শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

ইবিতে প্রশ্নফাঁস, পুনরায় ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

ইবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-01-13 18:40:49

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি বাতিলকৃত শিক্ষার্থীরা আবারও ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যেমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,‘মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ৩৩১৯/২০১৭ এবং মহামান্য আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিভিল আপিল নং ৪২৪/২০১৭ এর আদেশ মোতাবেক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ‘এফ” ইউনিটভূক্ত পরিসংখ্যান ও গণিত বিভাগে ভর্তিকৃত ও পরবর্তীতে ভর্তি বাতিলকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে একই শিক্ষাবর্ষে ২য় বার অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে ভর্তি হয়েছে তারা ব্যতিত উক্ত শিক্ষাবর্ষের অবশিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির অনুমতি দেয়া হলো। উক্ত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আগামী ১৫-০১-২০১৮ হতে ২১-০১-২০১৮ তারিখের মধ্যে (অফিস চলাকালীন সময়ে) সংশ্লিষ্ট বিভাগ হতে নির্ধারিত ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে,‘মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ও মহামান্য আপিল বিভাগ-এর সংশ্লিষ্ট মামলার রায়ের নির্দেশনা মোতাবেক এ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত প্রকৃত দোষী ব্যক্তি চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ২২নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভূক্ত ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিন্ধান্ত অবৈধ বলে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এর আগে গত ১৭এপ্রিল রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ইবি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ইবির ‘এফ’ ইউনিটের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সালের ১৬জানুয়ারী ১’শ শিক্ষার্থী ওই ইউনিটভুক্ত পরিসংখ্যান ও গণিত দুটি বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার পর ওই বছরের ৬মার্চ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তিকৃত ৮৮শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৩মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ সিন্ডিকেটের সিন্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করেন। এর মধ্যে ১৬ মার্চ এফ ইউনিটের আবার পরীক্ষা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর রুলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই রুল যথাযথ ঘোষনা করেন। ফলে ১৬ জানুয়ারি ভর্তি হওয়া ১’শ শিক্ষার্থী পুররায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

 

 

 

 

ঢাকা/অনি আতিকুর রহমান/একে