টাইম ম্যাগাজিন ২০২৬ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা


টাইম ম্যাগাজিন ২০২৬ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব স্থান পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ‘লিডারস’ (নেতৃত্ব) ক্যাটাগরিতে তারেক রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিন তার প্রোফাইলে উল্লেখ করেছে, কয়েক মাস আগেও দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। তবে ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় রূপান্তরিত হন। দীর্ঘ ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে দূরে থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বিপুল ভোটে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সেই অবস্থানে পৌঁছান।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এ জয়ের মাধ্যমে তিনি তাঁর মা খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করেন। খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকায় তারেক রহমানের ফিরে আসার পাঁচ দিনের মাথায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এছাড়া ম্যাগাজিনটি জানায়, জানুয়ারিতে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত শোককে তিনি দেশের ঐক্য জোরদার এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে নিয়োজিত করবেন।

মহাকাশ ও বিজ্ঞানের নতুন দিগন্তে রিড ওয়াইজম্যান ও টনি টাইসন

মহাকাশ গবেষণা ও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন রিড ওয়াইজম্যান এবং টনি টাইসন। ২০২৬ সালকে এ ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্টেমিস–২ মিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ৫৪ বছর পর মানুষকে চাঁদের কাছাকাছি নিয়ে যান রিড ওয়াইজম্যান। চার সদস্যের এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ওরিয়ন মহাকাশযানকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ মাইল দূর পর্যন্ত পরিচালনা করেন, যা মানব ইতিহাসে মানুষের অতিক্রান্ত সর্বোচ্চ দূরত্ব। তাঁর মতে, আর্টেমিস–২ ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসবাস ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

অন্যদিকে, মহাকাশ পর্যবেক্ষণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী টনি টাইসন। চিলির ভেরা সি রুবিন অবজারভেটরি-তে তাঁর তিন দশকের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেয়েছে। ৩ হাজার ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ব্যবহার করে তাঁরা মহাকাশের ১০ বছরের ‘টাইম-ল্যাপস’ প্রকল্প, এলএসএসটি, চালু করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি রাতে লাখ লাখ নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান মিলবে, যা কৃষ্ণগহ্বর ও ডার্ক ইউনিভার্স নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দেবে।

প্রযুক্তির শীর্ষে সুন্দর পিচাই ও নীল মোহান

প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্বের শীর্ষে রয়েছেন সুন্দর পিচাই। টাইম ম্যাগাজিন ২০২৬ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এই প্রযুক্তি নির্বাহী গত এক দশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলেছেন। ২০২৬ সালে তাঁর প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। চ্যাটজিপিটির উত্থানের পর তিনি দ্রুত গুগল ব্রেইন ও ডিপমাইন্ডকে একীভূত করে জেমিনি তৈরি করেন। তাঁর নেতৃত্বে গুগল সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি ন্যানো বানানা ও অ্যান্টিগ্র্যাভিটির মতো উদ্ভাবনী এআই পণ্য দিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এগিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও রাজনীতিতে পদার্পণ

একই ধারায় নীল মোহান ইউটিউবকে কেবল ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম থেকে টেলিভিশনের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০২৫ সালে ইউটিউব যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন সেটে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও প্রোভাইডার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। নীল মোহানের বিশেষ দক্ষতা হলো—একদিকে জটিল সফটওয়্যার প্রকৌশলে পারদর্শিতা, অন্যদিকে বিজ্ঞাপনদাতা ও কনটেন্ট নির্মাতাদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা। তাঁর নেতৃত্বেই ইউটিউব এখন বৈশ্বিক মিডিয়া জায়ান্টে পরিণত হয়েছে।

টেকসই কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান বিপ্লবের নায়ক মারিয়াঞ্জেলা হুংরিয়া, কিরণ মুসুনুরু ও রেবেকা আরেনস

টেকসই কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বৈপ্লবিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাইম ম্যাগাজিন ২০২৬ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মারিয়াঞ্জেলা হুংরিয়া, কিরণ মুসুনুরু এবং রেবেকা আরেনস-নিকলাস। ব্রাজিলের কৃষিবিজ্ঞানী মারিয়াঞ্জেলা হুংরিয়া কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে এমন এক অণুজীব উদ্ভাবন করেছেন, যা স্বাভাবিকভাবে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করতে সক্ষম। বর্তমানে ব্রাজিলের প্রায় ৮৫ শতাংশ সয়াবিন এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের বছরে আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে এবং ২৩০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন কিরণ মুসুনুরু ও রেবেকা আরেনস-নিকলাস। তাঁরা দেখিয়েছেন, ক্রিসপার জিন-এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাণঘাতী রোগ নিরাময় করা সম্ভব। ২০২৫ সালে তাঁরা ‘বেবি কেজে’ নামের এক শিশুর বিরল মেটাবলিক রোগ মাত্র ছয় মাসে ব্যক্তিগত জিন থেরাপির মাধ্যমে সফলভাবে নিরাময় করেন। তাঁদের এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে হাজারো অসুস্থ শিশুর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক জিনগত চিকিৎসার নতুন পথ তৈরি করেছে।

এআই বিপ্লবের নেপথ্য কারিগর সি সি ওয়ে ও লিপ বু তান

এআই বিপ্লবের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের মধ্যেও রয়েছেন সি সি ওয়ে ও লিপ বু তান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি-এর নেতৃত্বে থাকা সি সি ওয়ে গত দুই দশকে চিপ উৎপাদনশিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আজকের স্মার্টফোন থেকে সুপারকম্পিউটার—সব প্রযুক্তির পেছনেই এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে টিএসএমসি একটি সাধারণ চিপ নির্মাতা থেকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ইন্টেল-এর নেতৃত্বে লিপ বু তানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনও বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সাল তাঁর জন্য ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা এক রোলারকোস্টার সময়। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ওয়াল্ডেন ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত লিপ বু তান ইন্টেলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।

সূত্র: টাইম