শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাবি চারুকলার শিক্ষার্থীরা

মাহফুজ মুন্না, রাবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-04-12 21:38:32

বছর ঘুরে আবারো দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ মানেই পুরাতন বছরের জীর্নতা আর ক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে নতুন উদ্দমে আরেকটি নতুন বছরের সূচনা। ঐক্য আর সম্প্রীতির সেতুবন্ধনের অঙ্গিকার নিয়ে ক’দিন পরেই সারাদেশে উদযাপন হতে যাচ্ছে উৎসবটি। বৈশাখকে বরণ করতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা।

১৪ এপ্রিল শনিবার বাঙালির জীবনে আসছে পহেলা বৈশাখ ১৪২৫। প্রতিবছরের মতো এবারো বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে পিছিয়ে নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহী শহরের সবচেয়ে বড় উৎসবটি মতিহারের সবুজ চত্বরেই হয়ে থাকে। এছাড়া এ উৎসবকে বরণ করে নিয়ে নগরীর পদ্মার ধারে ভিড় করতে থাকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ হাতে নিয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন সব কর্মসূচি। বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরে বিভিন্ন সাঁজে সকালে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। পরে পান্তা-ইলিশ এ উৎসবে যোগ করে আরেক মাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিক অঙ্গণে প্রাণের এ উৎসবকে ঘিরে নাটক, কবিতা, সংগীত ও নৃত্যের জোর মহড়া চলছে গত কয়েকদিন থেকে। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন সংগঠন ও বিভাগগুলো তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নানা বৈচিত্রের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।

পহেলা বৈশাখের মূল আকর্ষণ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদকে ঘিরে। এ অনুষদকে নিয়েই শুরু হয় দিনের প্রথম কর্মসূচি। প্রতিবছরের মতো এবারও তিন দিনব্যাপী আয়োজন করেছে অনুষদটি। বর্ষবরণ আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি একটু দেরিতে শুরু হলেও সব কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. আমিরুল মোমেনীন চোধুরী। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অনুষ্ঠানগুলোও ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এএফএম মাসউদ আখতার বলেন, হারিয়ে যাওয়া আবহমান গ্রাম বাংলার সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রয়াসে আমরা প্রত্যেকবার নানা আয়োজন করি। এবারও শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ, পিঠেপুলির পাশাপাশি থাকবে বাংলা যাত্রা, প্রায় হারিয়ে যাওয়া পুঁথিপাঠ ও লোকগান।

বৈশাখের প্রস্তুতি সম্পর্কে চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, সকালে চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে। ইতোমধ্যে বর্ষবরণের জন্য ডামি, ঢোল, তবলা, একতারা, হরেক রঙের মুখ ও মুখোশ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

বাঙালির সার্বজনিন এ উৎসবটি পালনের প্রস্তুতি চলছে সর্বত্রই। রাজশাহী নগরীতেও বৈশাখের ছোঁয়া লেগেছে। নগরীর বিপণী বিতানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন বিপণী-বিতানগুলোতে বৈশাখ উপলক্ষে তাদের বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাঁজিয়েছে। অনেক দোকানি আবার বৈশাখ উপলক্ষে তাদের পণ্যে ছাড় দিয়েছে। কয়েকদিন আগে থেকেই দোকানগুলোতে ভীড় জমতেও শুরু করেছে।

পহেলা বৈশাখে নিজেকে স্বতন্ত্র এবং নতুনভাবে উপস্থাপন করতে ব্যাকুল হয়ে পড়েছে তরুণ-তরুণী, শিশুসহ ছেলে-বুড়ো সবাই। ঈদ ও পূজোর মতোই নতুন কাপড় কেনার ধুম পড়েছে দোকানগুলিতে। বাংলার ঐতিহ্য কুলা, ঢেঁকি, মাথল, ডুগি, তবলা, একতারা অংকন করা লালপেড়ে সাদাশাড়ী, ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও গামছা কিনতে নগরীর প্রধান প্রধান মার্কেটগুলিতে তরুণ-তরুণীদের যেন ঢল নেমেছে। মাঝ বয়সীরাও পিছিয়ে নেই বৈশাখী উৎসবের আয়োজন থেকে। তারাও কিনছেন সাধ্যমতো পোশাক-পরিচ্ছদ।

চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিরুল মোমেনীন চোধুরী বলেন, একটু দেরিতে হলেও বর্ষবরণের আয়োজন শুরু করতে পেরেছি। প্রতিবারের মতো এবারও চারুকলা প্রাঙ্গনে তিন দিনব্যাপী আয়োজন থাকছে। ডামি, মুখ ও মুখোশের কাজ শেষ হয়ে গেছে। শোভাযাত্রার প্রতীক কবতুর ও ষাঁড়ের ডামির কাজ চলছে কালকের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

প্রতীকের বিষয়ে তিনি বলেন, পায়রা হলো শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক। সারাবিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। কখনও শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমাদের আয়োজনের সে বিষয়টি কবুতরের মধ্য দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বাঙালির শান্তিপ্রিয়তার সংবাদ কবুতর সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেবে। এছাড়া কৃষিপ্রধান দেশের একটি অন্যতম বাহন ষাঁড়। একইসঙ্গে বিদ্রোহেরও প্রতীক। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশে হঠাৎ করেই গৃহপালিত পশুকে আমরা দূরে ঠেলে দিয়েছি। প্রযুক্তি ছাড়া আমরা এক পা চলতে পারছি না। ইতিহাসে দেখা যায়, কোন কিছুর দ্রুত উত্থান হলে তার পতনও দ্রুত হয়। প্রযুক্তি আমাদের গ্রহণ করতে হবে, তবে সেটা ধীরে ধীরে প্রয়োজন। কৃষি থেকে পশুকে বাদ দেওয়ার সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই আমাদের এ ‘বিদ্রোহ’। বর্ষবরণ আয়োজনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন থাকছে বাংলা যাত্রা ও গানের অনুষ্ঠান। আশা করছি তিন দিনব্যাপী আয়োজন সফল হবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এদিন যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশকে তৎপর থাকবে বলে জানান।

শান্তিপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এদিন বর্ষবরণের অনুষ্ঠানস্থান ছাড়াও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সেই সঙ্গে সাদা পোশাকে কাজ করবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়া যৌথভাবে টহল দেবে  র‌্যাব-পুলিশ।

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/ প্রতিনিধি/ এ আর