রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮, ৭ মাঘ ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

শুভ জন্মদিন হে জননেতা ওবায়েদুল কাদের

আবু বকর ছিদ্দিক রাহাত | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-01-01 17:45:48

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়েন। ফজরের নামাজ শেষ করে প্রথমে শারীরিক ব্যায়াম তারপর জনপদের সাধারন মানুষদের সাথে এক কাতারে বসে টংয়ের দোকানে নাস্তা। এরপর তাদের সাথেই একসাথে বসে আড্ডা সারিয়ে বেরিয়ে পড়েন এলাকার সড়ক পরিদর্শনে।

এর মধ্যে ৮.৩০ বা ৯ টা বেজে গেলে গোসল সারিয়ে প্রস্তুত হয়ে যান সরকারী ডিউটিতে। অফিসের কাজ শেষ করে আবারো সড়কে। কোথায় কোন গর্ত অবৈধ দখল বা রাস্তার বেহাল অবস্থা থাকলে সেটা অতিদ্রুত সারিয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিআরটিএ’তে। সেখানে গিয়ে সরাসরি সাধারন মানুষের সাথেই কথা বলে খবর নেন তাদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছে কিনা। কোন অভিযোগ পেলে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা। বিকেল হতেই সময় কাটে রাজনৈতিক কার্যালয়ে। যার শেষটা হয়তো নিদিষ্ট করে কারোরই জানা নেই। এভাবেই দিন কেটে যায় তার। রাতে আবার সময় পেলে লেখালেখির কাজটা করে নেন। বলছিলাম বাংলাদেশের ‘নায়ক ফাটাকেষ্ট’ খ্যাত সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জননেতা ওয়ায়েদুল কাদেরের কথা। যিনি সাধারন মানুষদের কাছে ‘জননেতা’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের পরিশ্রমী ও জনপ্রিয় মন্ত্রী ও জননেতা কে ? এ প্রশ্ন যদি তরুনদের করা হয় তারা অকপটে তার নামটি বলে দিবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। অন্তত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কারন নগর থেকে ২২ কিলোমিটার দুরের একটি ক্যাম্পাসের যাতায়াতের সময় দেড় ঘন্টা থেকে ৩০ মিনিটে নিয়ে আসা তার অন্যতম অবদান। সেই অবদানের আরেক ভাগিদার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়্যারমান অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ। এ দুজনের সার্বিক প্রচেষ্টায় এক লেনের হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়ক এখন চার লেন হাইওয়ে।

আজ ১লা জানুয়ারী এ জননেতার জন্মদিন। প্রথমেই তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। ১৯৫০ সালের এ দিনে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। বাবা মোশারফ হোসেন  একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ওবায়েদুল কাদের বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন। অতঃপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারা বরণ করেন। ১৯৭৫ এর পর এক নাগাড়ে দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বিগত ১২ জুন ’৯৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৩ জুন ’৯৬ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিনে যুব ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের দায়িতপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। ২০০২ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন থেকে ২০০৯-এর সম্মেলন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তিনি ২০০৭ সালের ৯ মার্চ জরুরি বিধিতে গ্রেফতার হলে ১৭ মাস ২৬ দিন কারাবরণ করেন। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। কারাগারে থাকাকালে কারাজীবনের বর্ণনা দিয়ে “অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি” বইটি লেখেন। তিনি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মত নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োপ্রাপ্ত হন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

হে মাননীয় মন্ত্রী, ৬৮ তম জন্মদিনে আপনাকে জানাই অনেক শুভেচ্ছা। দুর্নীতির কালো গ্রাসে যেখানে প্রশাসন অন্ধকার, যুব সমাজ যেখানে বেকারত্বের বোঝায় একেবারেই মৃতপ্রায়, জনমানুষের চোখে মুখে যখন হতাশার চাদরে মোড়ানো তখন আপনার মত মানুষই আমাদের ভরসা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সড়ক দেখে এখন আর আমাদের সেই সড়কে চলার স্বপ্ন বুনতে হয় না কারন এখন আমাদের আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। চীন জাপানের বড় বড় সেতুগুলো এখন আর আমাদের অবাক করে না। কারন পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক হানাহানিতে এখন আর মানুষকে মরতে হয় না। কারন আপনি দেখিয়ে দিয়েছেন ভালবেসে কাজ করে মানুষের সমর্থন নেয়া যায়। দুর্নীতির চ্যাম্পিয়রশিপে এখন আর আমাদের নাম আসে না। কারন আপনার মত মন্ত্রী আমাদের আছে।

আপনার আনন্দের এই দিনে দীর্ঘায়ু কামনা করছি। দোয়া করি, যতদিন বেচে থাকবেন মানুষের ভালবাসা আপনার সাথে থাকবে। জননেতা হয়েই থাকবেন।

 

 

 

লেখক : সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি