শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

বাস চাপায় কুবি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত; ক্ষোভে ফোঁসছেন শিক্ষার্থীরা

কুবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-03-29 23:31:13

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভাড়া করা বিআরটিসি বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিহাব উদ্দীন নামের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ কোটবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তাকে আহত অবস্থায় কুমিল্লার টাওয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয় প্রক্টর। বিআরটিসির ঐ বেপরোয়া বাসচালকের নাম হাসান মতিউর রহমান, তার বাসের নাম্বার ৪৯৭৬।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে কান্দিরপাড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী বাসে করে ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য শিহাবসহ তার বন্ধুরা কোটবাড়ি পয়েন্টে দাঁড়ায়। বাস পয়েন্টে আসলে তারা সবাই থামার জন্য ইশারা করলেও বাস না থামিয়ে গতি একটু ধীর করেন চালক হাসান মতিউর রহমান। এ অবস্থায় তারা বাসে ওঠতে গেলে চলন্ত বাসে তাল সামলাতে না পেরে পা পিছলে বাসের নিচে পড়ে যান শিহাব। তার ডান পা এবং হাতের ওপর দিয়ে বাসের চাকা চলে যায়। ঘটনার পর তাকে কুমিল্লার টাওয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং ডান পায়ের পাতা থেতলে গেছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়।

বাসচালক হাসান মতিউর রহমান বলেন, ‘গাড়িতে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। দরজায়ও শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে ছিল যার কারনে লোকিং গ্লাসও দেখতে পারিনি। আবার কয়েকজন শিক্ষার্থী বলল বাস টানার জন্য। তাই বাস না থামিয়ে ধীরগতিতে পয়েন্ট পার হচ্ছিলাম। সে যে ওঠছে সেটা দেখিনি।’

এদিকে নিজ বিশ^বিদ্যালয়ের অধীন বাসের চাপায় সহপাঠী আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফোঁসে ওঠেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা একের পর এক স্ট্যাটাসে এই ঘটনার জন্য বাস প্রশাসনকে দায়ী করছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ‘বিআরটিসি ডিপো থেকে লক্কর-ঝক্করমার্কা, পুরনো ও ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য দেয়া হয়েছে। একইসাথে এসব গাড়ির চালকগুলো বেপরোয়া ও বেয়াদব। মাঝে মাঝেই তারা শিক্ষার্থীদের সাথে রূঢ় আচরণ করে। এসব ব্যাপারে প্রশাসন একেবারেই উদাসীন।’

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন কমিটির আহবায়ক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে তাকে ঢাকা পাঠিয়েছি। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহন যাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করে সে ব্যাপারেও কথা বলছি।’

চালকের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিআরটিসির দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। যারা বেপরোয়াভাবে বাস চালায় তাদের বিভিন্ন সময় শাস্তি দেয়া হয়। এই চালকেরও শাস্তি হবে।’

 

 

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/ মাহফুজ কিশোর/ এ আর