাস লুকানো ও বিকৃতি করে সেখানেও রাজনীতিকরণ করেছে অভিযোগ করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে এবং অসংখ্য বানান ভূল রয়েছে ডায়েরিতে। তারা বলেন অনতিবিলম্বে সম্পাদনা করে প্রকাশ না করা হলে জিয়া পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যে নিরবিচ্ছিন্ন সহযোগিতা করে আসছিল তা থেকে ফিরে আসবে বলেও হুুশয়ারি দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিমের সঞ্চালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন নি¤েœাক্ত ৪দফা দাবি পেশ করেন, প্রকাশিত ডায়েরিতে অনতিবিলম্বে বিতরণ বিপণন বন্ধ করতে হবে এবং বিতরণকৃত ডায়েরি প্রত্যাহার করতে হবে। আগামি ১৯ জুনের মধ্যে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘শহীদ জিয়াউর রহমানে’র নাম সম্বলিত ডায়েরি প্রকাশ করতে হবে। প্রকাশিত ডায়েরি প্রত্যাহার করে উক্ত ডায়েরির বিতরণ ও বিপণন বন্ধ করে শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম সম্বলিত ডায়েরি প্রকাশের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী ১৯জুনের পর জিয়া পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক সকল প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করবেন এবং ঈদুল ফিতরের পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১১জুন দীর্ঘ সাত বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি প্রকাশ করে ভিসি প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন। এতে বাদ দেয়া হয়েছে ডায়েরির শুরুতে লেখা ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘শহীদ জিয়াউর রহমানে’র নাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।

 

 

 

ঢাকা/ আতিক/ এইচ আর