বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

কোটা সংস্কার দাবি: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক সাড়ে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ

রাবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-04-09 11:33:21

কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ পাঁচদফা দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

রাত সাড়ে ৮টায় আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করলে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়ে চলাচলকারী যাত্রীরা।

মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘পিতা তুমি ফিরে এসো, বৈষম্য দূর করো’ সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

অবরোধ স্থগিতের বিষয়ে রাবি শাখা কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ মুন্নাফ বলেন, ‘আমরা সারাদিন রাজশাহী শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ক্যাম্পেইন করেছি। সবাই খুব ক্লান্ত ছিলাম। এজন্য রাত সাড়ে ৮টায় এসে আমরা আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করেছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে আমরা আবারো কর্মসূচি শুরু করবো।’

এর আগে সন্ধ্যায় আন্দোলন চলাকালীন রাবি শাখা কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্মআহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম মুবিন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এ কর্মসূচি পালন করছি। আমরা চাই, সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবির কথা বিবেচনা করে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত জানাবেন।’

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। এই দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি। সংসদে কোটা সংস্কারের আলোচনা না ওঠা পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়বো না।’

এর আগে দুপুর দুইটায় এই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে এক গণপদযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে গ্রন্থাগারের পেছনে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে রাবি শাখা কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ মুন্নাফ বলেন, আজ যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থাকতেন, তাহলে আমাদেরকে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করতে হতো না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, তিনি যেন আমাদের আন্দোলনকে মেনে নিয়ে মেধার মূল্যায়ন করেন। কোটা ব্যবস্থা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি তাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তারা যেনো ক্যাম্পাসের ভিতরে এসে আন্দোলন করে। কিন্তু আমাকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে, কোনো ধরনের সহিংসতা তারা করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে।’

পুলিশ মোতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশকে আমি আলাদাভাবে কিছু বলিনি, পুলিশ নিজে থেকেই অবস্থান করছে।’

চলমান এ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলোÑ ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দেয়া, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার নয়, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা নয়, চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা।

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/ মাহফুজ মুন্না/ এ আর