শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

ট্রাম্প-মোদি বৈঠক: খুশি চীন, অখুশি পাকিস্তান

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-06-29 06:06:02

পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস তিন দেশ সফর শেষে বুধবার সকালে দেশে ফিরলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এ সফরের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বৈঠকের বিষয়টি। বৈঠক নিয়ে বিপরীতধর্মী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন ও পাকিস্তান।

চীনা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বেইজিংয়ের সরকারি দৈনিক পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস বলেছে, গত সোমবার দুই দেশের এ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ঘটা সম্পর্কের উন্নয়নকে স্বাগত জানায় চীন। তাদের মধ্যে সম্পর্কে ‘কখনোই উত্তম ছিল না’।

চায়নিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সের ইনস্টিটিউট অব আমেরিকান স্টাডিজের উপপরিচালক নি ফেং গত মঙ্গলবার গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ট্রাম্প ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে এক ইতিবাচক মোড় এনে দিয়েছেন। যদিও গত দশকজুড়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটছিল; তবু এই বৈঠকের আগ পর্যন্ত ভারতের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাব ছিল অস্পষ্ট। এখন তিনি এ সম্পর্ককে ইতিবাচক গতি দিয়েছেন।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ট্রাম্প মনে করেন একটি বড় শক্তি হিসেবে ভারতের দিকে তাঁর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন; যদিও তা চীন ও রাশিয়ার মতো তত নয়। এটা তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত। চীনকে নিবৃত্ত রাখতে ভারতকে নানাভাবে ব্যবহার করেছেন ওবামা।

চীনা রাষ্ট্রীয় পত্রিকাটির খবরে আরও বলা হয়, ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ চলার পর মোদি ও ট্রাম্পের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। চীনা বিশেষজ্ঞরা এ অনুমানও হালকাভাবে নিচ্ছেন যে চীনকে সংযত রাখতে ট্রাম্প ভারতকে ‘গুটি’ হিসেবে ব্যবহার করবেন। এর আগে গ্লোবাল টাইমস পত্রিকাই এক মতামত কলামে এ নিয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিল।

সাংহাই একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সের গবেষণা ফেলো এবং চীনের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপপরিচালক ও সেক্রেটারি জেনারেল হু ঝিয়ং বলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় একজন বাস্তবধর্মী ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্প চীন-সংক্রান্ত বিষয়কেই বেশি প্রাধান্য দেবেন। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কখনো সুষম ছিল না।

আগামী জুলাইয়ে ভারত ও জাপানের সঙ্গে এযাবৎকালের বৃহত্তম যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। হু এ মহড়াকে চীনের জন্য কোনো হুমকি বলে বিবেচনা করেন না। তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে ভারতের প্রতিবেশী হিসেবে চীন সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ভালো সম্পর্ক দেখে খুশিই হবে। কেননা, এমন সম্পর্ক চীনকেও সুবিধা এনে দিতে পারে।

এদিকে মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের ব্যাপারে চীনের প্রতিক্রিয়ার অনেকটা বিপরীত ভারতের বৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার মঙ্গলবার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘ভারতের ভাষায় কথা বলছে’।

বৈঠকের আগ দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা সৈয়দ সালাউদ্দিনকে একজন ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ পদক্ষেপকে ‘একেবারেই অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর। নিসার আরও বলেন, কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের তাঁর দেশ সমর্থন দিয়ে যাবে।

 

 

ঢাকা/ এইচ আর