শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

রাবিতে ‘উড়ো চিঠি’: তদন্ত কমিটি গঠন

রাবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-02-03 17:25:26

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিস বিভাগের দুই শিক্ষার্থী তাদের শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বেশ কয়েক দিন ধরে। তারা হলেন এমবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শহিদুল ইসলাম ও বিবিএ চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী বছির উদ্দীন। তাদের স্বাক্ষর করা  একটি ‘উড়ো চিঠি’ পাঠানো হয় বিভাগের সিনিয়র শিক্ষকদের কাছে। তবে তাদের দাবি চিঠিতে যে স্বাক্ষর তা তাদের নয়।

এদিকে তারা নগরীর মতিহার থানায় পৃথক দুইটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তাদের স্বাক্ষর জাল করে কে বা কারা এই কাজ করেছে তারা কিছুই জানে না। যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই প্রত্যাশা অভিযোগকারীদের। 

শনিবার দুপুরে লিখিত বক্তব্যে দুই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (১লা ফেব্রুয়ারি) আমরা জানতে পারি, আমাদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষকের নিকট পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আমরা চিঠির একটি কপি সংগ্রহ করে বুঝতে পারি, চিঠিতে আমাদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।’

প্রচারিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান চৌধুরী, ড. জিন্নাত আরা বেগম, ড. হাসনা হেনা এবং ড. সাইফুল ইসলাম শ্রেণি প্রতিনিধিদের হুমকি-ধামকি দিয়ে বিভাগের স্বার্থ-বিরুদ্ধ কাজে সংশ্লিষ্ট করেছেন। তাদের একাডেমিক জীবনের ভয় ভীতিকে পুঁজি করে নানাধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করেছেন।’

ওই চিঠির সঙ্গে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে ওই দুই শিক্ষার্থী শহিদুল ও বছির বলেন, ‘চিঠিতে উল্লিখিত শিক্ষকগণ কখনোই তাদেরকে কোন প্রকার অনৈতিক দিক-নির্দেশনা প্রদান করেননি এবং চিঠিতে উল্লেখিত কার্যক্রমের সঙ্গে তারা কোনোভাবে সম্পৃক্ত নয়। চিঠিতে যে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে তা জাল। ‘বছির’ এর নাম ‘বসির’ লেখা হয়েছে। প্রচারিত চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট অফিস থেকে প্রেরণ করা হয়েছে তবে চিঠির খামে কোন প্রেরকের ঠিকানা উল্লেখিত ছিল না।’

চিঠিকে ‘উড়ো চিঠি’ দাবি করে শিক্ষার্থীরা দাবি করে বলেন, ‘চিঠির উৎস, প্রচার ও প্রসার সম্পর্কে তারা অবগত নন এবং চিঠিতে উল্লিখিত কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ও জড়িত নই। গত বছরের ২৬ নভেম্বর বিভাগের সভাপতি আমাদেরকে ডেকে বেনামী লিফলেটের বিষয়টি জানতে চাইলে আমরা তখনই বিষয়টি অবগত হই। এরপর ডিসেম্বরে আমরা লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করি। উড়ো চিঠিতে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করায় শুক্রবার রাতে নগরীর মতিহার থানায় পৃথকভাবে দুইটি সাধারণ ডায়েরি করেন তারা।

এর আগে অধ্যাপক সোলাইমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তার নিজ বিভাগের একজন সিনিয়র অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে আপত্তিকর তথ্য বেনামে লিফলেট আকারে ছড়ানোর অভিযোগে অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশে গত ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৪৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়। ঘটনা তদন্তে সিন্ডিকেট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এসএম আবু বকর ও সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবিউল ইসলামকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত চার শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বিভাগে শূন্য পদে নিয়োগ নিয়ে যে ঝামেলা তৈরি হয় তার কারণে বিভাগে একের পর এক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যা নিয়ে বলতে গেলে অনেকগুলো দিক চলে আসবে। দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার কারণে কেউ হয়তো এটা করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে এটা তো পরিষ্কার হলো যে, আমরা কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নই।’

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি ড. জাফর সাদিক বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এখনই আমার কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের এখানে ভয় পাবার কিছু নেই। তারা যদি জড়িত না থাকে তাদের কিছুই হবে না। তবে তদন্ত শেষ না পর্যন্ত শ্রেণি প্রতিনিধিদের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। 

 

 

ঢাকা/মাহফুজ মুন্না/একে