শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

কুবি ছাত্রীকে প্রকাশ্যে যৌন হয়রানি, বিচারে গড়িমসি !

কুবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-03-01 19:21:36

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত একই বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমীদ পলাশ (২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ) চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। 

তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির শিকার ঐ ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনও পর্যন্ত বিচারে কোনও ধরনের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সম্পর্কিত বিচারালয় ‘যৌন নির্যাতন সেল’ গঠনের কাজও আটকে আছে উপাচার্যের স্বাক্ষর না হওয়াতে। এতে করে ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী মানসিকভাবে চরম ভেঙ্গে পড়েছেন এবং বিচার পাবেন কি না- এ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী জানান, ‘আমাদের চারপাশে এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। কিন্তু পুরুষশাসিত এই সমাজে মেয়েরা নিজেদের কোণঠাসা ভেবে বিচার চাইতেও আসে না। সেই যায়গা থেকে আমি প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখেই বিচার চেয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত লিখিত অভিযোগের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন আমাকে শুধু আশ^াসের ওপরই রাখছেন।’

এছাড়াও তিনি জানান, ‘আগামি ৪ মার্চ আমার চূড়ান্ত পরীক্ষা। এ অবস্থায় পড়াশোনায় মনোনিবেশ করাও আমার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা। অথচ যে আমার সাথে এ ধরনের ঘৃণ্য আচরণ করেছে সে দিব্যি পরীক্ষা দিচ্ছে! প্রশাসন যদি এই ঘটনার বিচার করতে অক্ষম হয় তবে বলে দিক, আর কোনও মেয়ে যাতে তাদের কাছে কোনো বিচার চাইতে না আসে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার একাধিক সহপাঠী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের কাজ যে করেছে সে যৌন নিপীড়ক কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নেয়? সে (ভুক্তভোগী ছাত্রী) চরম হতাশ হয়ে একবার (১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি) অতিমাত্রায় ঘুমের ঔষধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। এখন বিচার হচ্ছেনা দেখে যদি সে আবার এর চেয়েও ভয়ানক কিছু করে তাহলে এর দায়ভার কে নিবে?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তাহমীদ পলাশ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি প্রক্টরের কাছে জবানবন্দি দিয়েছি। আপনি সেখান থেকে সংগ্রহ করেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে যৌন হয়রানির মতো অভিযোগে অভিযুক্ত কোনও শিক্ষার্থীকে বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি শামীমা নাসরীন জানান, ‘তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে সেটা যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় ততক্ষণ আমরা তাকে বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পারবো না।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে দিবালোকে যৌন হয়রানির বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ঐ ছাত্রী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ৮ ফেব্রুয়ারি নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহমীদ পলাশ আমাকে প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে তার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর কু-প্রস্তাব দেন...যেগুলো আমি আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে রেকর্ড করে রাখি।’

তার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি উভয়ের জবানবন্দি নেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছ থেকে এ সম্পর্কিত মোবাইল রেকর্ড ও ফেসবুক স্ক্রিনশট নেন। তবে তারা এখনও কোনও প্রতিবেদন জমা দেননি। এ বিষয়ে প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা উভয়ের জবানবন্দি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করেছি। উপাচার্য গত ২ কার্যদিবস ক্যাম্পাসে না থাকায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে বিশ^বিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করতে চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

 

ঢাকা/মাহফুজ কিশোর/একে