২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের ইঙ্গিত


আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ছিল আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে আয়োজন করার। তবে ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ড. এহছানুল হক মিলন জানান, শুরুতে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রমজান এক মাস এগিয়ে ফেব্রুয়ারিতে চলে আসায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রোজার আগেও পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসএসসি পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের কারণ

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এখনও অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

আরও পড়ুন: এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৬ জুন পর্যন্ত

তিনি জানান, প্রথমে রমজানের আগেই পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী রুটিনও প্রস্তুত করা হয়। তবে বর্তমানে বিভিন্ন মহল থেকে রমজানের পর পরীক্ষা শেষ করার পক্ষে মতামত আসছে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জনমত ও স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করা হবে। শিক্ষা একটি সামষ্টিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ রয়েছে এ খাতে। তাই সবার মতামত বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এসএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এবং এতে পূর্ণ সিলেবাস সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। রমজানের কারণে পরীক্ষার সময়সূচি কিছুটা এগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় এলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, সিলেবাস সম্পন্ন করার অবস্থা এবং সামগ্রিক বাস্তবতা মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগে অনেকেই রমজানের আগেই পরীক্ষা শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত ও রুটিন প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে এখন ভিন্ন মতামত সামনে আসছে। এ কারণে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।