বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

চট্টগ্রামে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি, ব্যবসায়ীদের ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-07-24 18:22:42

সোমবার (২৪ জুলাই) বিকেল তিনটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২০০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। সঙ্গে ছিল জোয়ার, পাহাড়ি ঢল ও উজান বেয়ে আসা পানি। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীর জনজীবন।

দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ-আসাদগঞ্জের নিচতলার আড়ত ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। আসাদগঞ্জ ও খাতুনগঞ্জের প্রধান সড়কের ওপর ছিল হাঁটুপানি। জোয়ারের পানি আটকানোর জন্য সামনে-পেছনে ইট-সিমেন্টের বাঁধ দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অনেকে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন পানি সেচে।

থাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ দাবি করেন, বৃহত্তর খাতুনগঞ্জের নিচতলার প্রায় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই পানি ঢুকে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পোষানো কঠিন।

গোসাইলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. আজম  বলেন, বাপদাদার ভিটেমাটি এখানে। এত পানি আগে দেখিনি। গাড়ির গ্যারেজে যখন হাঁটুপানি হলো তখনি দ্রুত গাড়ি বের করে নিয়েছি। রান্নাঘরে পানি, বসার ঘরে পানি, শোবার ঘরে পানি। চারদিকে পানি থই থই করছে।

সরকারি কমার্স কলেজ, এক্সেস রোড, শান্তিবাগ, বেপারিপাড়া, ছোটপুল, হালিশহর, ষোলশহর, প্রবর্তক, বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও, মোহরা সব জায়গাতেই হাঁটু থেকে কোমরপানি। এসব এলাকার কোথাও কোথাও নৌযানে করে যাত্রী পারাপার হতে দেখা গেছে। কোথাও আবার ভ্যানগাড়িতে কাঠের বেঞ্চ (টুল) বসিয়ে উপরে প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হয়েছে।

শুধু সড়ক নয়, বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, শিশুপার্ক বাদ যায়নি কিছুই। যথারীতি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালও হয়ে পড়ে পানিবন্দী। হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম মোরশেদ হোসেন  বলেন, আমরা হাসপাতালের চারপাশে অস্থায়ী একটি বাঁধ দিয়েছিলাম যাতে পানি ঢুকতে না পারে। এত বেশি বৃষ্টি হলো, এত বেশি উচ্চতায় জোয়ার এলো সেই বাঁধ উপচে হাঁটুপানি হয়ে গেল হাসপাতালের নিচতলায়। রোগীদের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আসবাবপত্র সব ভিজে গেল। অন্যান্য ফ্লোরের রোগী, স্বজন, ডাক্তারদের আসা-যাওয়ায় যথেষ্ট দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা প্রাকৃতিক সমস্যা। এটি আড়াল করার সুযোগ নেই। জলাবদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামকে মুক্ত করতে হলে সরকারকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। বরাদ্দ দিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।  (বাংলা নিউজ)

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর