বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

গতিরোধকহীন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক : মরণফাঁদে ইবি শিক্ষার্থীরা

অনি আতিকুর রহমান | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-07-06 21:19:25

প্রায় ৩মাস ধরে গতিরোধকহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক। ক্যাম্পাসস্থ রাস্তার পাশে যান চলাচলের গতি (২০কিঃমিঃ) নির্ধারণ করে দেয়া হলেও তা মানছেন না চালকরা। এতে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি গতিরোধক ছিল। সম্প্রতি রাস্তার সংস্কার কাজ আরম্ভ হলে গতিরোধকটি তুলে ফেলা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও তা এখন পর্যন্ত করা হয় নি।

 

এতে বিষয়টির ভয়াবহতা লক্ষ্য করে তখনই পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। তবে প্রায় ৩মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি।

এদিকে ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের জন্য সড়কটি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরে ইবি থানার এসআই আমিরুল ইসলাম মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান। এতে দ্রুতগতির এক বাসের চাঁপায় ঘটনাস্থলেই একটি ছাগল মারা যায়। এছাড়া মাঝে-মধ্যেই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের অল্পের জন্য মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ার কথাও জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের বাস কাউন্টারে দায়িত্বরত প্রত্যক্ষদর্শী হামিম আহমেদ।

দুর্ঘটনার শিকার আমিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আজ (শুক্রবার) আমি মোটরসাইকেল নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে উঠতেই মামুন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-১৪- ৬৫৯৯) একটি বাস দ্রুত গতিতে কুষ্টিয়া প্রান্ত থেকে ক্যাম্পাস গেট অতিক্রম করে। আমি আমার নিজের প্রান্ত বজায় রেখে যাচ্ছিলাম। এসময় রাস্তায় থাকা ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসে। আমি টের পেয়ে বাইকটি রাস্তা থেকে নিচে নামিয়ে দেই। ফলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। তিনি বলেন, `রাস্তায় গতিরোধক থাকলে হয়ত এমন সমস্যায় পড়তে হত না।'

রাকিব আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, `আমরা প্রয়োজনীয় কাজ কিংবা কেনাকাটা করতে সবসময়ই পার্শ্ববর্তী বাজার কিংবা প্রধান ফটকের দোকানগুলো যাতায়াত করি এতে সারাক্ষণ আমাদের রাস্তা পারাপার হতে হয়। কিন্তু এত ব্যস্ততম স্থানে কোন গতিরোধক নেই। ফলে, আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলেফেরা করি।'

 

জানা যায়, দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের এই ব্যস্ততম সড়কে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১১ হাজার যান চলাচল করে। আর ক্যাম্পাস এলাকায় চলাফেরা করেন প্রায় ১৫ সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। ফলে দিনরাত সমান ব্যস্ত এই মহাসড়কটিতে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই চলতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে এর দ্রুত সমাধান আশা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, 'আগে ওখানে গতিরোধক ছিল। রাস্তা সংস্কারের পর তা মিটে গেছে। আমি বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনব, যাতে দ্রুতই মেইন গেটের দুপাশে দুটি গতিরোধক দেয়া হয়।'

 

এবিষয়ে কুষ্টিয়ার সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, `হাইওয়ে রোডের ক্ষেত্রে স্পীডবেকারের কোন নির্দেশনা নেই। তবে যেহেতু ওখানে একটা স্পীডব্রেকার আগে থেকেই ছিল আমরা দ্রুতই সেটি করে দিব।'

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/ প্রতিনিধি/ এইচ আর