শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষকদের দলাদলি চরমে

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-09-07 15:34:14

চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক পরিষদের নির্বাচন এলেই সক্রিয় হয়ে উঠে শিক্ষক রাজনীতি। নির্বাচনে জয় পরাজয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হন শিক্ষকরা। এবার নির্বাচনের পরে শিক্ষকদের মাঝে দলাদলী আরো ব্যাপক আকারে প্রকাশ পেয়েছে। একে অপরের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। নিরপেক্ষ শিক্ষকদের শরীরেও মাখিয়ে দেয়া হচ্ছে মিথ্যা রাজনৈতি পরিচয়। শুধু তাই নয় শিক্ষক পরিষদের নির্বাচনে এবার ছাত্র সংগঠনগুলোকেও ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

জানাযায়, গত ২৯ জুলাই শিক্ষক পরিষদ ও শিক্ষক ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার শিক্ষক পরিষদের নির্বাচনে ৪টি পদের মধ্যে নির্বাচন হয় সম্পাদক ও যুগ্ম-সম্পাদক (পুরুষ) পদে। অন্যরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনকে কেন্দ্র বর্তমান সরকার সমর্থিত শিক্ষকদের মাঝে বিভক্তি দেখা দেয়। এক পক্ষ সরকার দলীয় জেষ্ঠ্য শিক্ষকদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নেন। অন্য পক্ষ কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তীর পরোক্ষ সমর্থনে নির্বাচনে নামেন।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে উপাধ্যাক্ষ প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী পরোক্ষভাবে সমর্থন প্রদান করেন সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ এম এম মুজিবুর রহমান এবং যুগ্ম-সম্পাদক (পুরুষ) পদে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ বেলাল হোসেনকে। অন্যদিকে জেষ্ঠ্য শিক্ষকদের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন সম্পাদক পদে রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদ এবং যুগ্ম-সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। কিন্তু নির্বাচনে পরাজিত হন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তীর সমর্থনকারীরা। নির্বাচিতদের প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী মেনে নিলেও বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করেন পরাজিত শিক্ষকরা। তারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিতে শুরু করেন। এমনকি জাতীয় শোক দিবসে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলে ছাত্ররা জামেলা করবে বলে হুমকি দেয়। পরে জেষ্ঠ্য শিক্ষকদের পরামর্শে শোক দিবসের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকেন। অন্যদিকে শোক দিবস বর্জন করে অনুষ্ঠানস্থলে অনপুস্থিত থাকেন পরাজিত শিক্ষকরা। এছাড়া গত ৮ আগস্টে শিক্ষকদের দায়িত্ব গ্রহন অনুষ্ঠানেও বাধা দেয় তারা।

নাম প্রকাশ না করে এক জেষ্ঠ্য শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষক প্রতিনিধিদের জাতীয় শোক দিবসে স্টেজে উঠতে না দেয়া এবং শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির পেছনে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তীর হাত রয়েছে। তিনি প্ররোক্ষভাবে শিক্ষক ও ছাত্রদের মদদ দিয়েছেন। এমনকি নির্বাচনের আগে ড. এ কে এম সামছুদ্দিন আজাদ এবং মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে নির্বাচন বর্জন করার জন্য ছাত্রদের দিয়ে মুঠোফোনে হুমকি প্রদান করান। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে থেকে তিনি যদি পক্ষপাত আচরণ করেন তাহলে শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি আরো বেড়ে যাবে।’

এ বিষয়ে  উপাধ্যক্ষ প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, ‘চট্টগ্রামে কলেজে শিক্ষকদের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমার অনুসারী বা আমি নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দিয়েছে এটা ভুল ধারণা। তবে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় পড়েছি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলেজের অধ্যক্ষ ও কিছু শিক্ষকদের মাঝে বিরুধী বলয় সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জেসমনি আক্তার হজ্ব পালনে দেশের বাইরে থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী।

 

 

 

ঢাকা/ একে