শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

শাবিতে গ্রুপিং-সংঘর্ষে ছাত্রলীগ, ঘুমিয়ে ছাত্রদল, সুযোগ সন্ধানে শিবির

জুনেদ আহমদ | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2017-12-22 18:19:03

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ রাজনীতির একক আধিপত্য। শিবির চক্র ক্যাম্পাস ছাড়া। ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি একেবারেই দূর্বল। ফলে ছাত্রলীগ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ক্যাম্পাস রাজনীতি। অথচ এই ছাত্রলীগ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত ।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হওয়ায় বারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে কর্মীরা। তুচ্ছ ঘটনায় গ্রুপে-উপগ্রুপে, ব্যক্তিস্বার্থে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে তারা। এসব কর্মকান্ডে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তি দেয়ার পরও থামছে না তারা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে একটি দুটি নয় শাবিতে ছাত্রলীগের গ্রুপ রয়েছে ছয়টি। সাবেক সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ গ্রুপ,সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সাইদ আকন্দ গ্রুপ, সহ সভাপতি অঞ্জন রায় গ্রুপ, সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান গ্রুপ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সবুজ গ্রুপ, এছাড়া সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা উত্তম কুমার দাস, হাফিজ নিজ নিজ নামে পরিচালিত দুটি গ্রুপ।

এ বছর নানা অঘটনের জন্মদিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের গ্রুপিং। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এই ইউনিট কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।

বছরের শুরুতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ৩১ জানুয়ারি শাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ এবং সহ- সভাপতি অঞ্জন রায় এ দুটি গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় একপক্ষ মামলা দায়েরের দু’দিন পর অন্যপক্ষ মামলা দায়ের করে।

এছাড়া প্রধান ফটকে শাখা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশিকুজ্জামান রূপককে মারধরের ঘটনায় ২ মার্চ রাতে শাহপরাণ হলে সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের গ্রুপ ও যুগ্ম সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজের গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গত ২২ জুলাই সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় শাহপরাণ হলে ইমরান খান নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি রুম ভাংচুর করেন সবুজের কর্মীরা। এতে জাহিদ হোসেন নাঈমসহ অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের চার কর্মীকে বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজের অনুসারী।

গত ২ আগস্ট রাতে হলের কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে  সংঘর্ষে জড়িয়েছে  শাখা ছাত্রলীগের ভার্রপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন গ্রুপ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ গ্রুপ।। এসময়  ৪ জন আহত হন।  এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভুল বুঝাবুঝির কারণেই সংঘর্ষ হয়েছিল বললেও এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সবুজ।

এ বছরে সংঘর্ষে স্বর্ণযুগ পার করেছে শাবি ছাত্রলীগ, অন্যদিকে সাংগঠনিক শক্তি একেবারেই দূর্বলতার কারণে ক্যাম্পাসে কেন্দ্র ঘোষিত কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের। বড় দুটি ছাত্র সংগঠনে অন্তদ্বর্ন্দ্ব থাকায় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে নানা ফন্দি-ফিকির আঁটছে শিবির।

ছাত্রলীগের একাধিক গ্রুপের নেতা কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ায় গ্রুপ-উপগ্রুপ সৃষ্টি অব্যাহত। এতে করে গ্রুপ গুলোর মধ্যে এ বছর পাল্টাপাল্টি শোডাউন-সংঘর্ষ-হাতাহাতিতে প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

এদিকে শাখা ছাত্রলীগের দাবি কমিটি যে সময়ই হোক না কেন কমিটিতে যেন আদুভাই, বিবাহিতদের পরিবর্তে সৎ, মেধাবী, যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের ঠাঁই দেয়া হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে কমিটি হলেও যেন ত্যাগী নেতারা প্রাধান্য দেয়া হয় তার দাবি করছেন কর্মীরা।

এসব বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমি দায়িত্বে আসার পর ক্যাম্পাসে এমন পরিস্তিতি আর হয়নি,যদি পরবর্তিতে কেউ ক্যাম্পাসে গ্রুপিং সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

 

 

 

ঢাকা/একে