বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

রাবি প্রতিনিধি | আমারক্যাম্পাস২৪.কম

Published: 2018-07-07 19:38:32

সারাদেশে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল ছাত্রজোট। শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি জানান ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। দাবিগুলো হলো-

১. জাতীয় মিথ্যাচার থেকে বেড়িয়ে এসে সরকার শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবিকে মানবিক বিবেচনায় দেখবেন।

২.  অবিলম্বে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কোটা সংস্কার বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন।

৩. বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার করবেন।

৪. গ্রেফতারকৃত আন্দোলনকারীদেন আইনী অধিকার থেকে বঞ্চিত না করা হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৫. হামলায় আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন।

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রজোটের সমন্বয়ক সুমন মোড়ল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার চাইলেও প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনিসহ সরকারের কর্তব্যক্তিরা, বুদ্ধিজীবীরা বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চেয়েছে। এই ধরণের মন্তব্য আন্দোলনকে বিভক্ত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তাই কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয় না। এর মধ্যেই একটি বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। সামনে আসছে আরেকটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা তাই কোনো উপায় না দেখে আবার আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলন দমন করতে মাঠে নামে ছাত্রলীগ।’

রাবি উপাচার্যের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বানিয়ে দেন। তিনি জানিয়ে দেন, যারা সরকারে আছেন কেবল তারাই কথা বলার অধিকার রাখেন। বাদবাকি সকলকে তথাকথিত বিএনপি-জামাত-শিবির বলে সাধারনিকীকরণ করেন। নিপীড়কের পক্ষ নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাকে অপমান করে দেওয়া তার এমন বক্তব্য অগনতান্ত্রিক এবং সাধারণ শিষ্ঠাচার বহিঃর্ভূত, যা কেবল ফ্যাসিজমকেই উষ্কে দেয়।’ সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মনির হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এ.এম শাকিল হোসাইন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন প্রধান তারেক, ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য শাকিলা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

ঢাকা/ আমার ক্যাম্পাস/ মাহফুজ মুন্না/ এইচ আর