রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

ইবিতে গ্রুপ পরিবর্তন করায় দলীয় কর্মীকে ছাত্রলীগের পিটুনী

ইবি প্রতিনিধি- | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-03-07 20:46:05

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ পরিবর্তন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ দলের কর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পরে মারধোরের শিকার আশিক আরাফাতকে আহত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি কারা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ কর্মী রিজভী আহমেদ পাপন, জুলকার নাইম, লিংকন আহমেদের নেতৃত্বে মোস্তফা, রাব্বি, বিল্লাল, বহিরাগত নয়নসহ ৮-১০ জন কর্মী আশিকের উপর রড দিয়ে অতর্কিত হামলা করে। তারা আশিককে রড দিয়ে উপর্যপুরি মারতে থাকে। আশিক সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তার বন্ধুরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করে বলে জানা যায়। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

জানা যায়, আশিক লোক-প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। সে বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম গ্রুপের কর্মী। এদিকে আশিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে তার গ্রুপ পরিবর্তন করার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের কর্মী ছিল তার কিছুদিন পর নতুন কমিটি হলে সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে হামলার এই বিষয়টি শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবেক নেতারা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘একজন কর্মী গ্রুপ পরিবর্তন করতেই পারে। সে তো আর শিবির কিংবা জঙ্গী সংগঠনে যাচ্ছে না। তাই বলে তাকে এভাবে মারধর করা ছাত্রলীগের জন্যই আত্মঘাতী।’

হামলার শিকার আশিক আরাফাত বলেন, ‘আমি লাইব্রেরীর সামনে দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলাম। এসময় তারা আমার উপর অতর্কিত হামলা করে।’ মারধর করার কারন জানতে চাইলে সে বলে ‘আমাকে শাহিন ভাই (সভাপতি) কিছুদিন আগে নিজেই একবার বলেছে তুই ভাল হয়ে যা। তা না হলে ক্যাম্পাসে অস্তিত্ব থাকবে না। সেই ঘটনায় আমি ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু আমাকে কেন আবার মারা হলো আমি জানিনা।’

এদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ই আশিককে নিজ গ্রুপের কর্মী হিসেবে অস্বীকার করেছ। তারা উভয়ই বলেন সে আগে আমার গ্রুপে থাকলেও এখন আমার গ্রুপে নেই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আহত ছাত্রের চিকিৎসা চলছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/অনি/ এ আর