শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

রাবির চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা নিতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

মাহফুজ মুন্না | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-05-08 17:52:51

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া চিকিৎসকরা দায়িত্বে অবহেলা করছেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে কয়েকজন চিকিৎসকদের রুম বন্ধ পাওয়া যায়। এদিন ১২জন চিকিৎসকের চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও ৩ জনের চেম্বার তালাবদ্ধ দেখা যায়।

তালাবদ্ধ চেম্বারে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উপ-প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. এস এম আসজাদ হাসান, ডা. নাজিম উদ্দীনের নাম টাঙ্গানো রয়েছে।

চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষমান কয়েকজন রোগী বলেন, নির্ধারিত সময়ের পরে এসে এবং সময় শেষ হবার আগে চলে যেতে দেখা যায় চিকিৎসকদেরকে। কোনো কোনো চিকিৎসক ছুটি ছাড়াই চিকিৎসা কেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকেন বলে জানান তারা।

মুজাহিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমি রোববার ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিতিৎসা কেন্দ্রে চর্ম ও যৌন চিকিৎসকের সাথে দেখা করতে যাই। নোটিস বোর্ডে চর্ম ও যৌন বিভাগ ছাত্রদের জন্য সোয়া ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লেখা থাকলেও সেখানে চিকিৎসকের দেখা পাই নি। এছাড়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগ করে ভূক্তভোগী নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস রিপা বলেন, ‘আমি হঠাৎ জ্ঞান হাড়িয়ে ফেলি। বন্ধুরা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখানে কিছুক্ষণ পর আমার জ্ঞান ফিরে আসে। জ্ঞান ফিরলে আমি কোন ডাক্তারকে দেখতে পাইনা। অনেক্ষণ পর ডাক্তার এসে আমাকে দূর থেকে দেখেই বলল ‘রোগীর চিকিৎসা এখানে হবে না। রোগীকে বাসায় নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করালে রোগী ঠিক হয়ে যাবে।’ এই বলে ডাক্তার চলে যায়।

একই অভিযোগ করে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অন্য আর একজন ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী সিধু বলেন, ‘ক্লাসের ফাঁকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে বন্ধুরা আমাকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। রোগী দেখার নির্ধারিত সময়েও ডাক্তারের দেখা পাই নি। তারপর সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে এক ঘন্টা অতিবাহিত করে রুমে ফিরে আসি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানান, তারা যথাস্বাধ্য চিকিৎসা সেবা দিতে চেষ্টা করছেন।

তালাবদ্ধ রুমের চিকিৎসকদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সময়মতো তারা চিকিৎসা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। আর সকালে অফিসের মিটিংয়ের কারণে কিছুসময় তাদের রুম তালাবদ্ধ ছিল। এছাড়া অন্যের চেম্বারেও তারা রুগী দেখেছেন।

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/ প্রতিনিধি/ এ আর