রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

চলে গেলেন কালের নায়ক স্টিফেন হকিং

ডেস্ক রিপোর্ট | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-03-14 20:15:26

চলে গেলেন আমাদের কালের নায়ক স্যার স্টিফেন উইলিয়াম হকিং। তিনি জন্মেছেন ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি, গ্যালিলিও গ্যালিলির মৃত্যুর ৩০০ বছর পর, ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরে।

ডাক্তার পিতার খায়েশ ছিল স্টিফেনকেও তিনি ডাক্তার বানাবেন। তাই হকিং যখন ঘোষণা করলেন, তিনি পড়তে চান পদার্থবিদ্যা কিংবা গণিত, তখন পুত্রের ভবিষ্যৎ ভেবে আতঙ্কিত হলেন ফ্রাঙ্ক। তাঁর ধারণা ছিল, ওই সব পড়লে স্টিফেনকে আজীবন বেকার থাকতে হবে।

স্বভাবের দিক থেকে ছোটবেলা থেকেই হকিং ছিলেন খুব দুরন্ত। ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করাটা রীতিমতো অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। হকিং রেডিও খুলে তার ভেতরটা দেখতেন বোঝার জন্য নয়। হকিং আসলে আর সব বাচ্চার মতোই কাজটি করতেন। স্কুলের শিক্ষকেরা তাঁকে সাধারণের ওপরে স্থান দিতেন। আর দশজনের সঙ্গে তাঁর একটি পার্থক্য সে সময় ছিল, হকিং কেন জানি উচ্চাঙ্গসংগীত পছন্দ করতেন! সেন্ট অ্যালবা থেকে অক্সফোর্ডে পড়তে এসে হকিং মোটামুটি জনপ্রিয় ছাত্র হয়ে ওঠেন। স্বভাবের কারণে। ছাত্রটি বাচাল ও দুষ্ট, কিন্তু পড়াশোনায় ভালো। কাজেই শিক্ষকেরাও তাঁকে পছন্দ করতেন। ইচ্ছে ছিল অনার্স শেষে কেমব্রিজে যাবেন। শেষ পরীক্ষায় ভাইভা বোর্ডে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে গিয়ে হকিং বললেন, ‘আমি যদি প্রথম শ্রেণি পাই, তাহলে কেমব্রিজে চলে যাব। নতুবা কিন্তু এখানেই থাকব।’ ভাবখানা এমন, অক্সফোর্ডে থেকে মাস্টারদের অনেক জ্বালাব! অতএব একটা প্রথম শ্রেণি ও কেমব্রিজ।

আজ হকিংয়ের জন্য এই লেখা লিখতে গিয়ে প্রথমেই মনে হচ্ছে, আর দুই-তিন বছর বাঁচলে কী ক্ষতি হতো?

এমনিতে মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার পর ৫৪ বছর বেঁচে থাকাটাই একটা রেকর্ড। এমনকি ১৯৬৪ সালে জেন ওয়াইল্ডের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিবাহের সময় বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। কারণ, দুই পরিবারের সবাই জানতেই লাঠিতে ভর দিয়ে বরের পোশাক পরা ২২ বছরের যুবকটি আর কিছুদিন বাঁচবেন। কিন্তু প্রকৃতির চিন্তা ছিল ভিন্ন। কারণ, এর কদিন আগেই রেজার পেনরোজের সঙ্গে মিলে হকিং দেখিয়েছেন তাঁর মেধার প্রথম স্বাক্ষর।
ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম
১৯৮৮ সালে স্টিফেন হকিংয়ের ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম—ফরম দ্য বিগ ব্যাং টু ব্ল্যাকহোলস’ প্রকাশিত হয়। বিশ্বজুড়ে আজ পর্যন্ত এক কোটি কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। এখনো প্রতি মাসে সারা বিশ্বে এর প্রায় ৫ হাজার কপি বিক্রি হয়। প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকায় ৪০ হাজার কপি বিক্রি হয়েছিল। ফলে দুটো উল্টো ছাপানো ছবিসহ ওই মার্কিন সংস্করণ সংশোধনের আগেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়! বিজ্ঞানের দুরূহতম বিষয়ের এমন সহজবোধ্য বই এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি বলে ধারণা করা হয়। যদিও জটিল বিষয়বস্তুর কারণে অনেকেই বেশি দূর এগোতে পারেন না। এই বইয়ের শেষে হকিং তিনজন বিজ্ঞানী সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। গ্যালিলিও, নিউটন ও আইনস্টাইন। দুর্জনেরা বলেন, আগামী দিনের ব্রিফ হিস্ট্রিতে থাকবে চারটি জীবনী। চতুর্থটি হবে হকিংয়ের।

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/ এআর