রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

হাম ও এইডসে আক্রান্ত রোহিঙ্গা রোগী শনাক্ত

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-09-16 14:05:49

আহত ও অসুস্থ রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪ জনকে শনাক্ত করা গেছে, যারা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। হাম, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস বি ও সি এমনকি এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত রোগীও পেয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এসব রোগী চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে তথ্য জানা গেছে

আক্রান্ত রোগীদের সবাই গত ২৫ আগস্টের পর সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। শনাক্ত হওয়া ১৪ রোহিঙ্গার মধ্যে হামে আক্রান্ত শিশু উখিয়ায়, হেপাটাইটিস বি সিতে আক্রান্ত জন টেকনাফে এবং এইচআইভি শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি কক্সবাজারে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত জন টেকনাফ কক্সবাজারে চিকিৎসা নিচ্ছেন

বিষয়ে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন মো. আবদুস সালাম বলেন, বেশির ভাগ রোহিঙ্গা শিশু অপুষ্টির শিকার। তাদের অনেকে হাম, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। টেকনাফ উখিয়ার সব রোহিঙ্গা শিশুকে হাম পোলিও টিকা দেওয়ার পাশাপাশি ভিটামিনক্যাপসুল খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে

টেকনাফের ৫০ শয্যার হাসপাতালে গতকাল ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি রোহিঙ্গা। ভর্তি হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে জন যক্ষ্মা জন জন্ডিসের রোগী পাওয়া গেছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা চিকিৎসাসেবা পায় না বললেই চলে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম সেখানে খুবই নাজুক। রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে হাম, ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগের ঝুঁকি রয়েছে। হাম, যক্ষ্মার মতো রোগ বাতাসে কফ কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে রোহিঙ্গা শিশুরা টিকার আওতার বাইরে থেকে যেতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের রেখে টিকা দেওয়া না গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, যা টেকনাফ উখিয়ার সব মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে

বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে পাঠানো হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৬ আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে ১১২ রোহিঙ্গা রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ জন গুলিবিদ্ধ আগুনে পোড়া। বাকিদের কেউ পেট বুকে ব্যথা, জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আসা দুই রোহিঙ্গা রোগী মারা গেছে। তাদের একজন গুলিবিদ্ধ ছিল। চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছে ২৬ জন। ১৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে রোহিঙ্গা রোগী ছিল ৮৪ জন

১১ সেপ্টেম্বর শাহানা নামের ৪০ দিনের একটি শিশু জ্বর নিয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। ১৫ দিন আগে শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে সীমান্ত পার হয়। তারা টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনির এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠে প্রথমে। শিশুটির বাবা মো. হারুন বলেন, মিয়ানমারের মংগদুর বাড়িতে ধাত্রীর হাতে তাঁর মেয়ের জন্ম হয়। এখন পর্যন্ত কোনো টিকা দেওয়া হয়নি শিশুটিকে

পোলিও, যক্ষ্মা হামের মতো সংক্রমণ রোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা এইচআইভি/এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানান। তাঁরা বলেন, মিয়ানমারে বাংলাদেশের চেয়ে এইচআইভি-আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অরক্ষিত যৌনাচার রয়েছে। ছাড়া রোহিঙ্গা নারীদের অনেকে যৌন হয়রানির শিকার। এই জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত

চট্টগ্রাম বিভাগে এইচআইভি-আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা দেয় বেসরকারি সংস্থা আশার আলো সোসাইটি। সোসাইটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীনে এখন এইচআইভি-আক্রান্ত ৫০৮ জন রোগী রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জন রোহিঙ্গা বলে জানান সোসাইটির বিভাগীয় সমন্বয়ক হাফিজ আহমেদ। তিনি বলেন, আক্রান্ত রোহিঙ্গারা কয়েক বছর আগে এসেছে। সর্বশেষ বুধবার কক্সবাজারে একজন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছেন

চট্টগ্রাম বিভাগে এইডস-আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে টেকনাফ অঞ্চলের রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানান এইডস রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিউ এম সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখন যে হারে রোহিঙ্গারা আসছে, তাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে রাখা জরুরি। কারণ, মিয়ানমারে এইডস রোগী অনেক বেশি

এদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকার দুটি ইউনিয়নেও বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান জেলার সিভিল সার্জন অংশুই প্রু মারমা। তিনি বলেন, ঘুনধুম এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গারা আসছে। সেখানে অনেক রোহিঙ্গা রয়েছে। তাই ওই এলাকায় কক্সবাজারের মতো ১৫ বছরের নিচের সব শিশুর জন্য টিকা কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করবেন তাঁরা(প্রথম আলো)

 

 

 

ঢাকা/ এইচ আর