সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

চবিতে ইন্টারনেট বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-08-01 14:55:28

তথ্য-প্রযুক্তির উত্কর্ষের যুগেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে না। নামেমাত্র ওয়াইফাই (তারবিহীন ইন্টারনেট) সেবা থাকলেও দুর্বল ফ্রিকোইন্সির কারণে বিড়ম্বনায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে ই-লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেবা উন্নয়নের জন্য বারবার আবেদন জানালেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বিকার।

জানা যায়, ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসের সব জায়গায় বিনামূল্যে ওয়াইফাই ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ শুরু হয়। ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার লক্ষে ২০১৪ সালে সম্পূর্ণ ক্যামপাসকে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু বাস্তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে দেওয়া হয় ইন্টারন্টে সংযোগ।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার, চাকসু ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থানে সংযোগের ছয় মাসের মধ্যে ওয়াইফাই রাউটারগুলো বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের দেওয়া ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট ও অনলাইনে বিভিন্ন বই খোঁজার জন্য শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের ওয়াইফাইগুলো বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড.কামরুল হুদা বলেন, আবাসিক হল এবং অনুষদের বাইরের ওয়াইফাই জোনগুলো বন্ধ করার একমাত্র কারণ বহিরাগতরা এসে ব্যবহার করে। তারা অনেক রাত পর্যন্ত ওয়াইফাই ব্যবহার করে এবং অনেক সময় তাদের মাধ্যমে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। এসব কথা ভেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এএফ রহমান হলের সোলেমান সালমান নামের ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, প্রথম দিকে হলের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক কাজ করলেও এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার পরও নেটওয়ার্ক পাই না। কি ধরনের সমস্যা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়াইফাই ওপেন করলেই লিমিট একসেস দেখায়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জালাল, শাহ আমানত, সোহরাওয়ার্দী, শহীদ আব্দুর রব হলে একাধিক ওয়াইফাই রাউটার (নেটওয়ার্কিং ডিভাইস) থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান, আলাওলসহ মেয়েদের তিনটি হলে একটি করে রাউটার দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়া হলের আবাসিক  শিক্ষার্থী হিরা মনি বলেন, যেসব হলে ছাত্র নেতারা থাকে সেসব হলে বেশি সংখ্যক ওয়াইফাই রাউটার দেওয়া আছে। মেয়েদের হলগুলোতে ইন্টারনেটের গতি এত কম যে কোনো ধরনের ফাইল খোলাও যায় না।

আলাওল হলের মামুন নামের আবাসিক ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, আমাদের হলে একটি মাত্র ওয়াইফাই রাউটার। ফলে আমরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় ফাইল ডাউনলোড, আপলোড ও অ্যাসাইনমেন্টের কাজ করতে পারছি না। আলাওল এবং এএফ রহমান হলে ওয়াইফাই রাউটার একটা করে কেন জানতে চাইলে এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের সাথে আমরা কথা বলেছি। এছাড়াও শাহজালাল ও সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট উপাচার্যের কাছে টাকা চাইলে টাকা পেয়ে যায়। আমরা চাইলে পাই না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম বলেন, হল কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে তাদের রাউটার প্রয়োজন তবে তারা আইসিটি সেন্টার বরাবর আবেদন করতে পারে। আবেদনের ভিত্তিতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ওয়াইফাই রাউটারের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়াও দুর্বল ফ্রিকোইন্সির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদেরকে যে রকম যন্ত্রাংশ দেওয়া হয়েছে সেই রকম ফ্রিকোইন্সির দেওয়া হচ্ছে। তবে উন্নত মানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে। (ইত্তেফাকের সৌজন্যে)

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর/ এ এম